প্রসঙ্গঃ জবরদখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, খাস জমি অথবা রেলওয়ের বেহাত জমি।
পরিত্যক্ত জমির হিসাব ভূমি মন্ত্রণালয়ে নেই। উদ্ধারেও কোনো তৎপরতা নেই।
, ১২ শা’বান শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৫ ‘আশির, ১৩৯০ শামসী সন , ০৫ মার্চ, ২০২৩ খ্রি:, ১৯ ফাল্গুন, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
সরকারি জমি জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ মসৃণ করা দুরূহ কোনো বিষয় নয়। তবে এক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার এবং দলীয় সঙ্কীর্ণতা পরিহারসহ সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মুহব্বতে কাজ করার মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, পরিত্যক্ত ও খাস জমির মালিক সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে এসব জমির কোনো হিসাবই নেই। ফলে সরকারের মূল্যবান এসব জমি নানাভাবে বেহাত হয়ে যাচ্ছে। এদিকে স¦াধীনতার ৪৬ বছর পরও পরিত্যক্ত সম্পত্তির কোনো তালিকা হয়নি। খাস জমির ক্ষেত্রেও রয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। তবে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করার জন্য দু’বছর আগে ভূমি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেও তা বিফলে যেতে বসেছে। এ বিষয়ে প্রায় সবক’টি জেলা তথ্য পাঠালেও ঢাকা ডিসি অফিস থেকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।
স¦াধীনতা যুদ্ধের সময় পূর্ব-পাকিস্তানে বসবাসরত যেসব মুসলিম বিহারি জমিজমা ও সম্পত্তি ফেলে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান, দেশ সাধীনের পর তাদের সব সম্পত্তি সরকার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে। ‘প্রেসিডেন্ট আদেশ নম্বর ১৬’ বা ‘পিও সিক্সটিন’ নামে পরিচিত এক আদেশের মাধ্যমে এধরনের ফেলে যাওয়া সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তিভুক্ত করা হয়। এসব সম্পত্তির মূল মালিক ভূমি মন্ত্রণালয়।
সারা দেশে রেলওয়ের জমি রয়েছে ৬১ হাজার ৮৬০ দশমিক ২৮ একর। এরমধ্যে অপারেশনাল কাজে ব্যবহার হচ্ছে ৩১ হাজার ৫৬৮ দশমিক ৯৪ একর। বাকি জমির মধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় পাঁচ হাজার একর। বর্তমানে রেলওয়ের তিন হাজার ৯৯১ দশমিক ৩৯ একর জমি অবৈধ দখলে রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে ৯২২ একর, ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে দুই হাজার ৯৭৮ দশমিক ২২ একর এবং ধর্মীয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে ৯০ দশমিক ৮৩ একর।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অবৈধ দখলকারীরা প্রশাসনের একশ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তার সহযোগিতায় জাল দলিল বানিয়ে নেয়। উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে জাল দলিল নিয়ে আদালতে মামলা ঠুকে দেয়। মামলার কারণে উচ্ছেদ অভিযান চালানো যায় না।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে সরকারি, ব্যক্তি মালিকানাধীন, খাস, অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদফতর, পরিদফতর ও দফতরের মালিকানায় জমি রয়েছে। সরকারি যে প্রতিষ্ঠানের আওতায় এ সম্পত্তি থাকুক না কেন, ভূমি মন্ত্রণালয় এর বাৎসরিক খাজনা তথা ভূমি উন্নয়ন কর পাবে। কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কী পরিমাণ কোন শ্রেণীর সরকারি সম্পদ রয়েছে তার কোনো পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েই পাওয়া যাচ্ছে না। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সবকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে হাজার কোটি টাকার ভূমি উন্নয়ন কর পাওনা রয়েছে দাবি করা হলেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তা আমলেই নিচ্ছে না।
সংশি¬ষ্ট সূত্র জানায়, ভূমি ব্যবস্থাপনায় ভূমি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ভূমি আপিল বোর্ড, ভূমি সংস্কার বোর্ড এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে নেই কোনো সমন্বয়। সরকারি স্থাপনা নির্মাণ কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করা সরকারি সম্পত্তিগুলোও রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে সরকারি সম্পত্তি চলে যাচ্ছে জবরদখলকারীদের নিয়ন্ত্রণে। আবার সেই সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য সরকার পক্ষ আদালতে মামলা করতে যাচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি বেহাত হওয়ার পর সেই সম্পত্তি উদ্ধারে মামলা করা হলেও যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বহীন আচরণে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং তারা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
রেলের দামি জমিতে প্রভাবশালী মহল ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, কল-কারখানা, স্কুল-কলেজ, ক্লাব, রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ইত্যাদি স্থাপন করে দখল বজায় রেখেছে। কয়েক হাজার কোটি টাকার এই ভূ-সম্পত্তি উদ্ধারে রেলের কার্যকর কোনো তৎপরতা নেই। উদ্ধার অভিযান চালাতে গেলেও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা থমকে যাচ্ছে।
মূলত, রাজনৈতিক মদদেই মূল্যবান পরিত্যক্ত সম্পত্তিগুলো সরকারের হাতছাড়া হয়ে গেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব পরিত্যক্ত সম্পত্তি বেদখলে রয়েছে, তার বেশিরভাগই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে। অবৈধভাবে সরকারি ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে মূল্যবান এসব সম্পত্তি। যেহেতু কমবেশি সবগুলো বড় রাজনৈতিক দলের লোকেরাই এসব দখলবাজির সঙ্গে জড়িত, সে কারণে বেহাত হওয়া সম্পত্তিগুলো পুনরুদ্ধারে কার্যকর ও সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ নেই।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি- যে দেশে ভূমিহীনদের সংখ্যা কোটির উপরে, সেদেশে এতো বিশাল ভূমি বেহাত হয়ে থাকতে পারে না এবং অব্যবহৃত হয়েও থাকতে পারে না। এসব ভূমি অবশ্যই অবিলম্বে সত্যিকার ভূমিহীনদের মাঝে বণ্টনে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












