পবিত্র লাইলাতুর রাগায়িব শরীফ উনার মহত্ত্ব ও বড়ত্ব (১)
, ১রা রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৫ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ০২ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ১৭ পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
رغائب (রগায়িব) শব্দ মুবারকটি رغيب উনার বহুবচন। যার অর্থ কাঙ্খিত বিষয়, প্রচুর দান। (মিছবাহুল লুগাত-২৯৮)
পারিভাষিক বা ব্যবহারিক অর্থে- আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে মুবারক রাত্রিতে উনার সম্মানিত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ পবিত্র নূর মুবারক হিসেবে কুদরতীভাবে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন সেই মুবারক রাতকে ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ বলা হয়।
মধ্যরাতের পর থেকে ছুবহে ছাদিকের পূর্ব পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে তিনি তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। যা তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত বা সময়। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, “তাহাজ্জুদ নামায সমাপান্তে নির্জন অবস্থান খাছ সুন্নত বা সর্বোত্তম সময়। ”
হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “তোমরা পবিত্র রজব মাস উনার প্রথম জুমুয়াহ শরীফ সম্মানিত রাতটি গাফলতির সাথে অতিবাহিত করো না। কারণ হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ওই সম্মানিত রাত উনাকে ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ নামে আখ্যায়িত করেছেন। ” সুবহানাল্লাহ!
আর ওই মুবারক রাতটি যখন এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয় তখন আসমান-যমীনে যত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম আছেন উনারা সবাই পবিত্র কা’বা শরীফ-এ এবং উনার আশপাশে উপস্থিত হন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সম্বোধন করে বলেন, ‘হে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম! আপনাদের যা ইচ্ছা তা প্রার্থনা করতে পারেন। আমি অবশ্যই কবুল করবো। ’ হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তখন বলেন, ‘হে মহান আল্লাহ পাক! আমাদের প্রার্থনা এই যে, যারা পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসে রোযা রাখবে তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিন। ’ তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম। ’ সুবহানাল্লাহ! (গুনিয়াতুত ত্বলিবীন ৩৩১)
মুহইউস সুন্নাহ ওয়াশ শরীয়াহ, মাহিউল বিদয়াত ওয়াদ দলালাহ, কাশিফুল আসরার খফী ওয়াল জলী হযরত মাওলানা শাহ কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব, “বারাহীনুল ক্বতইয়াহ ফী মাওলিদী খাইরিল বারীয়াহ” উনার ৭৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ উনাকে পবিত্র লাইলাতুল বরাত ও পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর উনাদের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাসম্পন্ন বলে ফতওয়া দিয়েছেন। কারণ পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার ১ম জুমুয়াহ শরীফ রাতে যেরূপ রহমত, বরকত, বুযূর্গী, সম্মান, দয়া-দান, ইহসান ও সৌভাগ্য সারা কায়িনাত এবং মু’মিনগণ পেয়ে থাকেন, এবং তাদের উপর বর্ষিত হতে থাকে তা অতীতে কোনো সময়ে হয়নি; এমনকি ক্বিয়ামত পর্যন্ত অন্য কোনো সময় তা হবে না। সুবহানাল্লাহ!
এ কারণে এই পবিত্র রাত (পবিত্র লাইলাতুর রাগায়িব শরীফ)কে, পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, পবিত্র লাইলাতুল বরাত হতে অত্যধিক ফযীলতপূর্ণ বলে গণ্য করতে হবে। এ মতের সমর্থনে হক্কানী-রব্বানী আলিমগণ উনারা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। (মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া শরীফ, ১/২৬ পৃষ্ঠা)
মুহইস সুন্নাহ ওয়াশ শরীয়াহ, মাহিউল বিদয়াত ওয়াত দালালহ, কাশিফে আসরারে খফী ওয়া জলী হযরত মাওলানা শাহ কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘বারাহিনুল ক্বতইয়াহ ফী মাওলিদি খাইরিল বারিয়াহ’ উনার ৭৮ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ করেছেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে যে, এই সম্মানিত রাতে মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে ও হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জগতে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, পবিত্রতম নূর মুবারক দ্বারা সারা কায়িনাত (জগৎ) আলোকিত করে দাও। তাই আসমান-যমীনের সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মহাখুশিতে বিভোর হয়ে গিয়েছিলেন। সর্বোত্তম জান্নাত জান্নাতুল ফিরদাউসের দরজা খুলে দেয়ার জন্য জান্নাতের দ্বাররক্ষী হযরত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সারা কায়িনাতকে বিভিন্ন প্রকার খুশবু দ্বারা সুগন্ধিযুক্ত করার হুকুম ছিল। আকাশের সকল স্তরে এবং পৃথিবীর সকল ঘরে ঘরে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মুবারক রাতে উনার আম্মা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নিবেন। তিনি তো সবকিছুর মূল। অর্থাৎ উনাকে উপলক্ষ করে সারা কায়িনাতের সবকিছুই সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তিনি সব রহমত, বরকত, মাগফিরাত সাকীনাহ, সম্মান, মর্যাদা-মর্তবা, নূর, গুপ্ত রহস্যাবলী, হাক্বীক্বত, মা’রিফাত, মুহব্বত জাহির বা প্রকাশিত হওয়ার মূল উৎস। গোটা সৃষ্টি জগৎ উনার পবিত্র অজুদ পাক বা মুবারক অস্তিত্ব মুবারক হতে সৃষ্টি হয়েছে এবং যিনি সমস্ত আদম জাতির মূল। তিনি অচিরেই দুনিয়াতে মুবারক তাশরীফ নিবেন। সারা কায়িনাতকে তিনি সম্মান-মর্যাদা দ্বারা খুশি ও আনন্দিত করবেন। ’ সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া শরীফ, ১/১৯, সীরাতে ইবনে হিশাম, ১/১৪৫)
-সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালিম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












