পবিত্র নামায উনার মাসয়ালা-মাসায়িল
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে পবিত্র ছলাত বা নামায উনার ফযীলত ও গুরুত্ব
, ১৬ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৩ সাদিস ১৩৯১ শামসী সন , ০১ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ১৬ কার্তিক, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র জানাযা নামায পড়ার পূর্বে মাইয়্যিতের অলী বা অভিভাবককে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে, মাইয়্যিতের কোন ঋণ আছে কি না? যদি থাকে তাহলে সেগুলো কে এবং কিভাবে পরিশোধ করবে তা জানতে হবে। নামায ও রোযা কাযা আছে কিনা? যদি থাকে তাহলে তার কাফফারা দিতে হবে। সেটা কে বা কিভাবে আদায় করবে তাও জানতে হবে।
অতঃপর বিজোড় সংখ্যায় কাতার করতে হবে। লোকসংখ্যা বেশি হলে মুকাব্বির থাকবে।
মাইয়্যিত পুরুষ না মহিলা, ছেলে না মেয়ে তা উপস্থিত মুছল্লীদেরকে জানিয়ে দিতে হবে।
এভাবে বলতে পারে, মাইয়্যিত বয়স্ক পুরুষ/বয়স্কা মহিলা/নাবালিগ ছেলে/নাবালিগা মেয়ে।
যারা আরবীতে নিয়ত করতে পারেন তারা আরবীতে নিয়ত করবেন। যারা আরবীতে নিয়ত করতে পারেন না তারা বাংলাতে এভাবে নিয়ত করবেন- ‘ফরযে কিফায়া পবিত্র জানাযা নামায, চার তাকবীরের সাথে উক্ত ইমাম ছাহেবের পিছনে ক্বিবলামুখী হয়ে আদায় করার নিয়ত করছি।’ আল্লাহু আকবার।
তারপর ছানা পড়তে হবে। যাদের পবিত্র জানাযা নামাযের জন্য নির্ধারিত ছানা জানা আছে তারা সেই ছানা পড়বেন। যদি জানা না থাকে তাহলে নামাযের মধ্যে পঠিত ছানা পড়লেও চলবে। অতঃপর দ্বিতীয় তাকবীর হবে। সেই তাকবীরে কান পর্যন্ত হাত তুলতে হবে না। তারপর পবিত্র দরূদ শরীফ পড়বেন।
যাদের পবিত্র জানাযা নামাযের জন্য নির্ধারিত পবিত্র দরূদ শরীফ জানা আছে তারা সেই পবিত্র দরূদ শরীফই পড়বেন। আর যাদের জানা নেই তারা নামাযের মধ্যে যে পবিত্র দরূদ শরীফ পাঠ করেন সেই পবিত্র দরূদ শরীফ পড়বেন। তারপর তৃতীয় তাকবীর হবে। সেই তাকবীরেও হাত উঠাতে হবে না। অতঃপর দোয়া পাঠ করবেন। যারা নির্ধারিত দোয়া জানেন তারা সেই দোয়াই পাঠ করবেন। আর যাদের জানা নেই তারা মাইয়্যিত ছেলে বা পুরুষ হলে পড়বেন-
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِىْ وَلَهٗ
আর মাইয়্যিত মেয়ে বা মহিলা হলে
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِىْ وَلَـهَا
তারপর চতুর্থ তাকবীর হবে। সেই তাকবীরেও হাত তুলতে হবে না। এরপর সালাম ফিরানো হবে। ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় ডান হাত, বাম দিকে সালাম ফিরানোর সময় বাম হাত ছেড়ে দিবেন। তারপর কাতার ভঙ্গ করে সামনে আসবেন। ছওয়াব রেসানী করে মুনাজাত করা হবে।
পবিত্র জানাযা নামাযের নিয়ত (পুরুষের বা ছেলেদের বেলায়)
نَوَيْتُ اَنْ اُوَدِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ تَكْبِيْرَاتِ صَلٰوةِ الْـجَنَازَةِ فَرْضُ الْكِفَايَةِ اَلثَّنَاءُ لِلّٰهِ تَعَالٰى وَالصَّلٰوةُ عَلَى النَّبِـِّىِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالدُّعَاءُ لِـهٰذَا الْـمَيِّتِ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرُ.
মহিলা বা মেয়েদের বেলায় لِـهٰذَا الْـمَيِّتِ-এর স্থলে لِـهٰذِهِ الْـمَيِّتِ বলতে হবে।
(১ম তাকবীর)
পবিত্র জানাযা নামাযের ছানা
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِـحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْـمُكَ وَتَعَالٰى جَدُّكَ وَجَلَّ ثَنَائُكَ وَلَا اِلٰهَ غَيْرُكَ.
(২য় তাকবীর)
পবিত্র জানাযা নামাযের দরূদ শরীফ
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى سَيِّدِنَا مُـحَمَّدٍ وَّعَلٰى اٰلِ سَيِّدِنَا مُـحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَسَلَّمْتَ وَبَارَكْتَ وَرَحِـمْتَ وَتَرَحَّـمْتَ عَلٰى سَيِّدِنَا اِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى اٰلِ سَيِّدِنَا اِبْرَاهِيْمَ اِنَّكَ حَـمِيْدٌ مَّـجِيْدٌ.
অথবা পবিত্র দুরূদে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম অর্থাৎ নামাযের দুরূদ শরীফও পাঠ করা যায়।
(৩য় তাকবীর)
পবিত্র জানাযা নামাযের দোয়া (বালিগ/বালিগাদের জন্য)
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِـحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِـبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثٰنَا. اَللّٰهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهٗ مِنَّا فَاَحْيِهٖ عَلَى الْاِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهٗ مِنَّا فَتَوَفَّهٗ عَلَى الْاِيْـمَانِ بِرَحْـمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرّٰحِـمِيْنَ.
পবিত্র জানাযা নামাযের দোয়া নাবালিগ ছেলের জন্য
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَّذُخْرًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَّمُشَفَّعًا.
পবিত্র জানাযা নামাযের দোয়া নাবালিগা মেয়ের জন্য
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا فَرَطًا وَّاجْعَلْهَا لَنَا اَجْرًا وَّذُخْرًا وَّاجْعَلْهَا لَنَا شَافِعَةً وَّمُشَفَّعَةً.
(৪র্থ তাকবীর)
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْـمَةُ اللهِ.
অর্থাৎ ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় ডান হাত, বাম দিকে সালাম ফিরানোর সময় বাম হাত ছেড়ে দিয়ে কাতার ভঙ্গ করে একত্রিত হয়ে ছওয়াব রেসানী করার পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করবে। কেননা পবিত্র জানাযা নামাযের পর কাতার ভঙ্গ করে সকলে একত্রিত হয়ে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করা খাছ সুন্নত। দাফনের আগে ও পরে মুনাজাত করাও সুন্নত। (মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ : ১০১-১১১তম সংখ্যা)
ছওয়াব রেসানীর নিয়ম
১. ইস্তিগফার (৩ বার)
اَسْتَغْفِرُ اللهَ رَبِّ مِنْ كُلِّ ذَنْۢبٍ وَّاَتُوْبُ اِلَيْهِ وَلَاحَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا باِللهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْمِ
২. পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ (১বার)
৩. পবিত্র সূরা ইখলাছ (৩ বার)
৪. যে কোন পবিত্র দুরূদ শরীফ (৫ বার)
অতঃপর মুনাজাত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












