বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিদেশী কোম্পানিকে সহযোগীতা করবে সরকার।
সারাদেশে প্রতিদিন উৎপাদিত ২০ হাজার টন বর্জ্য দিয়ে ৫০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সরকারের উচিত বিদেশীদের নয় স্বদেশীয় সক্ষমতায় বর্জ্য সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো।
, ১৯ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ১৩ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন , ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ২৮ই মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
সম্প্রতি প্রকাশিত এক খবরে জানা গেছে, কেউ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাইলে তাকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী। একনেকে সভায় এ সহযোগিতার আশ্বাস দেয় প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছে, বর্জ্য নিয়ে আমাদের সবার মাথাব্যথা এই মুহূর্তে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তিত প্রধানমন্ত্রী। সরকারও চিন্তিত এটা নিয়ে। (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে) নানা ধরনের প্রস্তাব আসছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছিলো ‘রাজধানীতে প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদিত হয়, তার অর্ধেক দিয়ে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বিদেশি কোনো কোনো কোম্পানি আসতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেছে, আসুক। আমরা সহযোগিতা করব। যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে এবং এটা আমাদের পরিবেশ ও চাহিদার সঙ্গে মিলেমিশে হয়, আমরা সহযোগিতা করব।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার বিদেশীদের দিয়ে দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। অথচ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশীয় কোম্পানি দিয়েই তা করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মহাপরিকল্পনা করছে সরকার। কিন্তু বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। ত্রুটিপূর্ণ মহাপরিকল্পনা নিয়ে বস্তাবায়ন হলে বিপাকে পড়বে দেশের বিদ্যুৎ খাত। কারণ এতে দেখা গেছে, ২০৪০ সাল নাগাদ শতভাগ আমদানি নির্ভর হয়ে উঠবে দেশের জ্বালানি খাত। ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের জ্বালানিতে বিদেশি নির্ভরতা থাকবে প্রায় ৯২ শতাংশ। যা ২০৪০-এ গিয়ে দাঁড়াবে শতভাগে। অথচ সেই বছর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ৬০ হাজার মেগাওয়াট। যার আবার ৮৪ শতাংশই আসবে প্রধান তিন জ্বালানি গ্যাস, কয়লা এবং তেল থেকে। বিদেশ থেকে জ্বালানি কিনে বিদ্যুৎ তৈরি করতে গেলে বড় চাপ পড়বে অর্থনীতিতে। কেননা, হিসাব বলছে, ২০৩০ থেকেই আমদানি বাবদ বাড়তি খরচ করতে হবে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার করে। যা ২০৪০ নাগাদ ছাড়িয়ে যেতে পারে ৩০ বিলিয়ন। ফলে, এই টাকা যোগাড় করাও হবে বড় চ্যালেঞ্জের। এছাড়া, কয়েকগুণ উৎপাদন খরচ বাড়লে সে প্রভাবও পড়বে জনজীবনে। অথচ এসব বাদ দিয়ে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে এই জ্বালানি চাপ থেকে মুক্তি পেতে পারে দেশ ও দেশের মানুষ।
দৈনিক আল ইহসান শরীফ উনার গবেষণা মতে, সারাদেশে প্রতিদিন ২০ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয় যা থেকে কমপক্ষে ১৫০০-৫০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। বিশেষভাবে, ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এই বিপুল পরিমাণ আবর্জনা রাজধানীর আমিনবাজার ও মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল্ডে ফেলা হয়। দিন গড়ানোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই বর্জ্যের পরিমাণ। বিশেষজ্ঞ দলের ধারণা আর ২ বছর পর এই ল্যান্ডফিল্ডগুলোতে আর বর্জ্য ফেলা যাবে না। তখন অন্যত্র জায়গা খুঁজতে হবে। কিন্তু ঢাকার আশপাশে এত খালি জায়গা কোথায়? আর এই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না করা হলে, মহাবিপাকে যে পড়তে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ঢাকার বিপুল পরিমাণ বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও এসব উদ্যোগ গতি পাচ্ছে না। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে নানা জটিলতায় মূলত থমকে আছে এ উদ্যোগ। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বললেও বাস্তবে তা কাগুজে। দীর্ঘদিন থেকে এই খাত থেকে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের নানা পরিকল্পনা হাতে নিলেও তার কোনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল দু’বছর আগে। এরপর দফায় দফায় সভা হচ্ছে, আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু কোম্পানি আর গঠন হচ্ছে না। বর্জ্যে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে নগরী। সবাই এই বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদ বলে দাবি করলেও কোনো কাজে আসছে না।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ বর্জ্য সম্ভাবনাকে অবহেলা করলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই উৎসকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানিতে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে। গ্রিসের পেত্রা শহরে পরিত্যাক্ত তরল বর্জ্য থেকে প্রতিদিন ২৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর বর্জ্যের বিপুল সম্ভাবনাকে ১০০ শতাংশ কাজে লাগায় জার্মানি। জার্মানিসহ ইউরোপের প্রায় দুই মিলিয়ন লোক চাকরি করে এই বর্জ্যভিত্তিক শিল্প-কারখানায়। এ থেকে আয় হয় প্রায় ১৪৫ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ইউরো বা ১৯০ থেকে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নাইরোবিতে রয়েছে এই বর্জ্য রিসাইক্লিং করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জৈব সার উৎপাদনের বিশাল শিল্প। সেইসাথে নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইতালিও তাদের বর্জ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েছে।
কিন্তু বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপিত না হওয়ায় পলিথিন ও অন্যান্য বোতল শত শত টন পানির দরে বিদেশে রফতানী করতে বাধ্য হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে তা বিদেশে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পেট বোতলের দানা হয়ে উচ্চমূল্যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বাংলাদেশে পুনরায় আমদানি করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বর্জ্য বা আবর্জনাকে সম্পদে রূপান্তর করাই সাম্প্রতিককালের ভাবনা। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সে বিষয়ে উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। অথচ আক্বল খাটানো এবং পরিচ্ছন্ন থাকা দুটোই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শিক্ষা। ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশ বাংলাদেশেই এ শিক্ষা কাজে লাগানোর সর্বাধিক দাবিদার। বাংলাদেশেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। কিন্তু নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে না। তাই ফাইলবন্দি না থেকে সত্বর বাস্তবায়নের জন্য আমরা সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমাদের প্রত্যাশা- বিদ্যুৎবান্ধব প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই বর্জ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকেও বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












