জীবনী মুবারক
বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত আমির বিন আবদিল্লাহ বিন আবদিল ক্বায়েস আল-আনবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮)
বিলাদত শরীফ: তারিখ উল্লেখ নেই। বিছাল শরীফ: হিজরী ৬০ সনের পূর্বে।
, ১৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৩ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ২২ মে, ২০২৪ খ্রি:, ০৮ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
অন্যান্য ঘটনা:
হযরত হুসাইন বিন আবিল হুর আল-আনবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, একবার আমি সিরিয়া গেলাম। সেখানে আমি হযরত আমির বিন আবদিল ক্বায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম। লোকেরা বলল, তিনি এখানে এক বৃদ্ধা মহিলার আশ্রয়ে জীবন যাপন করেন। অতঃপর আমি উক্ত বৃদ্ধা মহিলার নিকট গিয়ে উনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। সেই বৃদ্ধা মহিলা বললেন, তিনি ঐ পাহাড়ের পাদ-দেশে রাত্র-দিন নামায পড়েন। যদি উনার সাথে সাক্ষাত করতে ইচ্ছা হয়, তবে সন্ধ্যায় ইফতারের সময় আসবেন।
বর্ণনাকারী হযরত হুসাইন বিন আবিল হুর আল-আনবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, অতঃপর আমি ইফতারের সময় আসলাম। সেই বৃদ্ধা মহিলা তিনি আমাকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যার সঙ্গে গতকাল আমার একটি অঙ্গীকার হয়েছে। বৃদ্ধা মহিলা উনার কওম (বনু আনবার গোত্র) -এর কে জীবিত আছে, কে মারা গেছে, এ সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞাসা করলেন না। আর (মেহমান হিসাবে) আমাকে রাত্রে আহারের জন্য কিছুই বললেন না। অতঃপর আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি আপনার অবস্থা দেখে আশ্চর্য হয়েছি। মহিলাটি বললেন, উহা কি? আমি বললাম, আপনি এত দিন পূর্ব থেকে আমাদের নিকট থেকে পৃথক হয়েছেন। আপনি আমাকে (শুধু) একজন লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যার সাথে গতকাল আমার অঙ্গীকার হয়েছে। তিনি বললেন, আমি তো আপনাকে একজন নেককার লোক দেখছি, ইহা ব্যতীত আপনাকে আমি আর কি জিজ্ঞাসা করতে পারি? আমি বললাম, আপনি আপনার কওম-এর কে জীবিত আছে, কে মারা গেছে, কিছুই জিজ্ঞাসা করলেন না, অথচ তাদের মধ্যে আমার অবস্থান কি তা আপনি ভাল করে জানেন। বৃদ্ধা মহিলা তিনি উত্তর দিলেন, আমি কেন জিজ্ঞাসা করবো, কে মারা গেছে, আর কে বেঁচে আছে? যে মারা গেছে, সে তো মারা গেছে। আর যে মারা যায়নি, সেও তো অচিরেই মারা যাবে। আমি বললাম, আপনি (মেহমান হিসাবে) রাতে খাওয়ার জন্য আমাকে কিছুই বললেন না। তিনি বললেন, আমি জানতাম, আপনি আমীরদের খাবার খান, আর আমার খাওয়া হচ্ছে সাধাসিধা শুকনা খাবার খাওয়া।
বর্ণিত আছে যে, একবার হযরত আমির রহমতুল্লাহি আলাইহি জিহাদে গমন করেন। উনার সাথে মুসলমানগণ এক স্থানে অবতরণ করেন। কিন্তু হযরত আমির রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাদের থেকে পৃথক হয়ে একটি গীর্জায় চলে গেলেন। একজন লোককে বললেন, গীর্জার দ্বারে তুমি পাহারা দিবে, যেন কেউ আমার এখানে আসতে না পারে। এক সময়ে দ্বাররক্ষী লোকটি উনার নিকট এসে বলল, (সেনাবাহিনী) প্রধান আপনার এখানে আসার জন্য অনুমতি চাচ্ছেন। হযরত আমির বিন আবদিল ক্বায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, উনাকে আসতে অনুমতি দাও। সেনাপ্রধান প্রবেশ করলেন এবং হযরত আমির বিন আবদিল ক্বায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকটবর্তী হলে তিনি বললেন, আমি আপনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম স্মরণ করিয়ে উনার নামে কসম দিচ্ছি, আপনি যেন আমাকে দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট না করেন এবং আখিরাতের প্রতি আমার অনীহা সৃষ্টি না করেন। (তবাকাত)
বর্ণিত আছে যে, হযরত আমির বিন আবদিল ক্বায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কোন এক জিহাদে সেনাবাহিনীতে ছিলেন। মুসলমান সৈন্যদের হাতে শত্রু বাহিনীর এক বড় গোত্র প্রধানের মেয়েকে বন্দী করা হয়। লোকেরা হযরত আমির বিন আবদিল ক্বায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট সেই বন্দী মেয়েটি সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি উনার সঙ্গীদেরকে বললেন, আমি পুরুষদের মধ্যে একজন পুরুষ, এই বন্দী মেয়েটিকে আমাকে দান করো। যেহেতু বিবাহ-শাদীর ব্যাপারে উনার অনীহা ছিল, লোকেরা মনে করল, এখন হয়ত উনার বিবাহের ইচ্ছা হয়েছে, এই ভেবে তারা খুশি হলো এবং বন্দী মেয়েটিকে নিয়ে উনার নিকট উপস্থিত করল। উনার সম্মুখে আসলেই উক্ত বন্দী মেয়েটিকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন, তুমি চলে যাও, মহান আল্লাহ পাক উনার ওয়াস্তে তুমি মুক্ত ও স্বাধীনা মেয়েলোক। লোকেরা বলল, হে আমির! আপনি যদি তাকে মুক্ত করে দিতে চাইতেন, তবে একটা নিয়ম পদ্ধতির মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা হতো। তিনি বললেন, আমি আমার রব তায়ালা উনার নিকট হিসাব দিবো। অর্থাৎ আপনারা তাকে আমাকে দান করেছেন, আমি এখন তাকে মুক্ত করে দিয়েছি। এতে আপনাদের কোন কিছু বলার নেই। মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আমি হিসাব দিবো। (তবাকাত)
বিছাল শরীফ:
বর্ণিত আছে যে, যখন হযরত আমির বিন আবদিল ক্বায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিছাল শরীফের সময় ঘনিয়ে আসল, তিনি কান্নাকাটি করলেন। উনাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কান্নাকাটি করছেন কেন? তিনি বললেন, আমি মৃত্যুর ভয়ে ক্রন্দন করছি না, অথবা দুনিয়ার লোভেও ক্রন্দন করছি না, আমি ক্রন্দন করছি দিনের তৃষ্ণা ও রাত্রিতে দ-ায়মান থাকা থেকে অব্যাহতির কারণে অর্থাৎ দিনে রোযা এবং রাত্রে জাগ্রত থেকে ইবাদত করা থেকে মাহরূম হওয়ার কারণে ক্রন্দন করছি। (তবাকাত)
হযরত আমির বিন আবদিল ক্বায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কোন সনে বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তবে বর্ণিত আছে যে, তিনি হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিলাফতকালে বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ৪১ হিজরী থেকে ৬০ হিজরী পর্যন্ত খিলাফত পরিচালনা করেছেন। এবং হিজরী ৬০ সনে তিনি বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। সুতরাং, বুঝা যায় হিজরী ৬০ সনের পূর্বে কোন এক সনে হযরত আমির বিন আবদিল ক্বায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন।
হযরত আত্বা খুরাসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উনার মাযার শরীফ বায়তুল মুকাদ্দাসে অবস্থিত (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
সূত্রসমূহ: সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, হিলইয়াতুল আওলিয়া, তবাকাত। (সমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












