ইলমে আরূজী অর্থাৎ ছন্দ প্রকরণ সংশ্লিষ্ট আদব (১৬..)
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে গান-বাজনার শরয়ী ফায়ছালা
, ০৫ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২৬ হাদি ‘আশির, ১৩৯০ শামসী সন , ২৬ এপ্রিল, ২০২৩ খ্রি:, ১৩ বৈশাখ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(পূর্ব প্রকাশিত পর)
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার উপরোক্ত তিনখানা পবিত্র আয়াত শরীফ ও উনাদের ব্যাখ্যামূলক আলোচনা দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, সঙ্গীত বা গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি করা ও শোনা সম্পূর্ণ হারাম ও কবীরা গুনাহ। গান-বাজনা ও বাদ্য-যন্ত্র হারাম হওয়া সম্পর্কে অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফও বর্ণিত রয়েছে, যেমন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عمر رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِسْتِمَاعُ الْـمَلاَهِىْ مَعْصِيَةُ وَّالْـجُلُوْسُ عَلَيْهَا فِسْقٌ وَّالتَّلَذُّذُ بِـهَا مِنَ الْكُفْرِ
অর্থ : “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, গান শোনা গুনাহের কাজ, গানের মজলিসে বসা ফাসিকী এবং গানের স্বাদ গ্রহণ করা কুফরী।” (বাহরুর রায়িক, মাবসূত)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَةْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْغِنَاءُ يُنْبِتُ النِّـفَاقَ فِى الْقَلْبِ كَمَا يُنْبِتُ الْـمَاءُ الزَّرْعَ
অর্থ : “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পানি যেরূপ যমীনে ঘাস উৎপন্ন করে গান-বাজনা তদ্রƒপ অন্তরে মুনাফিকী পয়দা করে।” (বায়হাক্বী ফী শুয়াবিল ঈমান শরীফ)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সুস্পষ্টভাবে ইরশাদ মুবারক করেন-
عَنْ حَضْرَتْ مجاهد رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بُعِثْتُ لِكَسْرِ الْـمَزَامِيْرِ وَالْاَصْنَامِ
অর্থ : “হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি বাদ্য-যন্ত্র ও মুর্তি-ছবি ধ্বংস করার জন্যে প্রেরিত হয়েছি।” (তাফসীরে রূহুল বয়ান)
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت نافع رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قال كنت مع حَضْرَتْ ابن عمر رضى الله تعالى عنه فى طريق فسمع مزمارا فوضع اصبعيه فى اذنيه وناعن الطريق الى الـجانب الاخر ثـم قال لى بعد ان بعد يا نافع رضى الله تعالى عنه هل تسمع شيئا قلت لا فرفع اصبعيه من اذنيه قال كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فسمع صوت يراع فصنع مثل ما صنعت قال نافع رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ و كنت اذ ذاك صغيرا
অর্থ : হযরত না’ফে রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কোন এক পথে আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার সাথে ছিলাম। এ সময় তিনি বাঁশীর সুর শুনতে পেলেন। তখনই তিনি নিজের দু অঙ্গুলী মুবারক দু কান মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দিলেন এবং সে রাস্তা হতে অপর রাস্তা দিয়ে সরে গেলেন। বহুদূর যাওয়ার পর আমাকে বললেন, হে নাফে’ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু! এখন কি আপনি কোন কিছু শুনতে পান? আমি বললাম, না। এবার তিনি উভয় কান মুবারক হতে অঙ্গুলী মুবারক সরিয়ে ফেললেন।
অতঃপর বললেন, একবার আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ছিলাম, তখন তিনি (কোথাও হতে) বাঁশীর আওয়াজ শুনতে পেলেন এবং আমি যা করেছি তিনিও তা করলেন। হযরত নাফে’ রদ্বিয়ল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বলেন, তখন আমি ছোট ছিলাম। (আহমদ ও আবূ দাঊদ শরীফ) অর্থাৎ যে বাঁশীর সুর আমাদের প্রিয় নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘৃণা করেছেন এবং যাকে শয়তানের বাদ্যযন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনাদের থেকে শুরু করে পরবর্তী সর্বযুগের ইমাম ও ফকীহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা যাকে হারাম বলে ফতওয়া দিয়েছেন, তাকে চিত্ত-বিনোদনের নামে গ্রহণ করে নেয়ার কোন অবকাশ নেই। বরং তা সম্পূর্ণ হারাম।
স্মর্তব্য যে, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে হযরত ইমাম-মুজাতাহিদ তথা হযরত ফুক্বাহায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা ফতওয়া দেন যে, গান-বাজনা বা বাদ্য-যন্ত্র সম্পূর্ণই হারাম। এটাকে হালাল বলা কুফরী।
যেমন আল্লামা শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে আযীযী”-এর ১ম খন্ডের ৬৫ পৃষ্ঠায় লিখেন-
درمغنی گفتہ کہ لھو الحدیث غناء است واں حرام است بایں نص و مستحل اں کافر است
অর্থ : “মুগনী” কিতাবে উল্লেখ আছে, لـهو الـحديث হচ্ছে- গান-বাজনা, সঙ্গীত। এ পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা তা হারাম সাব্যস্ত হয়েছে। যে ব্যক্তি এটাকে হালাল জানবে সে কাফির হবে।”
“জামিউল ফতওয়াতে” উল্লেখ আছে-
استماع الـملاهى والـجلوس عليها وضرب الـمزامير والرقص كلها حرام ومستحلها كافر
অর্থ : “গান-বাজনা শ্রবন করা, গান-বাজনার মজলিসে বসা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, নর্ত্তন-কুর্দ্দন করা সবই হারাম। যে ব্যক্তি এগুলোকে হালাল মনে করবে সে ব্যক্তি কাফির।”
অনুরূপ প্রায় সকল ফিক্বাহের কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে। সুতরাং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের সংক্ষিপ্ত দলীল দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি সব হারাম ও নাজায়িয। এগুলোকে হালাল মনে করা কাট্টা কুফরী। কাজেই কোন অবস্থাতেই গান-বাজনা করা ও শোনার অনুমতি সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে নেই তা যে কোন প্রকার গানই হোক না কেন।
কেউ কেউ বলে সুলতানুল হিন্দ, খাজা গরীবে নেওয়াজ, খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গান-বাজনা করেছেন। (নাঊযুবিল্লাহ) যারা এরূপ বলে তারা উনার উপর চরম মিথ্যা তোহ্মত দেয়। কারণ তিনি ছিলেন মহান আল্লাহ্ পাক উনার খাছ ওলী তথা “হাবীবুল্লাহ্”। যিনি সারা জীবন সম্মানিত সুন্নত উনার পুরিপূর্ণ অনুসরন-অনুকরণ করেছেন। উনার পক্ষে কি করে হারাম গান-বাজনা করা সম্ভব?
বিদ্য়াতীরা এ ব্যাপারে একটি দলীলও পেশ করতে পারবে না। তবে সুলতানুল হিন্দ, খাজা গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “সামা” পাঠ করেছেন। আর বিদ্য়াতী, ভন্ড ও গুমরাহ ফক্বীরেরা এটাকেই প্রচার করছে গান-বাজনা বলে। অথচ গান-বাজনার সাথে “সামা” উনার বিন্দুমাত্রও মিল নেই।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৬)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি; অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির (১২)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শরীয়ত বিরোধী কাজ দেখলেই বাধা দেয়া ঈমানের আলামত
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন উনার অপরিহার্য অংশ- ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডার “আত তাক্বউইমুল কামারী” {১}
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












