পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত মুবারক ও মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী আমল মুবারক- ৬
, ০৮ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২৮ ছানী, ১৩৯১ শামসী সন , ২৭ জুলাই, ২০২৩ খ্রি:, ১২ শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
অপর বর্ণনায় এসেছে-
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال كانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم مكحلة يكتحل منها عند النوم في كل عين ثلاثا
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি সুরমাদানি ছিলো। তিনি ঘুমানোর সময় তা থেকে তিনবার করে প্রত্যেক মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার (মহাসম্মানিত চোখ) মুবারকে সুরমা লাগাতেন। ঘুমানোর পূর্বে চোখে সুরমা ব্যবহার করা উত্তম এবং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক । অতএব মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার নিয়তেই সুরমা ব্যবহার করা উচিত। তাতে সর্বশ্রেষ্ঠ নি’য়ামত মুবারক অর্জিত হবে এবং দৃষ্টিশক্তির জন্যও উপকারী হবে। বিশেষত ‘ইছমিদ' নামক সুরমার অসংখ্য উপকার রয়েছে। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
পবিত্র হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, তোমাদের সুরমার মধ্যে ইছমিদ সুরমা সর্বোত্তম, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি সতেজ করে এবং চোখের পাতা উৎপন্ন করে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে চোখে সুরমা ব্যবহারের নিয়ম বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বেজোড় সংখ্যায় সুরমা লাগাতেন, প্রত্যেক মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার (মহাসম্মানিত চোখ) মুবারকে তিনবার অথবা এক মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার (মহাসম্মানিত চোখ) মুবারকে তিনবার এবং অপর মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার (মহাসম্মানিত চোখ) মুবারকে দুইবার।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اكتحل جعل في كل عين اثنتين و واحدة بينهما.
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উভয় মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার (মহাসম্মানিত চোখ) মুবারকে দুইবার করে সুরমা মুবারক লাগাতেন, অতঃপর পরবর্তী কাঠি উভয় মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার (মহাসম্মানিত চোখ) মুবারকে একবার লাগাতেন। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت أنس رضى الله تعالى عنه قال كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم كحل في هذا العين ثلاثا وفي هذا العين ثلاثا.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কালো সুরমা মুবারক ছিলো। তিনি ঘুমানোর জন্য বিছানায় গিয়ে এই (ডান) মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার (মহাসম্মানিত চোখ) মুবারকে তিনবার এবং ঐ (বাম) মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার (মহাসম্মানিত চোখ) মুবারকে তিনবার সুরমা লাগাতেন। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت أنس رضى الله تعالى عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يكتحل في عينه اليمنى ثلاثا وفي اليسرى ثلاثا بالاثمد.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার ডান মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার (মহাসম্মানিত চোখ) মুবারকে তিনবার এবং বাম মহাসম্মানিত নূরুল মুনাওওয়ার (মহাসম্মানিত চোখ) মুবারকে তিনবার ‘ইছমিদ' নামক সুরমা মুবারক লাগাতেন। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে আমরা কয়েকটি বিষয় জানতে পারলাম-
১) চোখে সুরমা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
২) ইছমিদ সুরমা ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক। সুরমার মধ্যে ইছমিদ সুরমা সর্বোত্তম, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি সতেজ করে এবং চোখের পাতা উৎপন্ন করে।
৩) ঘুমানোর পূর্বে চোখে সুরমা লাগানো খাছ সুন্নত মুবারক ও চোখের জন্য অনেক উপকারী।
৪) দুই চোখে সুরমা লাগানোর মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব-
ক) ডান চোখে তিনবার অতঃপর বাম চোখে তিনবার করে সুরমা লাগানো।
খ) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে দুইবার।
গ) প্রথমে ডান চোখে দুইবার তারপর বাম চোখে দুইবার অতঃপর ডান চোখে একবার এবং বাম চোখে একবার। (অসমাপ্ত)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুছাফাহা করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। যা গুনাহ মাফের মাধ্যম
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
খেজুর ও তরমুজ একত্রে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৪)
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৩)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (১)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












