ফুটপাতের প্রান্তিক হকারদের কাছ থেকে অসৎ ও লুটেরা মহল চাঁদা আদায় করছে মাসে ৩০ কোটি টাকা;
অথচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ অর্থ দিয়ে বারবার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসন সম্ভব; অন্যদিকে এই অর্থ যোগ হতে পারে জাতীয় অর্থনীতিতে। সরকারের আশু নজর কাম্য।
, ১২ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৬ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ২১ই মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্থানীয় নেতা, পাতি নেতা ও পুলিশ- এই তিন চক্রের দখলে রাজধানীর ফুটপাত। সূত্র মতে, রাজধানীর ফুটপাত হকারদের কাছ থেকে মাসে ৩০ কোটিরও বেশি টাকা তোলে লাইনম্যানধারী চাঁদাবাজরা। আর সে হিসেবে প্রতিদিন চাঁদাবাজির মাধ্যমে ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসহায় হকারদের কাছ থেকে। অথচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় এর সামান্য অংশ টাকা তোলা হলেও বছর শেষে সকল হকারকে পুনর্বাসন সম্ভব। জনগণের চলাচলের স্বার্থে ফুটপাতমুক্ত করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারাও নাজেহাল হয়েছে লাইনম্যানধারী চাঁদাবাজদের হাতে। তাদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মামলাও করেছে। কিন্তু প্রতিকার মেলেনি; বরং আরো বেড়েছে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য।
হকার সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাতজুড়েই রয়েছে হকারদের ব্যবসা। গোটা রাজধানীর ১২০টি ফুটপাথে আড়াই থেকে তিন লাখ হকার ব্যবসা করে। ঈদসহ বিভিন্ন মৌসুমে এই হকারদের সংখ্যা আরো ৪০-৫০ হাজার বেড়ে যায়। এদের মধ্যে কোনো হকারই চাঁদা না দিয়ে ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারে না। কোনো কোনো এলাকায় পুলিশ সরাসরি হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ফুটপাথে স্থায়ী হকার আছে দেড় লাখ, রাস্তায় আছে ২৫ হাজার, হাটবাজারে ২৫ হাজার, হলিডে মার্কেটে ১০ হাজার, বাসাবাড়িতে ফেরি করে এমন হকার ১৫ হাজার, গাড়িতে ভ্রাম্যমাণ হকার ১০ হাজার, মৌসুমী হকার ২৫ হাজার। এছাড়া আরো কিছু ভাসমান হকার রয়েছে। এদের মধ্যে এমন কেউ নেই- যে চাঁদা না দিয়ে হকারী করতে পারছে।
প্রসঙ্গত, হকাররাও দেশের নাগরিক। তাদেরও রয়েছে দেশের মধ্যে স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করার। কিন্তু সরকারের অবহেলার কারণে একটি অসৎ মহল তাদের ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের মুনাফা অর্জন করছে। এজন্য তারা ব্যবহার করছে রাজধানীর ফুটপাতগুলোকে। যেগুলো তৈরি করা হয়েছে মূলত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য। কিন্তু এসব ফুটপাত দখল করে অসৎ মহল হকারদের জন্য আলাদা এলাকা তৈরি করে দিয়েছে। আর এতে করে দেখা যাচ্ছে, এসব চাঁদাবাজ অসৎ মহল বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করছে হকারদের কাছ থেকে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ থেকে কিছুদিন পরপর এসব হকারদের উচ্ছেদ করে দেয়া হচ্ছে। এতে করে কুলকিনারা না পেয়ে মহাসঙ্কটে পড়েছে প্রান্তিক ক্ষুদ্র আয়ের অসহায় হকাররা। অথচ দোকান প্রতি গড়ে ২শ টাকা করে চাঁদা তোলা হলেও দৈনিক ১ কোটি টাকা আদায় হয় হকারদের কাছ থেকে। সে হিসেবে মাসে দাঁড়ায় ৩০ কোটি। এ চাঁদার সিকিভাগও যদি সরকারিভাবে বৈধ উপায়ে আদায় করা হয়, তাহলে বছর শেষে হকারদের পুনর্বাসনে একাধিক বহুতল ভবন করা সম্ভব। তাদের পুনর্বাসনে খুব বেশি সময় লাগতো না। তাতে সরকারও রাজস্ব পাবে। বন্ধ হবে চাঁদাবাজি। নিরাপদেও ব্যবসা করতে পারবে হকার। কিন্তু সরকার তা করছে না। ফলে বারবার উচ্ছেদে সর্বস্বান্ত হচ্ছে হকার নামক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশে এসব প্রান্তিক জীবিকা নির্বাহকারীরা চাঁদাবাজি এবং সরকার কর্তৃক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হলেও বাইরের বিভিন্ন দেশে এসব হকারদের সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। হকারদের এই ব্যবসাকে রাস্তা-অর্থনীতি বলা হয়। এশিয়া আফ্রিকার এবং আমেরিকার নিউইয়র্কেও হাজার হাজার হকার রয়েছে। সেনেগালের রাজধানী ডাকারে ১৩ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে শ্রমজীবী মানুষের ১১ শতাংশ হকার। কিন্তু সেসব দেশে হকারদের কাছ থেকে লুটেরা চাঁদাবাজ মহল বাংলাদেশের মতো লুটপাট চালাতে পারে না। কারণ সেসব দেশে এসব হকারদের সরকারিভাবে খাজনা রয়েছে। সেই খাজনা দিয়েই তারা রাস্তা-অর্থনীতি পরিচালনা করে থাকে। আমাদের পার্শ^বর্তী দেশ ভারতেও একই অবস্থা। ফলে সেসব দেশে এই হকারদের আয় জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অন্যদিকে বাংলাদেশেও যে রাস্তা-অর্থনীতির সম্ভাবনা নেই, তা নয়। বাংলাদেশের হকারররাও যদি দিনে ৫০০ টাকা আয় করে তাহলে ১ লাখ হকার হিসেব করলে বছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ হওয়ার কথা। কিন্তু সেই আয়ের সিংহভাগই চলে যায় চাঁদাবাজদের দখলে। ফলে সরকার একদিকে এই রাস্তা অর্থনীতিতে থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং সেইসাথে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকেও।
সঙ্গতকারণেই সরকারের উচিত- রাজধানীসহ মহানগরগুলোতে হকারদের জন্য নীতিমালা ও আইন করে পুনর্বাসনের ও নিবিঘেœ ব্যবসা করতে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া। হকারদের ব্যবহার না করে যাতে চাঁদাবাজির পসরা কেউ বসাতে না পারে, সে ব্যাপারে আলাদা নীতিমালা করে কঠোর আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা করা। অন্যদিকে হকারদের যত্রতত্র বারবার উচ্ছেদ না করে তাদের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করা, সময় নির্দিষ্ট করা, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বাজার, লাইসেন্স চালু, হকারদের নিবন্ধিত সমিতি, পুলিশ ও রাজনৈতিক মাস্তানদের চাঁদা তোলা বন্ধ করা ইত্যাদি। কারণ যত নীতি ও আইনই করা হোক না কেন, দুর্নীতি বেপরোয়া থাকলে কিছুতেই কিছু হবে না। সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ, আইনজীবী, নগর বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি নীতি গবেষক, হকার নেতা প্রভৃতি- সব মাথা একত্র করে নীতি প্রণয়ন করে হকারদের স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ এবং ফুটপাত দখলের সমাধান করতে হবে। আর সমাধান করতে সর্বাগ্রে অসৎ পুলিশ ও অসৎ রাজনৈতিক নেতাদের সৎ বানাতে হবে। কিন্তু এদেরকে সৎ বানাতে পারবে শুধুমাত্র ইসলামী বিধান। সরকার সে পথে হাঁটবে কি?
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (৩)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে স্থলে, নদীতে, পাহাড়ে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না।
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফারাক্কা মরণ বাধ, তিস্তার পানি বন্ধের পর, ভারত এখন মেঘালয়ে মিন্টডু ও কিনশি নদীতে ৭টি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে যাচ্ছে। এতে বাধাগ্রস্থ হবে বাংলাদেশের সারি- গোয়াইন নদী, যাদুকাটা নদী ও সুরমা নদীর প্রবাহ। হবে বহুমাত্রিক ও অনেক বড় ক্ষতি সরকারকে এর শক্ত প্রতিবাদ জানাতে হবে। কঠিন ব্যবস্থা নিতে হবে ইনশাআল্লাহ। (২য় পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ফারাক্কা মরণ বাঁধ, তিস্তার পানি বন্ধের পর, ভারত এখন মেঘালয়ে মিন্টডু ও কিনশি নদীতে ৭টি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে যাচ্ছে।
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এর মাধ্যমে পাহাড়কে উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা, ‘এক দেশে দুই আইন’ ও পাহাড়ে রাজা-প্রজা প্রথা বহাল, বাঙ্গালী ও রাষ্ট্রের ভূমি অধিকার হরণ এবং সেনা প্রত্যাহারসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্নের গভীর ষড়যন্ত্র চলমান। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া। (২)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (১)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন। ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না। হিন্দুস্থান টাইমস ও কুখ্যাত প্রথম আলো তথা ভারত-আমেরিকার কুচক্রীরা একযোগে ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে জনসচেতন হতে হবে ইনশাআল্লাহ। (১ম পর্ব)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের (টঘচঋওও) ২৫তম অধিবেশনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ রাষ্ট্র, অপাহাড়ি বাংলাদেশি নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করছে।
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধ: বিদ্যুৎ বাঁচানোর নামে অর্থনীতি ধ্বংস এবং দারিদ্রতা বৃদ্ধি করে দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এক সাগরে দুই চিত্র দেশের জেলেদের উপর পুলিশি সাড়াশী অভিযান আর ভারতীয় জেলেদের ক্ষেত্রে চোখ কান বন্ধ রেখে মাছ লুটের অবাধ সুযোগ করে দেয়া নিষেধাজ্ঞার সুফল পায়- ভারতীয় জেলে আর ঠকে এদেশীয় জেলে ও গণমানুষ।
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না। যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (৬)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চিনিকল খোলার দাবীতে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। বিদেশিরা চিনিকল চালু, বিনিয়োগ ও লাভের সম্ভাবনা দেখতে পেলেও সরকার তা দেখতে পাচ্ছে না কেন চিনিকল বন্ধ থাকলে রাষ্ট্র হারায় সম্পদ, লুণ্ঠনকারীদের হয় পোয়াবারো।
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












