পবিত্র নামায উনার মাসয়ালা-মাসায়িল
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে পবিত্র ছলাত বা নামায উনার ফযীলত ও গুরুত্ব
, ০৩ মে, ২০২৩ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মিছর বা শহরের ব্যাখ্যা
মিছর বা শহরের তা’বীল বা ব্যাখ্যা হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা প্রদান করেছেন। সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে শহরের ব্যাখ্যায় বিভিন্ন ইখতিলাফ বা মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। যেমন শহরের ব্যাখ্যায় কেউ বলেন-
১. শহর ওই স্থানকে বলে, যেখানে সর্বপ্রকার পেশার লোক বাস করে এবং প্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র পাওয়া যায়।
২. কেউ বলেন, শহর ওই স্থানকে বলে, যে স্থানে দশ হাজার লোক অথবা দশ হাজার সৈন্য বাস করে।
৩. আবার কেউ বলেন, শহর ওই স্থানকে বলে, যেখানে এত পরিমাণ লোক বাস করে, যদি তাদেরকে শত্রু আক্রমণ করে, তবে তারা শত্রুর মোকাবেলা করতে সক্ষম।
৪. মিছর বা শহর ওই স্থানকে বলে, যেখানে আমীর ও বিচারপতি রয়েছে এবং ইসলামী আহকাম ও হদ-ক্বিছাছ জারী আছে।
৫. সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার অন্যতম ইমাম হযরত ইমাম আবূ ইউছুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
لَوْ اِجْتَمَعُوْا اَكْبَرَ مَسَاجِدِهِمْ لَـمْ يَـجْمَعْهُمْ ذَالِكَ فَهُوَ مِصْرٌ جَامِعٌ عَلَيْهِ الْفَتٰوٰ اَكْثَرُ الْفُقَهَاءِ الْـحَنَفِيَّةِ.
অর্থ : মিছরে জামে বা শহর ওই স্থানকে বলে, যেখানকার সমস্ত লোক তাদের স্থানীয় বড় মসজিদে একত্রিত হলে স্থান সঙ্কুলান হয় না। এ ক্বওল বা ব্যাখ্যার উপরেই সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার অধিকাংশ ফক্বীহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ফতওয়া দিয়েছেন এবং এটা তারজীহ বা প্রাধান্যপ্রাপ্ত ক্বওল।
সুতরাং, আমাদের দেশের গ্রামগুলো বড় মসজিদের ক্বওল মতে শরয়ী শহরের অন্তর্ভুক্ত। কেননা শরয়ী শহরের সাথে প্রচলিতভাবে আমরা যেগুলোকে শহর বলি, তার কোনোই সস্পর্ক নেই। যেমন আমাদের দেশের রাজধানী হলো ঢাকা। তার তুলনায় জেলা শহরগুলো কোনো শহরই নয়। একইভাবে ইউরোপ, আমেরিকার শহরগুলোর তুলনায় ঢাকাও কোনো শহরই নয়। সুতরাং প্রকৃতপক্ষে ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে কোনটি শহর আর কোনটি শহর নয় সেটাই ধর্তব্য।
বড় মসজিদের পরিমাপ
বস্তুতঃ পৃথিবীতে এমন মসজিদও রয়েছে, যা দুই তিন গ্রামের লোক একত্রিত হলেও মসজিদ ভরবে না, আবার এমন মসজিদও রয়েছে যা এক গ্রামের এক তৃতীয়াংশ লোকের দ্বারাই ভরে যাবে।
অতএব, বড় মসজিদের পরিমাপ সম্পর্কে শামী, দুররুল মুখতার, রদ্দুল মুহতার, রুকনুদ্দীন শরহে ইমামুদ্দীন কিতাবে বলা হয়েছে, ‘গ্রহণযোগ্য ক্বওল মুতাবিক বড় মসজিদের পরিমাপ হলো চল্লিশ গজ, আবার ইসলামী শরীয়ত উনার বিধান অনুযায়ী ১ গিরায় ১ গজ। সুতরাং উক্ত হিসেব মতে আমাদের যুগে প্রচলিত হদ অনুযায়ী বড় মসজিদ ২৫ গজ ধরা হয় অর্থাৎ ৫০ হাত।
সুতরাং ৫০ হাত দীর্ঘ কাতারে যতজন লোক নেয়, (একজন দাঁড়াতে যদি ১ হাত জায়গা লাগে তাহলে ৫০ হাতে ৫০ জন দাঁড়াতে পারবে) ততজন লোকে যে মসজিদ ভরে যায়, সেটাই বড় মসজিদ এবং এ পরিমাণ লোক যে স্থানে বসবাস করে, সেটাই শরয়ী শহর। অর্থাৎ ৫০ জন লোক যে স্থানে বসবাস করে সেটাই শরঈ শহর। সুতরাং সেখানে জুমুয়া আদায় করা জায়িয।
স্মর্তব্য যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত মুছ‘আব ইবনে ঊমায়ির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু উনারা যখন যথাক্রমে বতনে ওয়াদীতে ও সম্মানিত মদীনা শরীফে জুমু‘য়া উনার নামায আদায় করেন তখন সে স্থানদ্বয়ে মুসলমানদের সংখ্যা খুব কমই ছিলো, কাফিরের সংখ্যাই বেশি ছিলো এবং সেখানে তখনও পর্যন্ত ইসলামী হদ ও ক্বিছাছ ক্বায়িম ছিলো না এবং তখন হদ-ক্বিছাছ ক্বায়িম করার প্রশ্নই উঠেনা।
সুতরাং কাফির ভূখ-ে অথবা যে স্থানে হদ-ক্বিছাছ জারি নেই সেখানেও জুমু‘য়া উনার নামায জায়িয ও ফরযে আইন এবং দুই ঈদ উনাদের নামায পড়া ওয়াজিব যদি সেখানে বড় মসজিদের ক্বওল পাওয়া যায়। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সরাসরি মিছর বা শহরের ব্যাখ্যা নেই।
ইমাম মিম্বরে বসলে সুন্নত নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। ছানী আযান উনার জাওয়াব দেয়া ও দু’হাত উঠিয়ে উসীলার দু‘আ পড়া সমধিক ছহীহ মতে জায়িয ও সুন্নত। খুৎবার সময় পানাহার, তাসবীহ বা কোনো প্রকার কথা বলা হারাম। বরং নিঃশব্দে খুৎবা শ্রবণ করা ওয়াজিব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১০)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাফির (২)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭ম পর্ব)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিনটি আক্বীদাহ বিশুদ্ধ করা আবশ্যক
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












