প্রসঙ্গ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার সনদ (৩)
, ০৭ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৩ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ১২ অক্টোবর , ২০২৪ খ্রি:, ২৬ আশ্বিন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আইন ও জিহাদ
কা’ব ইবনে আশরাফকে হত্যার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বললেন, আপনারা একটা চুক্তি সম্পাদন করুন যাতে তারা যেসব গালি-গালাজ করে ও কষ্ট দেয় তা থেকে তারা যেন বিরত থাকে। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুসলমান তথা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ও তাদের মাঝে একটা চুক্তিনামা লিখার নির্দেশ মুবারক দান করেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, পবিত্র হিজরত মুবারকের ৩য় বছর পবিত্র শাহরুল আ’যম শরীফ কাট্টা কাফির কা’ব ইবনে আশরাফের হত্যার পর চুক্তিনামা ২য় বার সংস্কার করা হয়। ‘যাদুল মা’য়াদে’ উল্লেখ রয়েছে।
وَادَعَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلّمَ مَنْ بِالْمَدِيْنَةِ مِنَ الْيَهُوْدِ، وَ كَتَبَ بَيْنَهُ وَ بَيْنَهُمْ كِتَاباً
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে অবস্থানকারী ইহুদীদের সাথে চুক্তি মুবারক সম্পাদন করেন এবং তিনি উনার এবং তাদের মাঝে একটি দলীল লিপিবদ্ধ করেন। ” (মুখতাসারু সীরাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল ফুসূলু ফি সীরাতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা মতে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে যে ইহুদীদের ও অন্যান্যদের মধ্যে চুক্তিনামা লিপিবদ্ধ হয় সেটাই পবিত্র মদীনা শরীফ উনার সনদ নামে পরিচিত। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র মদীনার সনদের চুক্তিনামা নিম্নে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হলো-
পূর্ব প্রকাশিতের পর
৪- وَبَنُو عَوْفٍ عَلَى رَبْعَتِهِمْ يَتَعَاقَلُونَ مَعَاقِلَهُمُ الأُولَى وَكُلُّ طَائِفَةٍ تَفْدِى عَانِيَهَا بِالْمَعْرُوفِ وَالْقِسْطِ بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ.
৪. ‘বনূ আওফের’ যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পূর্ব নিয়ম অনুযায়ী উনাদের রক্তপণ পরিশোধ করবেন এবং প্রত্যেক পক্ষ উনাদের মুক্তিপণ বন্দীপণ পরিশোধ করে বন্দীদের মুক্ত করবেন যাতে মু’মিন উনাদের মধ্যকার পারস্পারিক সম্পর্ক ইনসাফপূর্ণ হয় ও সঠিক হয়।
৫- وبنو الحارث (بن الخزرج) عَلَى رَبْعَتِهِمْ يَتَعَاقَلُونَ مَعَاقِلَهُمُ الأُولَى وَكُلُّ طَائِفَةٍ تَفْدِى عَانِيَهَا بِالْمَعْرُوفِ وَالْقِسْطِ بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ.
৫. ‘বনূ হারিছ ইবনে খাযরাজের’ যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পূর্ব নিয়ম অনুযায়ী উনাদের রক্তপণ পরিশোধ করবেন এবং প্রত্যেক পক্ষ উনাদের মুক্তিপণ বন্দীপণ পরিশোধ করে বন্দীদের মুক্ত করবেন যাতে মু’মিন উনাদের মধ্যকার পারস্পারিক সম্পর্ক ইনসাফপূর্ণ হয় ও সঠিক হয়।
৬- وبنو ساعدة على ربعتهم يتعاقلون معاقلهم الأولى، وَكُلُّ طَائِفَةٍ تَفْدِى عَانِيَهَا بِالْمَعْرُوفِ وَالْقِسْطِ بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ.
৬. ‘বনূ সাওদায়ের’ যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পূর্ব নিয়ম অনুযায়ী উনাদের রক্তপণ পরিশোধ করবেন এবং প্রত্যেক পক্ষ উনাদের মুক্তিপণ বন্দীপণ পরিশোধ করে বন্দীদের মুক্ত করবেন যাতে মু’মিন উনাদের মধ্যকার পারস্পারিক সম্পর্ক ইনসাফপূর্ণ হয় ও সঠিক হয়।
৭- وَبَنُو جُشَمٍ عَلَى رِبْعَتِهِمْ يَتَعَاقَلُونَ مَعَاقِلَهُمْ الْأُولَى، وَكُلُّ طَائِفَةٍ تَفْدِى عَانِيَهَا بِالْمَعْرُوفِ وَالْقِسْطِ بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ.
৭. ‘বনূ জুশামের’ যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পূর্ব নিয়ম অনুযায়ী উনাদের রক্তপণ পরিশোধ করবেন এবং প্রত্যেক পক্ষ উনাদের মুক্তিপণ বন্দীপণ পরিশোধ করে বন্দীদের মুক্ত করবেন যাতে মু’মিন উনাদের মধ্যকার পারস্পারিক সম্পর্ক ইনসাফপূর্ণ হয় ও সঠিক হয়।
৮- وَبَنُو النّجّارِ عَلَى رِبْعَتِهِمْ يَتَعَاقَلُونَ مَعَاقِلَهُمْ الْأُولَى، وَكُلُّ طَائِفَةٍ تَفْدِى عَانِيَهَا بِالْمَعْرُوفِ وَالْقِسْطِ بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ.
৮. ‘বনূ নাজ্জারের’ যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পূর্ব নিয়ম অনুযায়ী উনাদের রক্তপণ পরিশোধ করবেন এবং প্রত্যেক পক্ষ উনাদের মুক্তিপণ বন্দীপণ পরিশোধ করে বন্দীদের মুক্ত করবেন যাতে মু’মিন উনাদের মধ্যকার পারস্পারিক সম্পর্ক ইনসাফপূর্ণ হয় ও সঠিক হয়।
৯- وَبَنُو عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ عَلَى رِبْعَتِهِمْ يَتَعَاقَلُونَ مَعَاقِلَهُمْ الْأُولَى، وَكُلُّ طَائِفَةٍ تَفْدِى عَانِيَهَا بِالْمَعْرُوفِ وَالْقِسْطِ بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ.
৯. ‘বনূ আমর বিন আওফের’, যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পূর্ব নিয়ম অনুযায়ী উনাদের রক্তপণ পরিশোধ করবেন এবং প্রত্যেক পক্ষ উনাদের মুক্তিপণ বন্দীপণ পরিশোধ করে বন্দীদের মুক্ত করবেন যাতে মু’মিন উনাদের মধ্যকার পারস্পারিক সম্পর্ক ইনসাফপূর্ণ হয় ও সঠিক হয়।
(অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাইয়্যিদ আহমদ শাবীব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












