প্রসঙ্গ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার সনদ (১)
, ২৩ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ৩০ রবি , ১৩৯২ শামসী সন , ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ১২ আশ্বিন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) আইন ও জিহাদ
পবিত্র মদীনা শরীফ উনার সংখ্যাগরিষ্ঠ আউস ও খাযরাজ গোত্রের যারা মূল ছিলেন উনারা সম্মানিত হিজরত মুবারকের পূর্বে এবং পরে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। আউস ও খাযরাজ এই দু’গোত্রের সকলেই দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করায় উনাদের সাথে সন্ধিচুক্তির কোন প্রশ্নই ছিলো না। তবে খাযরাজ গোত্রের মধ্যে মুনাফিক সর্দার উবাই বিন সুলূল নেতৃত্বে সামনে থাকলেও গোত্রের অধিকাংশই মুসলমান হওয়ায় উনাদের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রকাশ্যে কিছু করার ক্ষমতা তার ছিলো না। সম্মানিত বদর জিহাদের পর সে এবং তার অনুসারীরা প্রকাশ্যে দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে। তবে সেসময় পবিত্র মদীনা শরীফ উনার সংখ্যালঘু ইহুদী সম্প্রদায় মুসলমান উনাদের নবতর জীবনধারার প্রতি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিদ্বেষ থাকলেও অতি ধূর্ত হওয়ার কারণে প্রকাশ্যে বিরোধিতায় লিপ্ত হয়নি। তবে সবচেয়ে বিরোধীতায় সামনে ছিলো পবিত্র মক্কা শরীফের কুরাইশ কাফির মুুশরিকরা। তারা পত্র প্রেরণ ও অন্যান্য অপতৎপরতার মাধ্যমে মুনাফিক ও ইহুদীদের সাথে ষড়যন্ত্র করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেন পবিত্র মদীনা শরীফ এ অবস্থান করতে না পারেন সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন তাদের এমন অবস্থা দেখলেন তখন তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার পর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে পাশ্ববর্তী এলাকার লোকদের সাথে চুক্তি সম্পাদন করার পরামর্শ করলেন। সুবহানাল্লাহ! পরবর্তীতে তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার পার্শ্ববর্তী নিকট ও দূরের এলাকা সমূহের বিভিন্ন গোত্রের সাথে শান্তিচুক্তি সম্পাদন করেন। সুবহানাল্লাহ! যাদের সাথে তিনি চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন তারা হলো।
১. ২য় হিজরী ছফর মাসে পবিত্র মদীনা শরীফ হতে ২৯ মাইল দূরবর্তী ওয়াদ্দান এলাকায় এক অভিযানে গেলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানকার বানূ যামরাহ গোত্রের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি সম্পাদন করেন।
২. অতঃপর ২য় হিজরীর পবিত্র শাহরুল আ’যম শরীফে বুওয়াত্ব এলাকায় এক অভিযানে গিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের সাথেও সন্ধিচুক্তি করেন।
৩. একই বছরের জুমাদাল ঊখরা মাসের ইয়ামবু’ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যবর্তী যুল-উশাইরা এলাকায় গিয়ে তিনি বানূ মুদলিজ গোত্রের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করেন।
এভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনাবাসী, আরব জাহান তথা সমস্ত কায়িনাতে যেন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অনুসরণ ও অনুকরণের মাধ্যমে উনাদের সমস্ত বান্দা ও উম্মত হাক্বীক্বী নৈকট্য ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে পারে সেই ব্যবস্থা মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
কিন্তু ইহুদীরা চির লা’নত প্রাপ্ত হওয়ায় বিভিন্ন রকম চক্রান্তের রূপ ধারণ করলো। যার নেতৃত্বে ছিল তাদের নেতা ও ব্যঙ্গ কবি কাট্টা কাফির কা’ব ইবনে আশরাফ। সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শান মুবারকে, উনার পূতঃপবিত্রতম ও মহাসম্মানিত পবিত্রতা দানকারী আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকে ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকেও নিয়ে কটূক্তি করাই ছিলো তার বদস্বভাব। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! (সীরাতুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
উল্লেখ্য যে, যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফের মধ্যে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন তখন এখানে মিশ্রিত বাসিন্দা ছিলেন। অধিকাংশই ছিলেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। এখানে মুশরিক, মূর্তিপূজক এবং ইহুদীরাও ছিলো। যারা ইহুদী ছিলো তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ও উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দিতে লাগলো। নাউযুবিল্লাহ! এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সান্তনা দেয়ার লক্ষ্যে পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَتُبْلَوُنَّ فِي أَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا أَذًى كَثِيرًا ۚ وَإِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ ذَٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ
অর্থ: “অবশ্যই আপনারা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবেন, আপনাদের ধন-সম্পদে ও আপনাদের জীবনে। আর আপনারা অবশ্যই শুনবেন আপনাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাব ও মুশরিকদের কাছ থেকে অনেক কষ্টদায়ক কথা। যদি আপনারা তাতে ধৈর্য ধারণ করেন এবং খোদাভীতি অবলম্বন করেন, তবে অবশ্যই সেটাই হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ। ” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ১৮৬) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাইয়্যিদ আহমদ শাবীব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৬ তম পর্ব)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৮)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৫ তম পর্ব)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৭)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












