পাগড়ীর উপর অথবা শুধু টুপির উপর সাদা রুমাল পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক-১
, ১৫ জুমাদাল উলা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০১ সাবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ৩০ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ مَا أَتٰى رَسُوْلُ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدًا مِنْ نِسَائِهٖ إِلَّا مُتَقَنِّعًا يُرْخِي الثَّوْبَ عَلٰى رَأْسِهٖ حَيَاءً.
অর্থঃ “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখনই হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের কারো নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করতেন, তখন তিনি (সম্মানিত রুমাল মুবারক দিয়ে) মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মহাসম্মানিত মাথা মুবারক) ঢেকে আসতেন। তিনি মহাসম্মানিত ‘হায়া মুবারক উনার কারণে স্বীয় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মহাসম্মানিত মাথা মুবারক) উনার উপর কাপড় (সম্মানিত রুমাল মুবারক) পরিধান মুবারক করতেন।” (মুসনাদে আয়িশা, হাশীয়ায়ে আবূ দাঊদ শরীফ/২০৯)
উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে مُتَقَنِّعًا শব্দটি تَقَنُّعٌ শব্দ থেকে এসেছে। আর تَقَنُّعٌ শব্দের অর্থ হলো-
وَضْعُ شَيْئِ الزَّائِدِ عَلَى الرَّأْسِ فَوْقَ الْعِمَامَةِ.
অর্থঃ تقنع হলো মাথায় পাগড়ীর উপরে অতিরিক্ত একটি কাপড় অর্থাৎ রুমাল পরিধান করা।” (বুখারী শরীফ ২/৮৬৪, ফতহুল বারী ১০/২২৪, উমদাতুল কারী ২১/৩০৯)
تَقَنُّعٌ শব্দের ব্যাখ্যায় অন্যত্র বলা হয়েছে,
تَغْطِيَةُ الرَّأْسِ وَاَكْثَرُ الْوَجْهِ بِرِدَاءٍ اَوْ غَيْرِهٖ.
অর্থঃ “মাথা এবং চেহারার অধিকাংশে চাদর অথবা কোন কাপড় অর্থাৎ রুমাল দিয়ে ঢেকে রাখা।” (বুখারী শরীফ ২/৮৬৪, ফতহুল বারী ১০/২২৪, উমদাতুল কারী ২১/৩০৮)
এছাড়া অনেক মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের রুমাল মুবারক ব্যবহারের কথাও বর্ণনা করা হয়েছে।
(বুখারী শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল ক্বারী, ফতহুর রব্বানী, আউনুল মা’বুদ, মিরকাত শরীফ, লুময়াত, ত্বীবী, মুসনাদে আয়েশা শরীফ, নেহায়া, লুগাতুল হাদীছ, লিসানুল আরব, লুগাতে হিরা, মিছবাহুল লুগাত, মু’জামুল ওয়াসীত, কামুছ ইত্যাদি।)
আরো উল্লেখ্য, টুপি এবং পাগড়ীর ন্যায় রুমাল পরিধান করাও দায়িমী সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। নামাযের সময় এবং নামাযের বাইরের সময় উভয় অবস্থাতেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রুমাল মুবারক পরিধান করেছেন।
সুতরাং, রুমাল মাথায় দিয়ে চলাচল করা কিংবা নামায আদায় কালে রুমাল ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক। (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ হুসাইন নাফে
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খাওয়ার পর দাঁত খিলাল করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












