ইলমে তাছাওউফ
পবিত্র দশ লতিফা উনাদের বিবরণ
, ২৩ জুমাদাল উলা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৯ সাবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ০৮ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উল্লিখিত লতিফাসমূহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত এবং প্রত্যেকটি লতিফাই এক একটি নেক খাছলতের মাক্বাম। যেমন-
(১) ক্বল্ব্ : বাম স্তনের দু’আঙ্গুল নিচে অবস্থিত। আর ক্বলব হচ্ছে তওবার মাক্বাম। অর্থাৎ সালিক যখন ক্বলবের সবক আদায় করে, তখন সে পাপ বা নাফরমানী থেকে ফিরে আসে। তওবার বিপরীত হচ্ছে পাপ বা নাফরমানীর মধ্যে মশগুল থাকা। অর্থাৎ যার তওবার মাক্বাম হাছিল হবে না, সে পাপ বা নাফরমানীতে মশগুল থাকবে।
(২) রূহ : ডান স্তনের দু’আঙ্গুল নিচে অবস্থিত। রূহ হচ্ছে ইনাবতের মাক্বাম। অর্থাৎ নেক কাজের দিকে রুজু হওয়া, আর এর বিপরীত হচ্ছে পাপ বা নাফরমানীর দিকে রুজু হওয়া। অর্থাৎ যার ইনাবতের মাক্বাম হাছিল হবে না, সে পাপের দিকে রুজু হবে।
(৩) সির : বাম স্তনের দু’আঙ্গুল উপরে, ঈষৎ বক্ষের দিকে অবস্থিত। সির লতিফা যুহদের মাক্বাম। অর্থাৎ দুনিয়া বিরাগী হওয়া, আর এর বিপরীত হচ্ছে দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত থাকা। অর্থাৎ যে ব্যক্তির যুহদের মাক্বাম হাছিল হবে না, সে দুনিয়াদারীর মধ্যে গরক্ব (ডুবে) থাকবে।
(৪) খফি : ডান স্তনের দু’আঙ্গুল উপরে, ঈষৎ বক্ষের দিকে অবস্থিত। খফী লতিফা অরা’ বা পরহেযগারীর মাক্বাম। অর্থাৎ সন্দেহজনক বস্তু হতে বিরত থাকা। অরা’ বা পরহেযগারীর বিপরীত দিক হচ্ছে সন্দেহজনক বস্তুর মধ্যে মশগুল থাকা। অর্থাৎ এ মাক্বাম হাছিল না হওয়া পর্যন্ত সে সন্দেহজনক বস্তুর মধ্যে মশগুল থাকবে।
(৫) আখফা : বক্ষস্থলের মাঝখানের কড়ার নিচে অবস্থিত। আখফা হলো শোকর গুজারীর মাক্বাম। অর্থাৎ এ মাক্বাম হাছিল হওয়ার কারণে যথাযথভাবে নিয়ামতসমূহের শোকরিয়া আদায় করা সম্ভব। এছাড়া যথাযথ শুকরিয়া আদায় করা সম্ভব নয় বরং নাশোকরী করবে। অর্থাৎ শোকরের মাক্বাম হাছিল না হলে, সে সর্বদাই নাশোকরী করবে।
(৬) নফ্স্ : পেশানীতে অর্থাৎ সিজদার স্থানে অবস্থিত। নফস হলো তাওয়াক্কুলের মাক্বাম অর্থাৎ পরিপূর্ণরূপে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করা। আর এর বিপরীত হলো গইরুল্লাহর উপর ভরসা করা। অর্থাৎ তাওয়াক্কুলের মাক্বাম হাছিল না হওয়া পর্যন্ত সে গইরুল্লাহর উপর ভরসা করবে।
(৭) আব (পানি) : সমস্ত শরীরেই অবস্থিত। আব লতিফা ক্বনায়াতের মাক্বাম। অর্থাৎ অল্পে তুষ্ট থাকা। ক্বনায়াতের বিপরীত দিক হলো অতি লোভী ও অলস হওয়া। অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ মাক্বাম হাছিল করতে পারবে না, সে অতি লোভী ও অলস হবে।
(৮) আতেশ (আগুন) : সমস্ত শরীরে অবস্থিত। আতেশ লতিফা তাসলীমের মাক্বাম। অর্থাৎ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার আহকামসমূহকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়া বা পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ করা। আর এর বিপরীত হচ্ছে বাগী বা বিদ্রোহী হওয়া ও বদ মেজাজী হওয়া। অর্থাৎ তাসলীমের মাক্বাম হাছিল না হওয়া পর্যন্ত সে বিদ্রোহী ও বদ মেজাজী হবে।
(৯) খাক (মাটি) : সমস্ত শরীরে অবস্থিত। ইহা রিদ্বার মাক্বাম অর্থাৎ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাজের উপর বা তক্বদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকা বা বিনয়ী হওয়া। আর এর বিপরীত দিক হচ্ছে তক্বদীরের ফায়ছালা অমান্য করা ও খারাপ উদ্দেশ্যে বিনয়ী ভাব প্রকাশ করা। অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ মাক্বাম হাছিল করতে পারবে না, সে তক্বদীর অমান্যকারী ও অহঙ্কারী হবে।
(১০) বাদ (বাতাস) : সমস্ত শরীরের মধ্যে অবস্থিত। বাদ লতিফা ছবরের মাক্বাম। অর্থাৎ সর্বাবস্থায় ধৈর্যধারণ করা। আর এর বিপরীত হচ্ছে সর্বক্ষেত্রে অধৈর্য বা অস্থিরচিত্ত হওয়া ও ভোগ-বিলাসিতায় মশগুল থাকা। অর্থাৎ এ মাক্বাম হাছিল না হলে, সে অধৈর্য বা অস্থিরচিত্ত হবে ও ভোগ বিলাসিতায় মশগুল থাকবে।
উল্লেখ্য, শেষ চারটি লতিফাকে “আরবায়ে আনাছের” বলে, যদ্বারা মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
অন্তর পরিশুদ্ধ করতে হলে বদ খাছলতসমূহ অন্তর থেকে দূর করে নেক খাছলতসমূহ অন্তরে পয়দা করতে হবে। তাই শুধুমাত্র এ বিষয়গুলো মুখস্থ করলেই বা তার পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করলেই অন্তরের ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া বা পবিত্র ইলমে তাছাওউফ অর্জন করা সম্ভব নয়, বরং সাথে সাথে ক্বলবী যিকির করা বা পবিত্র তরীক্বা উনার সবকসমূহ আদায় করা একান্ত কর্তব্য, তবেই ইছলাহ বা পরিশুদ্ধতা লাভ করা সম্ভব।
যেমন- কোনো রোগী যদি ডাক্তারের দেয়া ব্যবস্থাপত্রের শুধু নিয়ম-কানুনই মুখস্থ করে, কিন্তু সে অনুযায়ী ওষুধ না খায়, তবে সুস্থতা লাভ করতে পারবে না।
বিশেষ করে ক্বলবী যিকির ব্যতীত অন্তর পরিশুদ্ধ করা অর্থাৎ বদ স্বভাব বর্জন ও নেক স্বভাব অর্জনসহ হুযূরী হাছিল করা সম্পূর্ণই অসম্ভব। অথচ পবিত্র নামাযসহ সকল ইবাদত-বন্দেগী যথাযথ আদায় করতে হলে এবং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ রেযামন্দী মুবারক হাছিল করতে হলে অন্তর পরিশুদ্ধ করা ও হুযূরী ক্বলব হাছিল অর্থাৎ ক্বলবে দায়িমীভাবে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির মুবারক জারি করা একান্ত অপরিহার্য।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৮)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৮)
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৭)
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুহব্বতের বদলার ধরনটা কি রকম হতে পারে? (১)
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












