ইলমে তাছাউফ
পিতা-মাতা জীবিত থাকতেই মুর্শিদ বা শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হওয়া উচিত
, ১৯ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৬ রবি , ১৩৯২ শামসী সন , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ০৮ আশ্বিন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইলমে তাছাউফ
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيْضَةٌ عَلٰى كُلِّ مُسْلِمٍ وَفِىْ رِوَايَةٍ عَلٰى كُلُّ مُسْلِمٍ وَّمُسْلِمَةٍ.
অর্থ : হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য পবিত্র ইলম অর্জন করা ফরয। (মুসলিম শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, বায়হাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ শরীফ, মুসনাদে আবূ হানীফা শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ الْـحَسَنِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ الْعِلْمُ عِلْمَانِ فَعِلْمٌ فِى الْقَلْبِ فَذَاكَ الْعِلْمُ النَّافِعُ وَعِلْمٌ عَلَى اللِّسَانِ فَذَالِكَ حُجَّةُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ عَلٰى اِبْنِ اٰدَمَ.
অর্থ : হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, পবিত্র ইলম দু’প্রকার, একটি হচ্ছে পবিত্র ক্বলবী ইলম (পবিত্র ইলমে তাছাওউফ) যা উপকারী ইলম। অপরটি হচ্ছে পবিত্র যবানী ইলম (ইলমে ফিক্বাহ) যা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বান্দার প্রতি দলীল স্বরূপ। (দারিমী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ শরীফ)
ইমামে আ’যম হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “ইলম শিক্ষা করা ফরয বলতে বুঝায় পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ ও পবিত্র ইলমে তাছাওউফ। উভয়টিই শিক্ষা করা ফরয।
হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বিশ্ববিখ্যাত আলিম হওয়া সত্ত্বেও তিনি বলেন-
لَوْلَا سَنَتَانِ لَـهَلَكَ اَبُوْ نُعْمَانَ
অর্থ : আমি ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি ধ্বংস হয়ে যেতাম যদি দু’বছর না পেতাম। (সাইফুল মুক্বাল্লিদীন, ফতওয়ায়ে ছিদ্দীক্বিয়া)
অর্থাৎ তিনি উক্ত দু’বছর হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার বরকতময় দরবার শরীফ অর্থাৎ উনার খিদমত মুবারক-এ থেকে পবিত্র ইলমে তাছাওউফ হাছিল করেন।
উল্লেখ্য, হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রথমে ইমামুল খামিছ হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম উনার কাছে মুরীদ হন এবং উনার বিছাল শরীফ উনার পর উনারই ছাহিবজাদা ইমামুছ ছাদিস হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার কাছে বাইয়াত হয়ে কামালিয়াত মুবারক হাছিল করেন। যা বিশ্বখ্যাত গায়াতুল আওতার ফী শরহে দুররিল মুখতার, সাইফুল মুকাল্লিদীন, ইছনা আশারিয়া ইত্যাদি কিতাবে উল্লেখ রয়েছে।
হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব মিশকাত শরীফ উনার শরাহ মিরকাত শরীফ উনার মাঝে হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি মালিকী মাযহাব উনার ইমাম উনার ক্বওল শরীফ উল্লেখ করেছেন যে-
مَنْ تَفَقَّهَ وَلَـمْ يَتَصَوَّفْ فَقَدْ تَفَسَّقَ وَمَنْ تَصَوَّفَ وَلَـْم يَتَفَقَّهْ فَقَدْ تَزَنْدَقَ وَمَنْ جَـمَعَ بَيْنَهُمَا فَقَدْ تَـحَقَّقَ
অর্থ : যে ব্যক্তি পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো অথচ পবিত্র ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা করলো না, সে ব্যক্তি ফাসিক। আর যে ব্যক্তি পবিত্র ইলমে তাছাওউফ স্বীকার করলো কিন্তু পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ স্বীকার করলো না সে যিন্দিক (কাফির)। আর যে ব্যক্তি উভয়টিই অর্জন করলো, সে ব্যক্তি মুহাক্কিক।
আর পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ অর্থাৎ ওযূ, গোসল, ইস্তিঞ্জা, মুয়ামালাত, মুয়াশারাত ইত্যাদি শিক্ষার জন্য ওস্তাদ গ্রহণ করা যেমন ফরয (আবশ্যক)।
সেটা মাদরাসায় গিয়েই হোক অথবা ব্যক্তিগতভাবে কোনো ওস্তাদের নিকট থেকেই হোক তা শিক্ষা করা ফরয। তদ্রƒপ পবিত্র ইলমে তাছাওউফ উনার জন্যও ওস্তাদ গ্রহণ করা ফরয। আর এ ওস্তাদকেই আরবীতে ‘শায়েখ’ বা ‘মুর্শিদ’ বলা হয়। আর ফারসীতে ‘পীর’ বলা হয়।
‘দুররুল মুখতার’ যা বিশ্বখ্যাত ফতওয়ার কিতাব তারমধ্যে একটি উছূল উল্লেখ করা হয়েছে-
مَا لَايَتِمُّ بِهِ الْفَرْضُ فَهُوَ فَرْضٌ. مَا لَايَتِمُّ بِهِ الْوَاجِبُ فَهُوَ وَاجِبٌ.
অর্থ : যে আমল ব্যতীত ফরয পূর্ণ হয় না, সে আমল করাও ফরয। যে আমল ব্যতীত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, সে আমল করাও ওয়াজিব।
পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করার জন্য প্রত্যেকের পিতা-মাতা অথবা মুরুব্বীগণই মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে থাকেন।
কারো যদি পিতা-মাতা অথবা মুরুব্বী জীবিত না থাকেন, তাহলে তার পক্ষে পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সময় বিশেষে অসম্ভবও হয়ে যায়। কেননা পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করার সময় যেমন থাকা-খাওয়া, লেখা-পড়া ইত্যাদির জন্য টাকা-পয়সার জরুরত হয়, সে টাকা-পয়সার আঞ্জাম দেন পিতা-মাতা অথবা মুরুব্বীগণ। অনুরূপ পবিত্র ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা করার সময়ও থাকা-খাওয়া, লেখা-পড়া ইত্যাদির জন্য টাকা-পয়সার জরুরত হয় এবং সে টাকা-পয়সার আঞ্জাম দেন পিতা-মাতা ও মুরুব্বীগণ।
এটাই যদি সত্য হয় যে, পিতা-মাতা অথবা মুরুব্বীগণ জীবিত থাকাকালীন পবিত্র ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা করা যাবে না, তাহলে যে সকল সন্তানেরা পিতা-মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় ইন্তিকাল করলো, তারা তো পবিত্র ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা করতে পারলো না, যা তাদের জন্য ফরয ছিল। যার ফলে তারা একটি ফরয আদায় করা হতে মাহরূম থেকে গুনাহগার হলো। আর যদি পিতা-মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় পবিত্র ইলম অর্জন করা না যায়, তাহলে সন্তানদের পবিত্র ইলম অর্জন করার জন্য পিতা-মাতা উনাদের মৃত্যু কামনা করতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
কাজেই, পিতা-মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হওয়া যাবে না- এ ধারণা বা বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ এবং কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৩) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’জীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫২) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫১) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৮) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৭)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ছোহবত মুবারক গ্রহণের ফাযায়িল-ফযীলত, গুরুত্ব-তাৎপর্য ও আবশ্যকতা:
০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












