পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারকসমূহ-২
, ০৬ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২৬ আউওয়াল, ১৩৯১ শামসী সন , ২৫ জুন, ২০২৩ খ্রি:, ১১ আষাঢ়, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ سيدتنا حضرت ام المؤمنين السادسة عليها السلام عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَأَى هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ، فَأَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يَأْخُذْ مِنْ شَعْرِهِ وَلَا مِنْ أَظْفَارِهِ حَتَّى يُضَحِّيَ.
অর্থ : সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখলো এবং পবিত্র কুরবানী করার ইচ্ছা করলো, সে যেন (পবিত্র কুরবানী করা পর্যন্ত) তার শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটে। (নাসায়ী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حضرت عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللهُ تَعَالَي عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى عِيْدًا جَعَلَهُ اللَّهُ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ قَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا مَنِيْحَةً أُنثَى أَفَأَضْحِيَّ بِمَا قَالَ لَا وَلَكِنْ خُذْ مِنْ شَعْرِكَ وَأَظْفَارِكَ وَتَقُصُّ شَارِبَكَ وَتَخْلِقُ عَانَتَكَ فَذَلِكَ تَمامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللهِ. )ابو داود شريف(
অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি এই মর্মে আদিষ্ট হয়েছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী উনার দিনকে ঈদ সাব্যস্ত করেছেন।” এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কী সিদ্ধান্ত মুবারক দেন অর্থাৎ আপনার সম্মতি মুবারক কি, যদি আমি মানিহায়ে উনসা (দুধ খাওয়ার জন্য অন্যের দেয়া উটনী) ব্যতীত আর কোন পশু না পাই, তবে কি সেটাই কুরবানী করব? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, না; বরং আপনি (পবিত্র কুরবানীর পর) আপনার চুল, নখ কাটবেন, গোঁফ খাটো করবেন এবং পশম কাটবেন তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট একটি পূর্ণ কুরবানীর ছওয়াব লাভ করবেন।” অর্থাৎ আপনি পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার শুরু থেকে পবিত্র কুরবানীর দিন কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত আপনার চুল, গোফ, নখ ইত্যাদি কিছুই কাটবেন না। তাহলে আপনি একটি পূর্ণ কুরবানীর ছওয়াব লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ)
উল্লেখ্য, মানিহায়ে উনসা হলো এমন গাভী বা উটনী যেগুলো ক্রয় করা ব্যতীত মালিকের কাছ থেকে শুধুমাত্র দুধ পান করার শর্তে নেয়া হয়। যে ব্যক্তি শুধুমাত্র দুধ পান করার শর্তে নিয়েছে, সে এ ধরনের পশু কুরবানী করতে পারবে না। কেননা এই পশু তার মালিকানায় থাকে না। আর কুরবানীর জন্য মালিকানা থাকা শর্ত।
কাজেই এ পবিত্র মাসের চাঁদ উঠার পূর্বেই সকলের নিজ নিজ চুল, মোছ, নখ, পশম ইত্যাদি কেটে ফেলতে হবে এবং ১০ই যিলহজ্জ শরীফ উনার পূর্ব পর্যন্ত এগুলো কিছুই কাটা যাবে না। তাহলে একটি পূর্ণ কুরবানীর ছওয়াব লাভ করা যাবে।
এ পবিত্র মাসে বিবাহ করা মহাসম্মানিত খাছ সুন্নত মুবারক
বিবাহ-শাদীর আরেকটি মহাসম্মানিত সুন্নতী মাস হলো, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস। কেননা এ পবিত্র মাসের ২৬ তারিখ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু‘মিনীন আল খামিসাহ আলাইহাস সালাম অর্থাৎ উম্মতের যিনি পঞ্চম আম্মাজান উনার এবং ২৮ তারিখ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু‘মিনীন আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম অর্থাৎ উম্মতের যিনি অষ্টম আম্মাজান উনার অর্থাৎ উনাদের পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি এ পবিত্র মাসের ২ তারিখ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবি‘য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার এবং ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ! কাজেই এ পবিত্র মাসে বিহাহ-শাদী করলে খাছ সুন্নত মুবারক আদায় হবে।
৯ তারিখ ইয়াওমুল আ’রাফা শরীফ
পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার ৯ তারিখ হজ্জকারীদের আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি এই পবিত্র দিনে নিজের এবং পরিবারের সকলের জন্য দুআ করা মহাসম্মানিত খাছ সুন্নত মুবারক। কারণ এই দিনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মতের জন্য, সর্বত্র পবিত্র দ্বীন-ইসলাম উনার বিধি-বিধান, হুকুম-আহকাম জারী হওয়ার জন্য এবং বাতিল ফিরক্বা, কাফির-মুশরিকদের ধ্বংসের জন্য মহাসম্মানিত দুআ মুাবরক করেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِهِ أَنَّ النَّي ﷺ قَالَ خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ. (رواه الترمذي)
অর্থ: হযরত আমর বিন শুয়াইব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা থেকে, তিনি উনার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “শ্রেষ্ঠ দুআ হচ্ছে আরাফার দিনের দুআ।”(তিরমিযী শরীফ)
কাজেই, আরাফার দিন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট নিজের কামিয়াবীর জন্য, সর্বত্র পবিত্র দ্বীন-ইসলাম উনার বিধি-বিধান, হুকুম-আহকাম জারী হওয়ার জন্য এবং বাতিল ফিরক্বা, কাফির-মুশরিকদের ধ্বংসের জন্য দুআ করতে হবে। আর যে ব্যক্তি আরাফার দিন দুআ-ইস্তেগফার করবে সে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা এবং সন্তুষ্টি মুবারকপ্রাপ্ত হবে।
(অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ ইমরান হুসাইন শাহী
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুছাফাহা করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। যা গুনাহ মাফের মাধ্যম
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
খেজুর ও তরমুজ একত্রে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৪)
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৩)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (১)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












