মিসওয়াক করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক
, ১১ জুমাদাল উলা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৮ সাদিস ১৩৯১ শামসী সন , ২৬ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ১০ অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মিসওয়াক হিসেবে আরাক বা পিলু ও যয়তুন গাছের ডাল এবং শিকড় ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ মিসওয়াকের জন্য খাছ সুন্নত মুবারক হলো আরাক বা পিলু ও যয়তুন গাছের ডাল ও শিকড় ব্যবহার করা। এছাড়াও তিনি তিক্ত জাতীয় গাছের ডালও ব্যবহার মুবারক করেছেন, যেমন- নিম, ভাইট ইত্যাদি। আর মিসওয়াকের ডালাটি নরম ও গিরাহীন হওয়া মুস্তাহাব। যদি গিরাহীন পাওয়া না যায় তাহলে কোন অসুবিধা নেই। ডালিম, বাঁশ, রায়হান ও চামেলী ইত্যাদি যে সমস্ত গাছের দ্বারা দাঁতের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা দ্বারা মিসওয়াক করা মাকরূহের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া যে সমস্ত ফলবান গাছ রয়েছে যা দ্বারা মানুষ ফায়দা হাছিল করে যেমন আম, পেয়ারা ইত্যাদি গাছের ডাল দ্বারা মিসওয়াক না করাই উত্তম। যদি পিলু, যয়তুন ও তিক্ত জাতীয় গাছের ডাল না পাওয়া যায় তাহলে এমন গাছের ডাল দ্বারা মিসওয়াক করা যাবে; যা ফলবান নয় এবং দাঁতেরও ক্ষতি করেনা।
উল্লেখ্য যে, যদি মিসওয়াক না পাওয়া যায় তাহলে শাহাদাত অঙ্গুলী দ্বারা অথবা কাপড় দ্বারা মিসওয়াক করা জায়িয রয়েছে। এতেও মিসওয়াকের ছওয়াব পাওয়া যাবে। অঙ্গুলী দ্বারা মিসওয়াক করার ক্ষেত্রে সবসময় ডান হাতের শাহাদাত বা তর্জনী অঙ্গুলী ব্যবহার করতে হবে।
মিসওয়াক প্রত্যেক মিসওয়াককারীর কণিষ্ঠ অঙ্গুলির ন্যায় মোটা হওয়া ও তার হাতের আধ হাত বা এক বিঘৎ পরিমাণ সর্বোচ্চ এবং যে পরিমাণ দৈর্ঘ্য থাকলে সুন্নতী তারতীবে ধরা যায় সর্বনিম্ন সে পরিমাণ লম্বা হওয়া মুস্তাহাব।
মিসওয়াক করার সময় মিসওয়াককারী মিসওয়াক এমনভাবে ধরবে যেন মিসওয়াককারীর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী মিসওয়াকের নীচ দিয়ে প্রায় পেট বরাবর থাকে। আর কনিষ্ঠা অঙ্গুলী দ্বারা মিসওয়াকের নীচে পিছনের দিকে ধরবে। আর তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা এ তিন অঙ্গুলী দ্বারা মিসওয়াকের উপরিভাগে ধরবে। (মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া)
এভাবে মিসওয়াক করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। মিসওয়াক মুঠ করে ধরা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ। এতে অর্শ্ব রোগ হতে পারে।
শুরুর দোয়া: স্মর্তব্য যে, ‘দিরায়া’ কিতাবের বরাত দিয়ে ‘বিনায়া’ কিতাবে মিসওয়াক করার সময় নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করার কথা বলা হয়েছে-
اَللّهُمَّ طَهِّرْ فَمِىْ وَنَوِّرْ قَلْبِـىْ وَطَهِّرْ بَدَنِـىْ وَحَرِّمْ جَسَدِىْ عَلَى النَّارِ.
অর্থ : “আয় মহান আল্লাহ পাক! আমার মুখ পবিত্র করে দিন, আমার অন্তরকে নূরময় করে দিন এবং আমার শরীর পবিত্র করে দিন এবং আমার শরীরের জন্য জাহান্নামের আগুনকে হারাম করে দিন।”
মিসওয়াক করার পদ্ধতি:
মিসওয়াক করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক ধাপ পদ্ধতি
১ম ধাপ উপরের মাড়ির ডান দিকের দাঁতগুলো মিসওয়াক করা
২য় ধাপ উপরের মাড়ির বামদিকের দাঁতগুলো মিসওয়াক করা
৩য় ধাপ নীচের মাড়ির ডানদিকের দাঁতগুলো মিসওয়াক করা
৪র্থ ধাপ নীচের মাড়ির বামদিকের দাঁতগুলো মিসওয়াক করা
৫ম ধাপ অনুরূপভাবে ভিতরের অংশের দাঁতগুলো মিসওয়াক করা
এভাবে তিনবার মিসওয়াক করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। প্রত্যেক বার মিসওয়াকের পরে মিসওয়াক ধুয়ে নেয়াও মুস্তাহাব। (বায়হাক্বী শরীফ) মিসওয়াক করার সময় মুখের লম্বালম্বিভাবে মিসওয়াক করা। আর মিসওয়াক করার সময় বসে বসে মিসওয়াক করা হলো খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সম্ভব হলে ক্বিবলামূখী হয়ে বসা। দাঁতের লম্বালম্বি মিসওয়াক করাও মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক তবে শর্ত হচ্ছে যে, উপরে এবং নীচে জোরে চাপ না দেয়া। এছাড়া জিহ¡ার অগ্রভাগ থেকে গোড়ার দিকে মিসওয়াক করাও মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পূর্ববর্তী সকল হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বোচ্চ তা’যীম-তাকরীম ও মুহব্বতের সহিত পালন করেছেন
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা খাছ সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (২)
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা খাছ সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১)
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুম উনাদের পবিত্র সুন্নত মুবারক (২)
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল অবদান মুবারক “আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্র”
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুম উনাদের পবিত্র সুন্নত মুবারক (১)
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৬)
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (৫)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (৪)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (৩)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (২)
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (১)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












