পানি পান করার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
, ১০ শা’বান শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৩ ‘আশির, ১৩৯০ শামসী সন , ০৩ মার্চ, ২০২৩ খ্রি:, ১৭ ফাল্গুন, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُلُوا وَاشْرَبُوا مِن رِّزْقِ اللَّهِ.
অর্থ: “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার দেয়া রিযিক্ব থেকে খাও ও পান করো।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬০)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت أم المؤمنين الثالثة الصديقة عليها السلام قَالَتْ كَانَ أَحَبُّ الشَّرَابِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحُلْوَ الْبَارِدَ.
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট খাবার পানির মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় ছিল ঠান্ডা ও সুস্বাদু পানি।” (তিরমিযী শরীফ : কিতাবুশ শারাবাহ : সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১৮৯৫; আবূ ইয়ালা শরীফ ৪র্থ খ- ২৯৯ পৃষ্ঠা : সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৪৫১৬)
বুয়ূতুস সুক্ইয়া একটি ঝর্ণার নাম। ইহা পবিত্র মদীনা শরীফ উনার পার্শ্ববর্তী “হাররা” নামক স্থানের সন্নিকটেই অবস্থিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে উক্ত ঝর্ণা থেকে সেই সুস্বাদু পানি আনা হতো। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে সুক্ইয়া নামক স্থান থেকে মিঠা বা সুস্বাদু পানি আনা হতো। সুক্ইয়া হলো হাররা উনার পাশ্ববর্তী “বণী যুরায়েক” আবাসস্থলের সন্নিকটেই অবস্থিত। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-৩১৫)
হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, “হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে একজন হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে পানি ঠান্ডা করতেন। তিনি পানির মশক কাষ্ঠ নির্মিত তিন কোণ বিশিষ্ট একটি কাঠামোর উপর রেখে এ কাজ করতেন। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-৩১৫)
উল্লেখ্য যে, পানি ঠান্ডা করার এ কাঠামোটি প্রাচীনকালে চালু ছিলো। খেজুর গাছের তিনটি খ- পরস্পর গামলার আকারে বেঁধে তার উপর মশক কিংবা পানির পাত্র রেখে দেয়া হতো। উন্মুক্ত থাকার কারণে চারদিক থেকে বাতাস লেগে পানি দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যেত।
আধুনিক রূপ হচ্ছে ফ্রিজ। এ দৃষ্টিকোন থেকে ফ্রিজে রেখে পানি ঠান্ডা করে ঠান্ডা পানি পান করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
পানি অপচয় করা যাবে না :
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ الله تَعَالى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ مَرَّ بِسَعْدٍ رَضِيَ الله تَعَالى عَنْهُ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ فَقَالَ مَا هَذَا السَّرَفُ ؟ فَقَالَ أَفِي الْوُضُوءِ إِسْرَافٌ ؟ قَالَ نَعَمْ وَإِنْ كُنْتَ عَلَى نَهَرٍ جَارٍ.
অর্থ: “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি ওযূ করছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এই অপচয় কেন? হযরত সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, ওযূতেও কি অপচয় আছে? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হ্যাঁ, যদিও আপনি প্রবাহমান নদীতে থাকেন।” (ইবনে মাজাহ শরীফ : কিতাবুত ত্বহারাত ওয়া সুন্নাতিহ্ : মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৪২৫)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
أَنَّهُ أَقْمَعُ لِلْعَطَشِ وَأَقْوَى عَلَى الْهَضْم وَأَقَلُّ أَثَرًا فِي ضَعْفِ الْأَعْضَاءِ وَبَرْد الْمَعِدَة.
অর্থ: “নিশ্চয়ই ৩ বারে ছোট ছোট ঢোকে পানি পান করা পিপাসাকে নিবারণ করে, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, অঙ্গসমূহের দূর্বলতার ছাপ কমিয়ে দেয় এবং পাকস্থলীকে ঠা-া করে।” (ফতহুল বারী ১০/৯৪, তুহফাযুল আহওয়াযী ৫/১০১, আউনুল মা’বুদ ৯/৬৪৯)
পানি পানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
১. ডান হাতে পানি পান করা।
২. বসে পানি পান করা।
৩. “বিসমিল্লাহ শরীফ” বলে পানি পান শুরু করা।
পানি পান করার পর নিম্নোক্ত দু‘আ মুবারক পড়তে হয়-
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي سَقَانَا عَذْبًا فُرَاتًا بِرَحْمَتِهِ وَ لَمْ يَجْعَلْهُ مِلْحًا اُجَاجًا بِذُنُوبِنَا.
অর্থ: “সকল প্রশংসা মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য যিনি স্বীয় রহমত মুবারকে আমাদেরকে সুপেয় সুমিষ্ট পানি পান করিয়েছেন। আমাদের গুনাহর কারণে উহাকে অপেয় ও তিক্ত করেননি।” (তাফসীরে রুহুল মাআনী: ২৭ পারা, ১৪৯; হিলইয়াতুল আউলিয়া)
৪. পানি পানের পূর্বে পানির পাত্রে ক্ষতিকারক কিছু আছে কিনা দেখে পান করা।
৫. এক শ্বাসে পানি পান না করে, তিন ঢোকে বা শ্বাসে পানি পান করা।
কেননা, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেÑ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا شَرِبَ فَلاَ يَشْرَبْ نَفَسًا وَاحِدًا.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন তোমরা (পানীয়) পান করবে, তখন একশ্বাসে পান করবে না।”
৬. পানি পান শেষে “আলহামদুলিল্লাহ” পাঠ করা।
৭. কাঠের পেয়ালাতে পানি পান করা।
- আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












