নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও সম্মানিত সুন্নত মুবারক (১)
, ০৯ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৬ রবি , ১৩৯২ শামসী সন , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২৯ ভাদ্র , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, গোলামী মুবারক উনার আঞ্জাম মুবারক দেয়া কায়িনাতবাসীর জন্য ফরযে আইন। সেই আমল মুবারক সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা নিজেরাও করেছেন এবং উম্মতদেরকে শিক্ষা মুবারকও দিয়েছেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক) প্রকাশ উনার পূর্বে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে এসে উনারা বিশেষভাবে ছানা-ছিফত মুবারক করেছেন।
৯ মাসে বিশেষ ব্যক্তিত্ব উনাদের আগমন মুবারক ও সুসংবাদ মুবারকঃ
স্মরণীয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব-মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে ৯ মাস সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক (মহাসম্মানিত রেহেম শরীফ) উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করেন, সেই ৯ মাসের প্রত্যেক মাসে একজন করে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা এসে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে এসে সুসংবাদ মুবারক পেশ করতেন। এভাবেই উনারা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেন। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
قَالَتْ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اُمُّ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا حَمَلْتُ بِحَبِيْبِىْ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ اَوَّلِ شَهْرٍ مِنْ حَمْلِىْ وَهُوَ شَهْرُ رَجَبَ الْاَصَمِ بَيْنَمَا اَنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ فِىْ لَذَّتِ الْمَنَامِ. اِذْ دَخَلَ عَلَىَّ رَجُلٌ مَلِيْحُ الْوَجْهِ طِيْبُ الرَّائِحَةِ وَاَنْوَارُهٗ لَائِحَةٌ. وَهُوَ يَقُوْلُ مَرْحَبًابِكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) قُلْتُ لَهٗ مَنْ اَنْتَ؟ قَالَ اَنَا حَضْرَتْ اٰدَمُ اَبُو الْبَشَرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ.
قُلْتُ لَهٗ مَاتُرِيْدُ قَالَ اَبْشِرِىْ يَا سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ حَمَلْتِ بِسَيِّدِ الْبَشَرِ وَفَخْرِ رَبِيْعَةِ وَمُضَرِ.
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আমি যখন মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসে ধারণ করলাম তখন এক রাত্রে-
প্রথম মাসে আমি ঘুমের ঘোরে দেখতে পেলাম আমার সামনে সুউজ্জ্বল চেহারা মুবারক নিয়ে সীমাহীন সুঘ্রাণ ও নূর মুবারকসহ একজন সুপুরুষ তিনি হাজির হয়ে বললেন-
مَرْحَبًا بِكَ يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনাকে মারহাবা।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কে? উত্তরে আগন্তুক ব্যক্তি তিনি বললেন, আমি মানব জাতির আদি পিতা, সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম। আমি বললাম, আপনি কি জন্য এসেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সুসংবাদ মুবারক গ্রহণ করুন। আপনি সমস্ত মানবজাতির (সমস্ত কায়িনাতবাসীর) সাইয়্যিদ, রবীয়া ও মুদার গোত্রের ফখর, গোটা কায়িনাতবাসীর ফখর, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক (মহাসম্মানিত রেহেম শরীফ) উনার মধ্যে ধারণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
وَلَمَّا كَانَ الشَّهْرُ الثَّانِىْ دَخَلَ عَلَىَّ رَجُلٌ وَهُوَ يَقُوْلُ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَارَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ لَهٗ مَنْ اَنْتَ قَالَ اَنَا شِيْثُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قُلْتُ لَهٗ مَا تُرِيْدُ قَالَ اَبْشِرِىْ يَا سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ حَمَلْتِ بِصَاحِبِ التَّأْوِيْلِ وَالْحَدِيْثِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .
অর্থ: যখন দ্বিতীয় মাস আগমন করলো, তখন আমার নিকট এক সম্মানিত ব্যক্তি আগমন করে বললেন-
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَارَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
ইয়া মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার প্রতি মহাসম্মানিত সালাম মুবারক।
অতঃপর আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কে? উত্তরে তিনি বললেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম। আমি বললাম: আপনি কি জন্য এসেছেন? তিনি বললেন, হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সুসংবাদ মুবারক গ্রহণ করুন। আপনি আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক (মহাসম্মানিত রেহেম শরীফ) উনার মধ্যে ছাহিবে তাওয়ীল ও ছাহিবে হাদীছ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ধারণ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
(অসমাপ্ত)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












