পানি, দুধ, মধু, নাবীয শরবত ইত্যাদি পবিত্র পানীয় কাঠের পেয়ালায় পান করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক (৪)
, ২০ জুমাদাল উলা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৬ সাবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
আর বুখারী শরীফের বিখ্যাত শরাহ গ্রন্থ “ফতহুল বারী” এবং “আল জামিউছ ছহীহ লিস সুনানি ওয়াল মাসানীদ” কিতাবে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মাঝে বর্ণিত نُضَارٌ শব্দের ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে-
اَلنُّضَارُ: اَلْخَالِصُ مِنَ الْعُوْدِ وَمِنْ كُلِّ شَيْءٍ.
অর্থ:- نُضَارٌ এর অর্থ হচ্ছে- খাঁটি কাঠ এবং প্রত্যেক খাঁটি বস্তু।
বুখারী শরীফে আরো উল্লেখ রয়েছে-
وَلَوْنُهٗ يَمِيْلُ إِلَى الصُّفْرَةِ وَقَالَ أَبُوْ حَنِيْفَةَ الدِّيْنَوَرِيُّ هُوَ أَجْوَدُ الْخَشَبِ لِلْاٰنِيَةِ. فتح الباري لابن حجر-(ج ১৬/ص ১২৩)
অর্থ:- তার রং হলুদের দিকে মায়েল/ তার রং হলুদের নিকটবর্তী। হযরত আবূ হানীফা আদ দীনাওয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, نضار হচ্ছে পাত্র তৈরীর সর্বোৎকৃষ্ট কাঠ। (ফতহুল বারী লি ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-১৬/১২৩)
আর এই نُضَار বা সর্বোৎকৃষ্ট কাঠটিই হচ্ছে-বাবলা কাঠ। অর্থাৎ বাবলা কাঠই হচ্ছে পেয়ালা বা অন্যান্য কাঠের পাত্র তৈরীর সর্বোৎকৃষ্ট কাঠ।
এ বিষয়ে খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, রহমতুল্লিল আলমীন, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন- কাঠের পেয়ালা এবং অন্যান্য পাত্র তৈরীর মূল কাঠ হচ্ছে বাবলা কাঠ।
অর্থাৎ বাবলা কাঠই হচ্ছে পেয়ালা/পাত্র তৈরী করার সর্বোৎকৃষ্ট কাঠ, এবং বাবলা কাঠের পেয়ালাই খাছ সুন্নত মুবারক।
বলা হয়, বাবলা গাছ হচ্ছে, পেয়ালা/ পাত্র এবং রান্না ঘরের অন্যান্য পাত্র তৈরীর সর্বোৎকৃষ্ট কাঠ। এই কাঠের ঘনত্ব হচ্ছে প্রায় ১১৭০ কেজি/মিটার। আর এই বাবলা কাঠ খুবই টেকশই হয়ে থাকে।
আল জামিউছ ছহীহু লিস সুনানি ওয়াল মাসানীদ কিতাবে পূর্বাল্লেখিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফটি এভাবে উল্লেখ আছে যে-
عَنْ حَضْرَتْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَأَيْتُ عِنْدَ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَدَحَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ قَدِ انْصَدَعَ فَسَلْسَلَهٗ بِفِضَّةٍ قَالَ وَهُوَ قَدَحٌ جَيِّدٌ عَرِيْضٌ مِنْ نُضَارٍ قَالَ حَضْرَتْ أَنَسٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ " لَقَدْ سَقَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيْ هٰذَا الْقَدَحِ الشَّرَابَ كُلَّهُ الْعَسَلَ وَالنَّبِيْذَ وَالْمَاءَ وَاللَّبَنَ " وَقَالَ حَضْرَتِ ابْنُ سِيْرِيْنَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اِنَّهٗ كَانَ فِيْهِ حَلْقَةٌ مِنْ حَدِيْدٍ فَأَرَادَ حَضْرَتْ اَنَسٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنْ يَجْعَلَ مَكَانَهَا حَلْقَةً مِنْ ذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ فَقَالَ لَهٗ حَضْرَتْ أَبُوْ طَلْحَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ لَا تُغَيِّرَنَّ شَيْئًا صَنَعَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَرَكَهٗ.
অর্থ:- হযরত আসিম আহওয়াল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পেয়ালা মুবারক আমি হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট দেখেছি। পেয়ালাটি (কিছুটা) ফেটে গিয়েছিল, ফলে তিনি তা রুপা দ্বারা জোড়া লাগান। রাবী হযরত আসিম আহওয়াল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পেয়ালাটি ছিল নুদ্বার কাঠ দ্বারা তৈরী উত্তম, প্রসস্ত, চওড়া, সুপরিসর একটি পেয়ালা। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই পাত্রের মধ্যে প্রত্যেক পানীয় অর্থাৎ মধু, নাবীয, পানি ও দুধ পান করিয়েছি। হযরত ইবনে সীরীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাঠের পেয়ালা মুবারক উনার মধ্যে অর্থাৎ কাঠের পেয়ালা মুবারক উনার চতুর্পাশে লোহার একটি বৃত্ত/ আংটা ছিল। হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উক্ত লোহার বৃত্ত/ আংটার স্থানে স্বর্ণ কিংবা রুপার বৃত্ত/আংটা বসাতে চেয়েছিলেন। তখন হযরত আবূ ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাকে বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পেয়ালা খানি যেরূপ তৈরী করেছেন তাতে কোন কিছু পরিবর্তন করবেন না। ফলে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পরিবর্তনের/সংস্কারের সেই ইচ্ছা পরিত্যাগ করেন। (আল জামিউছ ছহীহু লিস সুনানি ওয়াল মাসানীদ-২৩/৭৬)
উপরোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা সুস্পষ্ট ভাবেই প্রমাণিত হয় যে, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে পেয়ালা মুবারক-এ পানি, দুধ, নাবীয শরবত ইত্যাদি পানীয় মুবারক পান করাতেন সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পেয়ালা মুবারকটি ছিল কাঠের পেয়ালা মুবারক, এবং উক্ত কাঠের পেয়ালা মুবারক উনার চতুর্পাশে বৃত্তের ন্যায় একটি লোহার পাত বা আংটা বসানো ছিল।
অর্থাৎ পানি, দুধ, নাবীয শরবত ইত্যাদি পানীয় লোহার পাতযুক্ত কাঠের পেয়ালায় পান করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক। (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন মুরাদী
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার সাওয়ীক্ব (ছাতু)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার মাঠা (লাবান)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ দিনের মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সুস্বাস্থ্যের জন্য মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কিছ্ছা অত্যন্ত উপকারী
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২২)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (১)
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নেককাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (৩)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২১)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












