ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৪)
, ১৫ জুমাদাল উলা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০১ সাবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ৩০ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(১৬) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা তিনি কোন কাজের জন্য মুরীদকে ত্বলব করলে যথাসময়ে উনার ডাকে সাড়া দিবে এবং কাজ শেষ করতঃ পুনরায় অনুমতি বা নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত উনার ছোহবত মুবারক থেকে প্রস্থান করবে না। অপর কোন বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে উনার আহবানে সাড়া না দেয়া এবং বিনা অনুমতিতে উনার দরবার শরীফ হতে বিদায় হওয়া মুরীদের জন্যে উচিত নয়।
কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذًا
অর্থ: “তোমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করে থাকো সেভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খ¦াতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করো না। মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই সমস্ত লোকদের সম্পর্কে জানেন যারা তোমাদের মধ্যে গোপনে সরে পড়ে। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ- ৬৩)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ
অর্থ: “তারাই প্রকৃত মু’মিন, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখে এবং কোন সম্মিলিত কাজে যখন তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারকে একত্রিত হয় তখন উনার অনুমতি মুবারক ব্যতীত চলে যায় না।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ৬২)
তাফসীর কারকগণ এ ব্যাপারে একমত যে, উক্ত আয়াত শরীফের হুকুম কেবলমাত্র সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্যই সীমাবদ্ধ নয় বরং সকল ইমাম মুজতাহিদ আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাসহ হক্কানী-রব্বানী আলিম ও উলিল আমরগণ উনারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাক্বীক্বী ওয়ারিছ হওয়ার কারণে উনাদের প্রতিও এই আয়াতে শরীফের হুকুম প্রযোজ্য। কাজেই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা তিনি যদি প্রয়োজনে মুরীদদেরকে একত্রিত হওয়ার জন্য আদেশ দেন তাহলে তা পালন করা তাদের জন্য ওয়াজিব এবং উনার বিনা অনুমতিতে প্রস্থান করা নাজায়িয ও হারাম। কারণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবর্তমানে উনারাই হচ্ছেন উনার নায়িব বা প্রতিনিধি, দ্বীনের ধারক বাহক, হিদায়েতের আলোক বর্তিকা। (তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে বয়ানুল কুরআন ও তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ইত্যাদি)
স্মর্তব্য যে, উল্লেখিত আয়াত শরীফে যারা মাল-জান দিয়ে সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহবানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে উনার ডাক মুবারকে সাড়া দেয় এবং উনার অনুমতি ব্যতীত মজলিস ত্যাগ না করে উনাদেরকেই প্রকৃত মু’মিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজেই যারা বিভিন্ন অজুহাতে নানান আপত্তি প্রদর্শন করে মুর্শিদ ক্বিবলা উনার আহবানে সাড়া না দেয় অথবা একান্ত লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে উপস্থিত হলেও অনুমতি ব্যতীত উনার ছোহবত মুবারক ত্যাগ করে, চুপিসারে চলে যায়, প্রকৃতপক্ষে তারা ঈমানদার নয় বরং মুনাফিক। কামিল শায়েখ উনার আহবানে সাড়া দেয় না বা সাড়া দিলেও অনুমতি ব্যতীতই উনার ছোহবত ত্যাগ করতঃ চলে যায় তারা হাক্বীক্বী মুরীদ নয়।
উল্লেখ্য যে, মুর্শিদ ক্বিবলা উনার আহবানে সাড়া দেয়ার পর যদি বিশেষ প্রয়োজন হয় তাহলে উনার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করবে। যেমনি ভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অনুমতি প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ أُولَئِكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأْذَنْ لِمَنْ شِئْتَ مِنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ
অর্থ: “(আমার সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) যারা আপনার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন, উনারাই মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন। অতএব উনারা আপনার কাছে উনাদের কোন কাজের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলে আপনি উনাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি প্রদান করুন এবং উনাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও অতিশয় মেহেরবান। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ৬২) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












