পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারকসমূহ-৩
, ০৭ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২৭ আউওয়াল, ১৩৯১ শামসী সন , ২৬ জুন, ২০২৩ খ্রি:, ১২ আষাঢ়, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার দশম রাত্রি অর্থাৎ পবিত্র কুরবানির ঈদের রাত্রি দুআ কবুুুলের বিশেষ রাত। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
قَالَ الشَّافِعِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَبَلَغَنَا أَنَّهُ كَانَ يُقَالُ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الدُّعَاءَ يُسْتَجَابُ فِى خَمْسِ لَيَالٍ فِى لَيْلَةِ الْجُمُعَةِ وَلَيْلَةِ الأَضْحَى وَلَيْلَةِ الْفِطْرِ وَأَوَّلِ لَيْلَةِ مِنْ رَجَبٍ وَلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ.
অর্থ: হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন,“পাঁচ রাতে নিশ্চিতভাবে দুআ কবুল হয়- এক. পবিত্র জুমুয়ার রাত, দুই. ঈদুল আযহার রাত, তিন. ঈদুল ফিতরের রাত, চার. রজব মাসের পহেলা রাত, পাঁচ. বরাতের রাত।” (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, জাওহারুন নাক্বী টিকা ৩/৩১৯)
কাজেই বিশেষ পাঁচটি রাতের মধ্যে ঈদের রাত একটি। এর দিনটিও অশেষ রহমত, বরকত, সাকীনাপূর্ণ।
তাই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- ঈদের রাতে ও দিনে পবিত্র দুরূদ শরীফ, পবিত্র মীলাদ শরীফ-ক্বিয়াম শরীফ, যিকির-ফিকির, তওবা-ইস্তিগফার ইত্যাদি ইবাদত-বন্দিগীর মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের খাছ রেযামন্দী হাছিলের কোশেশ করা।
তাকবীরে তাশরীক শরীফ
পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার একটি বিশেষ মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক হলো আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলোতে তাকবীর পাঠ করা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَّعْدُودَاتٍ.
অর্থ: তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে স্মরণ করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: ২০৩)
এখানে আইয়্যামে তাশরীকের পাঁচ দিন অর্থাৎ পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার নয় তারিখ ‘আরাফার দিন' থেকে তের তারিখ পর্যন্ত এই দিনগুলোতে প্রতি ফরয নামাযের পর তাকবীর পাঠের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনাকে বিশেষভাবে স্মরণ করতে বলা হয়েছে।
এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حضرت يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ خَرَجَ الْغَدَ مِنْ يَوْمِ النَّحْرِ حِينَ ارْتَفَعَ النَّهَارُ شَيْئًا فَكَبَّرَ فَكَبَّرَ النَّاسُ بِتَكْبِيرِهِ ثُمَّ خَرَجَ الثَّانِيَةَ مِنْ يَوْمِهِ ذَلِكَ بَعْدَ ارْتِفَاعِ النَّهَارِ فَكَبَّرَ فَكَبَّرَ النَّاسُ بِتَكْبِيرِهِ ثُمَّ خَرَجَ الثَّالِثَةَ حِينَ زَاغَتْ الشَّمْسُ فَكَبَّرَ فَكَبَّرَ النَّاسُ بِتَكْبِيرِهِ حَتَّى يَتَّصِلَ التَّكْبِيرُ وَيَبْلُغَ الْبَيْتَ فَيُعْلَمَ أَنَّ عُمَرَ قَدْ خَرَجَ يَرْمِي.
অর্থ : হযরত ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুনা হযরত ফা‘রুকে ‘আযম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার ১০ তারিখ (বিশুদ্ধ মতে, ৯ তারিখ) একটু বেলা হয়ে এলে তাকবীর পড়া শুরু করেন। উনার সঙ্গে মুসলমানগণও তাকবীর বলতে শুরু করেন। পরের দিন তিনি একটু বেলা হয়ে এলে তাকবীর পড়া শুরু করেন এবং মুসলমানগণও তখন পড়া শুরু করেন। তৃতীয় দিন সূর্য হেলে যাওয়ার পর তিনি তাকবীর বললেন। মুসলমানগণ তখনও তাকবীর বললেন। মুসলমান উনাদের সমস্বরে তাকবীর বলার এই আওয়ায পবিত্র মক্কা শরীফ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়। অন্যান্য মানুষ তখন বুঝতে পারে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি প্রস্তর নিক্ষেপের (রমীয়ে জামরাহ্) জন্য রওয়ানা হয়ে গেছেন। (হাদীছ শরীফটি ইমাম মালিক রমতুল্লাহি আলাইহি এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَلِيّ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَنَّهُ سَمِعَ النبي ﷺ يَقُولُ التَّكْبِيرُ دُبُرَ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَاتِ .
অর্থ : হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছেন, “তাকবীর হলো প্রত্যেক ফরয নামাযের পর।”
তাকবীরে তাশরীক পাঠের নিয়মাবলী:
এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
أَنَّهُ كَانَ حَضْرَتْ عَلِيّ عَلَيْهِ السَّلَامُ يُكَبِّرُ بَعْدَ صَلوةِ الْفَجْرِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ إِلى صَلوةِ الْعَصْرِ مِنْ أَخِرِ أَيَّامِ التَّشْرِيْقِ يَقُوْلُ اللهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَ اللهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ. )ابن ابي شيبه(
অর্থ : নিশ্চয়ই হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আরাফার দিন ফজর নামাযের পর থেকে ১৩ তারিখ আছর নামায পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করতেন। তিনি বলতেন-
اللهُ أَكْبَرُ ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَ اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: আল্লাহু আক্ববার, আল্লাহু আক্ববার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লোহু আক্ববার, আল্লাহু আক্ববার, ওয়া ল্লিল্লাহিল হাম্দ।
উল্লেখ্য, শহরে, গ্রামে-গঞ্জে, মুক্বীম-মুসাফির, পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য মোট এই তেইশ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর উপরোক্ত তাকবীরটি একবার পাঠ করা ওয়াজিব আর তিনবার পাঠ করা মুস্তাহাব। তাই কারো এই ২৩ ওয়াক্তের কোনো ওয়াক্ত নামায ক্বাযা হলে আর তা এই ২৩ ওয়াক্তের মধ্যে আদায় করলে এর সাথে তাকবীরও আদায় করে নিতে হবে। তবে এই ২৩ ওয়াক্তের ক্বাযা নামায পরবর্তীতে আদায় করলে তাকবীর ক্বাযা আদায় করতে হবে না। আবার এই ২৩ ওয়াক্তের মধ্যে আগের ক্বাযা নামায আদায়ের সময়ও এই তাকবীর পাঠ করতে হবে না।
(অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ ইমরান হুসাইন শাহী
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












