মুসলমানরা তাদের সন্তাদের কি শেখাচ্ছে, কি শেখানো উচিত? (১)
, ০৭ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৩ সাদিস, ১৩৯২ শামসী সন , ১০ নভেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২৫ কার্তিক, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) আপনাদের মতামত
খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা সকলে আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হয়ে যাও”। এই সম্মানিত আয়াত শরীফ অনুসারে প্রত্যেক পুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে, ছোট-বড় সকলের জন্যেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়াটা ফরয। সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে একটি শিশু বোঝার বয়সে উপনীত হলেই তাকে দ্বীনী তালিম দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কেননা শৈশবকালীন দ্বীনী তালিম একটি শিশুর জন্য আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়ার ক্ষেত্রে পাথেয় হিসেবে কাজ করে। সেই হিসেবে প্রত্যেক পিতা-মাতারই উচিত একটি শিশু জন্মগ্রহণ করলেই তাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আলোকে গড়ে তোলা।
কিন্তু আজসুসের বিষয়, এখন পিতা-মাতারা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে শেখায়, বাবা! বড় হয়ে তোমাকে ডাক্তার হতে হবে, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, জজ-ব্যরিষ্টার, মন্ত্রী-মিনিস্টার হতে হবে। কিন্তু একজন পিতা-মাতাকেও বলতে শোনা যায় না, বাবা! বড় হয়ে তোমাকে জগৎবিখ্যাত ওলীআল্লাহ হতে হবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনী মুবারক উনার উপর গবেষক হতে হবে, সম্মানিত কুরআন শরীফ, সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের গবেষক হতে হবে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বোল-বালা, প্রচারে নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে।
এখন অনেকেই প্রশ্ন করবেন, তাহলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ-ব্যারিষ্টার হওয়া কি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সাথে সাংঘর্ষিক। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, চিকিৎসা করানো খাছ সুন্নত-সুতরাং ডাক্তার লাগবে, বাড়ি-ঘর রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করতে হবে সেজন্য ইঞ্জিনিয়ার দরকার, কাফির-মুশরিক মুনাফিকগুলি যদি আইনকে অপব্যবহার করে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে সেটাকে আইনের মাধ্যমে প্রতিহত করতে জজ-ব্যারিষ্টার প্রয়োজন। অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে বোল-বালা করতে যা যা প্রয়োজন তা সবই শিখতে হবে-জানতে হবে। তবে সর্বাগ্রে যে বিষয়টা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে তাকে প্রথমেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়ার তালিম দিতে হবে। এরপর ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ-ব্যারিষ্টার যাই হোক তাতে কোন সমস্যা নেই, বরং কিছু লোককে সেটা হতেই হবে। তবে সমস্যাটা হচ্ছে, এখন মুসলমানদের আক্বীদা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা মনে করে ছেলে-মেয়েকে সম্মানিত ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করলে তারা খাওয়া-পরা পাবে না। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার উপর কারোও কোন হক্ব নেই, তবে মহান আল্লাহ পাক উনার হক্ব হচ্ছেন মুমিন বান্দা-বান্দী উনাদের সাহায্য করা”।
এছাড়া হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- হে আমার বান্দা! আমার ইবাদতের জন্য কিছু সময় নির্ধারণ করে নাও, তাহলে আমি তোমার অন্তরকে বেনিয়াজ (অমুখাপেক্ষী) করে দিবো। তোমার হাতকে রিযিক দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিবো।
-মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ২টি শ্রেণীকে আগে শুদ্ধ হতে হবে
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মসজিদে সিসি ক্যামেরা!! উলামায়ে ছু’দের বদ আমলই কি এর জন্য দায়ী নয়?
০৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র শবে মিরাজের ছুটি বাধ্যতামূলক করা হোক
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার ছহীহ তাফসীর (৩)
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু কাফির-মুশরিকরা (৩)
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমানদের উচিত- হাদীছ শরীফ অনুযায়ী সপ্তাহের বারসমূহ উচ্চারণ করা
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান মাসের পূর্বে বাজার উর্ধ্বমুখী কেনো? এর দায় কার?
১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলামায়ে ছু’ থেকে সাবধান!
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ: সময়ের দাবি
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খ্রিস্টানদের অনুষ্ঠানকে ‘বড়দিন’ বলা যাবে না
০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
স্বাধীন আরাকান চাই!
২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশের সার্বভৌমত্বের সংকটে- দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসতেই হবে
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












