পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
, ১০ ছফর শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৮ ছালিছ, ১৩৯২ শামসী সন , ১৬ আগষ্ট, ২০২৪ খ্রি:, ০১ ভাদ্র , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ঢেলা-কুলুখ ও পানি ব্যবহারের নিয়ম:
বড় ইস্তিন্জা (পায়খানা) করা শেষ হলে পাথর, অথবা মাটির ঢেলা অথবা কপড়ের টুকরা অথবা টিস্যু হাতে নিয়ে اُسْكُتْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ (উস্কুত্ আন্ যিক্রিল্লাহ্্=) বলে শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে তিনটি টোকা দিয়ে প্রথম ঢিলা, সামন থেকে মুছে পিছনে নিবে। দ্বিতীয় ঢিলা পিছন থেকে মুছে সামনে আনবে। তৃতীয় ঢিলা সামন থেকে মুছে পিছনে নিবে। (এখানে সহজটাই বলা হলো) বেজোড় সংখ্যক ৩/৫/৭ ঢেলা ব্যবহার করবে। ঢেলা ব্যবহার শেষ হলে তিনবার হাত ধৌত করবে, সন্দেহ দূর করার জন্য। এরপর ছোট ইস্তিন্জার পুরুষলিঙ্গের মাথায় কুলুখ ধরে ইস্তিব্রা করবে। ইস্তিব্রা করার নিয়ম পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরুষলিঙ্গের মাথায় প্রস্রাব ঝড়া বা পড়া বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ভিজা দূর না হওয়া পর্যন্ত বেজোড় সংখ্যক কুলুখ ব্যবহার করবে। প্রস্রাব ঝড়া বা পড়া বন্ধ হওয়ার পরে পানি ব্যবহার করতে হবে। প্রথমে উভয় হাত তিনবার ধুয়ে লজ্জাস্থান তিনবার ধৌত করবে। অথবা হাত না ধুয়েও শুধু লজ্জাস্থান ধৌত করবে।
পানি ব্যবহার করার নিয়ম:
বড় ইস্তিন্জার (পায়খানার) জন্য ঢেলা-কুলুখ ব্যবহার করার পর উভয় হাত তিনবার ভাল করে পানি দ্বারা ধৌত করবে। অতঃপর বড় ইস্তিন্জার (পায়খানার) স্থান বেজোড় সংখ্যকবার উত্তমভাবে ধৌত করবে। অতঃপর পুণরায় উভয়হাত ধৌত করে নিয়ম মোতাবেক ইস্তিব্রা করে ছোট ইস্তিন্জার (পেশাবের) জন্য ঢেলা-কুলুখ ও পানি ব্যবহার করবে।
ধৌত বা শৌচ কার্য করার নিয়ম:
ঢেলা-কুলুখ ব্যবহার করা আমভাবে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্্। তাই ঢেলা-কুলুখ ব্যবহার করার পর পুরুষেরা এক, দুই বা তিন অঙ্গুলি দ্বারা অর্থাৎ কনিষ্ঠা, অনামিকা, মধ্যমা এই তিন আঙ্গুলের পেট দিয়ে আড়াআড়িভাবে ধৌত করবে বা শৌচ করবে। এতে বেশী পরিষ্কার হয়। তবে যত কম অঙ্গুলি ব্যবহার করে শৌচ করবে, ততই উত্তম। তর্জনী (শাহাদাত), বৃদ্ধাঙ্গুলি ও হাতের তালুর দ্বারা শৌচ কার্য করবে না। অঙ্গুলির নখ এবং হাতের পৃষ্ঠ দ্বারা শৌচ কাজ করলে অর্শ্ব রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শৌচকালে আস্তে আস্তে পানি ঢালবে এবং খড় খড়িয়া না হওয়া পর্যন্ত মলিয়া ধৌত করবে। শৌচকালে ৩/৫/৭/৯ বার পানি ঢেলে ধৌত করবে।
ছোট ইসতিন্জায় (প্রস্রাবে) মেয়েদের ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারের কোন প্রয়োজন নেই। মেয়েরা ছোট ইসতিন্জা (প্রস্রাব) করার পর কিছুক্ষণ বিলম্ব করে পানি ব্যবহার করবে এবং কাপড় দিয়ে ভিজা স্থান মুছে অর্থাৎ ইস্তিন্ক্বা করে ইস্তিন্জাখানা থেকে বের হয়ে আসবে।
মহিলাগণ দু’ভাগে বিভক্ত। যারা বাকেরাহ্ বা অবিবাহিতা তারা হাতের তালু দিয়ে শৌচ কার্য সমাধা করবে। এটাই আফজল, অন্যথায় অঙ্গুলি ব্যবহারের মাধ্যমেও করতে পারে। আর যারা সাইয়্যিবাহ্্ বা বিবাহিতা তারা দু’অঙ্গুলি বা তিন অঙ্গুলি দিয়ে শৌচ কার্য সমাধা করবে। অর্থাৎ মধ্যমা, অনামিকা ও কনিষ্ঠা আঙ্গুল দিয়ে ধৌত করবে। এক অঙ্গুলি দিয়ে না করা আফজল। আর রোজাদার পুরুষ-মহিলা উভয়েই পানি ব্যবহারের সাথে সাথে নেকড়া দিয়ে ভিজা স্থান মুছে ফেলবে, যাকে ইস্তিন্ক্বা বলা হয়। অতঃপর উঠে ইস্তিন্জাখানা ত্যাগ করবে। সাধারণতঃ ইস্তিন্ক্বা করা মোস্তাহাব। আর রোজা ভঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ইস্তিন্ক্বা করা ফরজ-ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত।
শৌচ করার কাজ শেষ হলে সর্বশেষে হাত ধুয়ে দাঁড়াবে এবং দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মনে মনে بِسْمِ اللهِ(বিস্মিল্লাহ্) বলে কাপড় ছেড়ে দিয়ে লজ্জাস্থান ঢেকে ফেলবে। প্রকাশ্য বা খোলামেলাভাবে শৌচ করা ফাসেকী ও কবীরা গুনাহ হবে। আর ইস্তিন্জাখানা থেকে বের হয়ে غُفْرَانَكَ اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِىْ اَذْهَبَ عَنِّى الْاَذٰى وَعَافَانِىْ (“গুফরানাকা আল্হামদুলিল্লাহি আযহাবা আন্নিল আযা ওয়া আফানি”) -এ দোয়া পড়বে এবং বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দিয়ে বের হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












