পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে হালাল ও হারাম উভয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে (১৩)
, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র সুন্নত উনার ইহানত করা হারাম
খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো বা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হাছিল করতে চাও, তবে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের মুহব্বত করবেন এবং তোমাদের গুনাহখাতা ক্ষমা করে দিবেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যধিক ক্ষমাশীল ও দয়ালু। ” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়িয়ে ধরো এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাকো। ” (পবিত্র সূরা হাশর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مَنْ أَحْيَا سُنَّتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ
অর্থ: “যে ব্যক্তি আমার সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করলো, সে যেন আমাকেই মুহব্বত করলো আর যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত করলো, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। ” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ মুবারকগুলি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পালন করতে হবে। আর উনার সুন্নত মুবারক যে আঁকড়িয়ে ধরবে তার জন্য বিশেষ মর্যাদা রয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে একটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
من تمسك بسنتى عند فسد امتى فله اجر مأت شهيد
অর্থ: “আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি ফিতনা-ফাসাদের যামানায় একটিমাত্র সুন্নত মুবারক উনাকে আঁকড়ে ধরবে, সে একশত শহীদ উনার ছাওয়াব লাভ করবে। ” সুবহানাল্লাহ!
এখন আমরা জানি, একজন শহীদ উনার ছাওয়াব অনেক। তাহলে একশত শহীদ উনাদের ছাওয়াব তো আরো অধিক। এখন আমরা যদি একশত শহীদ উনাদের ছাওয়াব পেতে চাই, তাহলে আমাদেরকে পবিত্র সুন্নত মুবারক উনাকে দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে হবে। আর সুন্নত মুবারক উনাকে অনুসরণের দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে জান্নাতে অবস্থানের সৌভাগ্য লাভ করা যায়। সুবহানাল্লাহ! আর সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণে আমল করলে সেই আমলের অনেক ফযীলত রয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার গুরুত্ব কত বেশী তা বোঝাতে গিয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদুহ মুর্শিদ ক্বিবলা হযরত ইমাম খলীফাতুল্লাহ আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সমস্ত কায়িনাতের আমল যদি এক পাল্লায় রাখা হয় আর পবিত্র সুন্নত মুবারক যদি অপর পাল্লায় রাখা হয়, তাহলে সুন্নত মুবারক উনার পাল্লা ওজনে বেশি ভারী হবে। সুবহানাল্লাহ!
শুধু তাই নয়, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সুন্নত মুবারক উনাদের অনেক ফাযায়িল-ফযীলত বর্ণিত রয়েছে সুন্নত মুবারক উনাদেরকে অনুসরণের ফলে
(১) রহমত লাভ করা যায়।
(২) হিদায়েত লাভ করা যায়।
(৩) সবকাজে সফলতা অর্জন করা যায়।
(৪) একশত শহীদ উনাদের ছাওয়াব লাভ করা যায়।
(৫) সুমহান জান্নাত নছীব হয়।
(৬) মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি হাছিল করা যায়। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের প্রধান ও একমাত্র মহান মাধ্যম হচ্ছেন সম্মানিত সুন্নত মুবারক। অর্থাৎ সুন্নত উনাকে আদায় করা মানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুকরণ অনুসরণ করা, মূলত, সুন্নত উনাকে পালন করার নামই সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করা। আর যে ব্যক্তি সুন্নত উনাকে মুহব্বত করতে পারবে সে অবশ্যই যিনি মুহব্বতের কেন্দ্রস্থল, যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করতে পারবে।
অতএব, একজন বান্দা-বান্দীর জন্য দুনিয়ার সকল আমলের চেয়ে একটি সুন্নত মুবারক উনার ফযীলত লক্ষ-কোটিগুণেরও বেশি। পাশাপাশি নিয়ামত লাভের অন্যতম মহান মাধ্যম। তাই সুন্নত মুবারক উনার আমল ব্যতীত মুখেমুখে মুহব্বত করলে কখনো কামিয়াবী অর্জন করা সম্ভব নয়। কাজেই পবিত্র সুন্নত উনার ইহানত করা হারাম।
-আল্লামা নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












