পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১২)
, ১৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৮ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১৭ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়ের ফায়ছালা:
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
নাক, কান ছিদ্র করা:
রোযা রেখে কেউ যদি গহনা পরিধানের জন্য নাক, কান ছিদ্র করে, তবে রক্ত বের হলেও রোযা ভঙ্গ হবে না কিন্তু তাতে যদি মলম লাগনো হয়, (ointment - যেগুলোতে ওষুধ রয়েছে) তবে রোযা ভঙ্গ হবে।
দাঁত তোলা:
রোযা রেখে, স্থানিক চেতনানাশক (local anesthesia) ছাড়া দাঁত তুললে রোযা ভঙ্গ হবে না। তবে যদি কিছু পরিমাণ রক্ত ভিতরে চলে যায়, রোযা ভঙ্গ হবে। কিন্তু স্থানিক চেতনানশক দিয়ে দাঁত তুললে রোযা ভঙ্গ হবে।
ইনসুলিন গ্রহণ:
এমন অনেক রোগী আছেন, যারা রোযা না রাখার মত অসুস্থ নন কিন্তু রোযা রাখার সামর্থ থাকলেও ওষুধ গ্রহণেরও প্রয়োজন পড়ে। যেমন ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইন্জেকশন। সেক্ষেত্রে ইনসুলিন গ্রহণের সময়সীমা পরিবর্তন করে সুফল পাওয়া যাবে। কিন্তু রোযা রেখে ইনসুলিন নিলে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হবে।
রেডিও থেরাপি (Radio Therapy):
রেডিও থেরাপি দেয়া হয়, সাধারণতঃ দু’টি প্রধান পদ্ধতিতে- (১) টেলিথেরাপি (Tele therapy), (২) ব্রেকি থেরাপি (Bracy therapy)। এ দু’টো পদ্ধতিতে বিশেষতঃ দু’টি রশ্মি ব্যবহৃত হয়- গামা রশ্মি (γ-ray) এবং বিটা রে (β-ray) রেডিও থেরাপিতে যে সকল তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়, তাদের মধ্যে কোবাল্ট-৬০, সিজিয়াম-১৩৭, রেডিয়াম, ইররিডিয়াম, ষ্ট্রনিয়াম, ফসফরাস, ইট্রিয়াম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। রেডিও থেরাপি এক্সরে প্রয়োগের মাধ্যমেও দেয়া হয়। তবে সেখানে অনেক উচ্চ মাত্রার এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। এই পদ্ধতিতে রশ্মি ব্যবহৃত হয় বলে রেডিও থেরাপি প্রয়োগে রোযার কোন ক্ষতি হবেনা।
মেডিসিনাল পেচ (Patch):
মেডিসিনাল পেচ সাধারণতঃ বিভিন্ন রোগের জন্য বিভিন্ন উপাদানের তৈরী হয়ে থাকে। মাথা ব্যাথা, বুকের ব্যাথা, বাতের ব্যাথা এ সকল রোগের জন্য বিভিন্ন রকমের পেচ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি পেচ নিয়ে আলোচনা করা হলো-
বুকের ব্যাথা: বুকের ব্যাথায় অনেক সময় হৃৎপিন্ডের কৌশিক নালী সংকুচিত হলে সেখানে রক্ত সঞ্চালন কম হয়, ফলে ব্যাথা উঠে। সে ক্ষেত্রে আইসোসরবাইড-ডাইনাইট্রেট পেচ ব্যবহার করলে ব্যাথা কমে যায়। কেননা কৌশিক নালী সম্প্রসারিত হয়। রক্তে ওষুধের শোষন না হলে এটা সম্ভব নয়।
বাতের ব্যাথাঃ বাতের ব্যাথায় বেলাডোনা প্লাষ্টার যা বাতের ব্যাথা এবং আরো বিভিন্ন কারণে ব্যবহৃত হয়। বেলাডোনা প্লাষ্টারে আরো লেখা হয়ে থাকে “Against pleurisy, bronchitis, cough, the affections of the throat, chest, lungs, etc. 1 or 2 plasters as the case requires are used.”
সুতরাং এ সকল পেচ ব্যবহারে রক্তে ওষুধের শোষন ঘটে। সুতরাং যদি জানা যায়, কোন পেচ ব্যবহারে রক্তে ওষুধের শোষন ঘটে, তবে রোযা ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু যদি জানা যায় পৌঁছেনা, তবে ভাঙ্গবে না। কিন্তু মূলতঃ পেচ এ কারণেই দেয়া হয়, যাতে ধীরে ধীরে রক্তে ওষুধের শোষণ ঘটে।
স্প্রে (Spray):
বাজারে বিভিন্ন রকমের স্প্রে পাওয়া যায়। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন রকম স্প্রে ব্যবহৃত হয়। হঠাৎ ব্যাথা পেলে ব্যাথা অংশে স্প্রে করলে ব্যাথা কমে যায়। এ সকল স্প্রেতে সাধারণতঃ ব্যাথা নাশক উপাদান থাকে। কিন্তু কিছু স্প্রে ব্যবহৃত হয় ঘাম কমিয়ে আনার জন্যে, এগুলো ব্যবহারে ঘর্মগ্রন্থি (sweat gland) সংকুচিত হয়ে আসে এবং ঘামের পরিমাণ কমে যায়। এছাড়াও রয়েছে অ্যালকোহল স্প্রে যা চেতনানাশক (Anesthesia) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং যদি জানা যায়, কোন স্প্রে ব্যবহারে ওষুধ রক্তে পৌঁছে, তবে সে ধরণের স্প্রে ব্যবহারে রোযা ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু যে সকল স্প্রে ব্যবহারে রক্তে উপস্থিতি পাওয়া যাবেনা, সেরকম স্প্রে ব্যবহারে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। শুধু সুগন্ধি স্প্রে (perfume spray) শরীরের ত্বকের কোন অংশে দিলে যদি তার প্রবেশের কোন যোগ্যতা না থাকে, তবে রোযা ভঙ্গ হবেনা। কেননা অনেক স্প্রের ক্ষেত্রেই উদ্বায়ী পদার্থ থাকাতে সেটা শরীরের ত্বকে প্রবেশের পূর্বেই উড়ে যায়।
মূলকথা হলো, রক্তে যে সকল ওষুধের শোষন ঘটে, ওই সকল ওষুধ ব্যবহারে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে, কারণ রক্তে ওষুধের শোষন ঘটলে তা অবশ্যই মগজে পৌঁছে যায়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুগন্ধে ভরে উঠলো পুরো মাঠ!
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৪)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












