জীবনী মুবারক
বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪)
বিলাদত শরীফ: ২২ হিজরী। বিছাল শরীফ: ১১০ হিজরী। বয়স মুবারক: ৮৮ বছর
, ১৮ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৩ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ০১ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ১৭ পৌষ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
একবার কোন বিশেষ কারণে হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি এক নির্দেশ জারি করেছিলেন যে, সমস্ত মিম্বর যেন ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং বক্তাদেরকে আবোল তাবোল ওয়াজ করতে যেন নিষেধ করা হয়। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি একদিন ছদ্মবেশে হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মজলিসে গমন করেন। হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তখন ওয়াজ করছিলেন। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রশ্ন করলেন, আপনি কি আলিম, না মুতাআল্লিম? (অর্থাৎ আপনি কি বিদ্বান না বিদ্বার্থী)। হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমি আলিম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে যেসব পবিত্র হাদীছ শরীফ আমার নিকট এসে পৌঁছেছে, আমি সেগুলো পূণঃ পূণঃ আওড়াচ্ছি মাত্র। এ কথা শুনে হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আর উনাকে নিষেধ করলেন না। বরং তিনি বললেন, এ যুবক সৎ ও সুবক্তা। হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে এই মন্তব্য করে হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি চলে গেলেন। হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি পরে যখন জানতে পারলেন যে, ইনিই হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তখন তিনি দ্রুত মিম্বর থেকে নেমে উনার খোঁজে বের হয়ে অনেক দূরে গিয়ে উনাকে পেলেন এবং সবিনয়ে আরজ করলেন, হুযূর! মহান আল্লাহ পাক উনার ওয়াস্তে আমাকে ওযূ শিক্ষা দিন। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বাব নামক স্থানে বসে একটি পাত্রে পানি আনার জন্য আদেশ দিলেন। পানি নিয়ে আসা হলে তিনি হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ওযূর নিয়ম শিখিয়ে দেন। (তাযকিরাতুল আওলিয়া)
হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন চিন্তায় মশগুল থাকতেন তখন উনাকে জল্লাদের সম্মুখে উপস্থিত অপরাধী বলে মনে হতো। উনাকে কেউ কখনও হাসতে দেখেনি। (তাযকিরাতুল আওলিয়া)
হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, মু’মিনের সকাল হয় চিন্তান্বিত অবস্থায় এবং সন্ধ্যা হয় চিন্তান্বিত অবস্থায়, এতদ্ব্যতীত তার অন্য কোন অবস্থা নেই। কারণ সে দু’টি ভয়ের মধ্যে থাকে- একটি হচ্ছে, যে পাপসমূহ সে করেছে, সে জানে না মহান আল্লাহ পাক সেই ব্যাপারে কি ফায়ছালা করেন, দ্বিতীয়টি হচ্ছে, তার তকদীরে যা কিছু বাকী রয়েছে, সে জানে না তার জন্য ধ্বংসকারী কি কি বস্তু রয়েছে। (হিলইয়াতুল আওলিয়া)
একদিন হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এক ব্যক্তিকে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কাঁদছ কেন? লোকটি বলল, আমি হযরত মুহম্মদ ইবনে কা’ব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মজলিসে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন, মু’মিনদের মধ্যেও কোন কোন ব্যক্তিকে কয়েক বছর জাহান্নামের আযাব ভোগ করতে হবে। এ কথা শুনে মনে বড় দুঃখ হওয়ায় আমি কাঁদছি। হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, হায়! যদি হাসান বছরী তাদের মধ্যে একজন হতো, এবং কয়েক হাজার বছর জাহান্নামের যন্ত্রণা ভোগ করেও উদ্ধার পেত, তাহলে কতই না উত্তম হতো। (তাযকিরাতুল আওলিয়া)
তিনি একদিন একাকী ঘরে বসে কাঁদতে থাকলে লোকজন এসে জিজ্ঞেস করল, কাঁদছেন কেন? তিনি উত্তরে বললেন, যদি অজ্ঞতার দরুণ এমন কোন কাজ কখনও করে থাকি, যা প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে অপ্রিয় এবং কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি সে অপরাধের দরুণ আমাকে যদি বলেন, যাও, আমার দরবারে তোমার কোন স্থান নেই এবং তোমার কোন ইবাদতই আমার নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। তখন আমার কি অবস্থা হবে, তা ভেবেই কাঁদছি। (তাযকিরাতুল আওলিয়া)
একদিন তিনি এক জানাযার নামাযে উপস্থিত হয়ে নামায শেষে লাশ দাফন করে মৃত ব্যক্তির কবরের শিয়রে বসে কাঁদতে লাগলেন। উনার চোখের পানিতে কবরের মাটি ভিজে কর্দমাক্ত হয়ে গেল। উপস্থিত সকলকে সম্বোধন করে তিনি বললেন, বন্ধুগণ! এ কবর দুনিয়ার শেষ গৃহ এবং পরকালের প্রথম গৃহ বলে মনে করো। এ অসার পৃথিবীতে কেন তোমরা আনন্দে মত্ত থাকো এবং কেনইবা মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে ভীত হও না? এটাই এই পৃথিবীর প্রথম ও শেষ পরিণতি। তাহলে কেন উৎসব আনন্দ পরিত্যাগ করছ না? হে অলস লোক সকল! তোমরা সবাই প্রথম ও শেষ কাজের সন্ধান করো। লোকজন উনার এই কথাগুলি শুনে কাঁদতে কাঁদতে বেহুঁশ হয়ে পড়েন। (তাযকিরাতুল আওলিয়া)
হযরত হাওশাব রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলতে শুনেছি, হে আদম সন্তান! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যদি তুমি পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করার মত পাঠ করতে, অতঃপর এর উপর বিশ্বাস করতে, তাহলে দুনিয়াতে তোমার চিন্তা ও ভয় দীর্ঘস্থায়ী হতো এবং তৎসঙ্গে ক্রন্দনও বৃদ্ধি পেত। (হিলইয়াতুল আওলিয়া) (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












