মাথায় পাগড়ীর উপর রুমাল ব্যবহার করা এবং পাগড়ী ছাড়াও রুমাল পরিধান করা উভয়টাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
, ০২ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৫ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ২৯ মাঘ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
قَالَتْ حَضْرَتْ اُمّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَة الصِّدِّيْقَة عَلَيْهَا السَّلَامُ فَبَيْنَا نَحْنُ يَوْمًا جُلُوسٌ فِي بَيْتِنَا فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ فَقَالَ قَائِلٌ لحضرت صديق اكبر عليه السلام هَذَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُقْبِلاً مُتَقَنِّعًا.
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একদিন দ্বিপ্রহরের সময় আমরা আমাদের মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হুযরা শরীফে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “ঐ যে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (সম্মানিত পাগড়ী মুবারক উনার উপর) সম্মানিত রুমাল মুবারক পরিধান করে মহাসম্মানিত নূরুল হুদা মুবারক (মহাসম্মানিত মাথা মুবারক) আবৃত করে আগমণ মুবারক করছেন।” (বুখারী শরীফ ২/৮৬৪, আহমদ, আবূ দাউদ শরীফ ৫৬৪, ফতহুল বারী ১০/২৭৪, উমদাতুল কারী ২১/৩০৯)
উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে مُتَقَنِّعًا শব্দটি تقنع শব্দ থেকে এসেছে। আর تقنع শব্দের অর্থ হল,
وضع شئ زائد على الرأس فوق العمامة -
অর্থাৎ, (মাথায় পাগড়ীর উপর অতিরিক্ত একটি) কাপড় (রুমাল) পরিধান করা। (ফতহুল বারী ১০/২৭৪, উমদাতুল কারী ২১/৩০৯, মাসিক আল-বাইয়্যিনাত শরীফ, ৯১/৩৭)
এছাড়াও মাথায় রুমাল পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক এব্যাপারে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফে অসংখ্য দলীল পেশ করা হয়েছে।
বর্তমানে দেখা যায় অনেকে লাল রুমাল পরিধান করে থাকে। লাল রুমাল পরিধান করা যাবেনা। কেননা, লাল রং- এর রুমাল পুরুষের জন্য ব্যবহার করা হারাম।
সাদা রুমাল ব্যবহার করার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করার মাধ্যমে অসংখ্য ফযীলত লাভ করা যায়।
যেমন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ عن النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال مَنْ تَمَسَّكَ بِسُنَّتِي عِنْدَ فَسَادِ أُمَّتِي فَلَهُ أَجْرِ مِائَةُ شَهِيدٍ
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ফিতনার যামানায় আমার একখানা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবেন, উনার জন্য ১০০ শহীদ উনাদের ছওয়াব রয়েছে।” (মিশকাত শরীফ)
অর্থাৎ যারা রুমাল ব্যবহার করবেন উনারাও কমপক্ষে ১০০ শহীদ উনাদের সমপরিমাণ ছওয়াব লাভ করবেন।
কাজেই, আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো বেশি বেশি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করা।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












