দেশে মধু চাষে বিপ্লব হয়েছে। তার সুযোগে এখনও ভারতীয় কোম্পানি বাংলাদেশের অপরিশোধিত মধু ক্রয় করে সেদেশে পরিশোধন করে পুনরায় বাংলাদেশে রফতানি করে প্রচুর মুনাফা করছে।
দেশি মধুর ব্র্যান্ডিং ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবই এর জন্য দায়ী। সরকারের উচিত বাংলাদেশের মধু ব্র্যান্ডিং ও রফতানিমুখর করা।
, ১০ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০২ হাদি ‘আশির, ১৩৯০ শামসী সন , ০২ এপ্রিল, ২০২৩ খ্রি:, ১৯ চৈত্র, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
মধু মহাসম্মানিত সুন্নতি একটি খাবার। তাছাড়া বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও সুস্বাদু খাবার তৈরিতে মধু ব্যবহার করা হয়। মৌচাক থেকে পাওয়া মোম দিয়ে প্রসাধনী ও মোমবাতিসহ নানা সামগ্রী তৈরি হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি বছর মধু সংগ্রহ কিংবা উৎপাদন করে বাংলাদেশের মধু চাষীরা। মধু চাষের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কৃষক জড়িত। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মধু চাষের কারণেই আজ এত কৃষকের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা ১০ বছর আগেও ছিল না। একসময় গ্রামে কৃষিকাজ করে যাদের সংসার চলত না তারা এখন মধু চাষ করছে। মধু উৎপাদন করে তাদের সংসার ভালো চলছে। দেশের অনেক এলাকায় মধু চাষ গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কিন্তু বাংলাদেশে মধু চাষে বিপ্লব হলেও বাংলাদেশের মধু ব্র্যান্ডিং ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নিজেদের বাজার তৈরী করতে পারছে না। ফলে ভারতীয় কোম্পানি বাংলাদেশের অপরিশোধিত মধু ক্রয় করে সেদেশে পরিশোধন করে পুনরায় বাংলাদেশে রপ্তানি করে প্রচুর মুনাফা করছে। এ ছাড়াও দেশীয় কিছু কোম্পানি মৌচাষিদের কাছ থেকে সরাসরি মধু কিনে পরিশোধনের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে বাজারজাত করছে।
বিদেশে মধুর বিশাল একটি বাজার থাকলেও সেই বাজার ধরতে পারছেনা দেশীয় মধু। পাশাপাশি, ক্রেতাদের আস্থাহীনতা ও বিপণনে পিছিয়ে থাকায় দেশের মধুর বাজার দখল করে আছে বিদেশি মধু। এতে মানসম্মত মধু উৎপাদন করেও প্রান্তিক চাষীদের মধুর বড় একটি অংশ অবিক্রিত রয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছে, বিদেশি মধুর সাথে মানের দিক দিয়ে কোনো অংশেই কম নয় বাংলাদেশের মধু। কিন্তু শুধুমাত্র অবহেলার কারণে দেশীয় এই সম্পদটি থেকে দেশের অর্থনীতি কিংবা দেশের জনগন সুফল লাভ করতে পারছে না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রায় প্রত্যেক ঋতুতে কোনো না কোনো ফুল ফোটে। আর এসব ফুল থেকে মধু আহরণের বিরাট সুযোগ রয়েছে। এ কারণে মৌ চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী বাংলাদেশ। একটা সময় মধু আহরণ ছিল শুধুমাত্র সুন্দরবন কেন্দ্রিক। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মধু উৎপাদন, ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণে। এখন মধু চাষ হয় ব্যাপকভাবে। দেশে মধুর উৎপাদন ও বহুমাত্রিক ব্যবহার বেড়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধু এখন রফতানি পণ্য তালিকায় নাম লিখিয়েছে। দেশে বর্তমানে দুই প্রজাতির মৌমাছির দিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌ-বাক্সে চাষ করা হয়।
মৌ-চাষ বিশেষজ্ঞ ও কৃষি গবেষকদের মতে, ফসলের মাঠে মৌমাছি বিচরণ করলে সেখানে বাড়তি পরাগায়ণের কারণে ফসলের উৎপাদন ৩০% বাড়বে। তার মানে মৌচাষের মাধ্যমে মধু আহরণে লাভ দুটি- ১. অর্থকরি খাত হিসেবে মধু আহরণে সমৃদ্ধি, ২. শস্য বা মধুভিত্তিক কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি। সুন্দরবনের পাশাপাশি পেশাদার মৌ-চাষিরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমে সরিষা, ধনিয়া, তিল, কালোজিরা, লিচু এসব ফসলের জমিতে বা বাগানে মৌ বাক্স বসিয়ে মধু আহরণ করে। আধুনিক পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে মৌ চাষ করে শত শত মেট্রিক টন মধু উৎপাদন করা হচ্ছে। এর ফলে মধু আহরিত শস্য যেমন সরিষা, তিল, কালোজিরা, লিচু ইত্যাদিরও ফলনও বেড়েছে অনেক গুণ।
মৌ-চাষিরা বিভিন্ন ঋতুতে তাদের মৌবাক্স নিয়ে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, শেরপুর, সাভার, দিনাজপুর, রাজশাহী, বরগুনা ও সুন্দরবনের সাতক্ষীরায় মধু সংগ্রহে চলে যায়। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেখানে তারা অবস্থান করে এবং মধু সংগ্রহ করে ফিরে আসে। সংগ্রহকারীর কেউ কেউ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে মধু বিক্রি করেন। বড় খামারিরা সংগৃহীত মধু প্রসেসিং প্ল্যান্টে পরিশোধন করে বাজারজাত করে। সরিষা, লিচু, তিল ও কালিজিরা ফুল থেকে সংগৃহীত মধু আলাদা আলাদাভাবে বাজারজাত করছে ব্যবসায়ীরা। এমন বিভিন্ন ধরনের মধু উৎপাদন একমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব।
প্রসঙ্গত, দেশে বছরে মধু উৎপাদন হয় প্রায় ৬ হাজার টন। কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদফতরের হিসাবে, বাংলাদেশে ৬ লাখ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়। ২০ হাজার হেক্টর জমিতে কালিজিরা, ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধনিয়া, ২০ হাজার হেক্টর জমিতে তিল ও বিপুল পরিমাণ জমিতে লিচু উৎপাদিত হয়। এ পুরো সেক্টরটিকে মধু আহরণের আওতায় আনতে পারলে ফসলের উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি হবে বলে বিশেষজ্ঞগণের ধারণা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের মৌ চাষিদের উন্নত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা না করা হবে ততদিন পর্যন্ত দেশের মধুর সম্ভাবনা বিকশিত হবে না। উদ্ভিদের পরাগায়নে মৌমাছির গুরুত্ব অপরিসীম। মৌমাছির মাধ্যমে বাক্স পদ্ধতিতে মধু চাষের কারণে কৃষিখাতে উৎপাদন ১০ থেকে ২০% বাড়ানো সম্ভব বলে গবেষণায় জানানো হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বাংলাদেশের কৃষকদের ধারণা স্পষ্ট নয়। তাই মধুভিত্তিক শস্য সরিষা, তিল, তিষি, লিচু ইত্যাদির কৃষিজ উৎপাদন বাড়াতে মৌ-চাষ এবং মৌ-চাষের উপকারিতা সম্পর্কে স্থানীয় কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুদেলার মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা জরুরি।
বলাবাহুল্য, বাংলাদেশের এমন কোনো খাত নেই যেখানে হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা নেই। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকারই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলো বিকশিত করার কোনো প্রকার চেষ্টাই করেনি। বর্তমানে বিশ্ববাজারে মধুর ব্যাপক চাহিদা উন্মোচিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন সুইট কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে মধু আমদানী করে নিয়ে যাচ্ছে। আর সে হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে মধুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপযোগী ও সম্ভাবনাময়।
মৌ বিশেষজ্ঞরা বলছে, মৌচাষে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ, চাষীদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং একই সাথে মৌচাষির সংখ্যা বাড়ালে বছরে ১ লাখ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন করা সম্ভব। আর তা করতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ মধু বিদেশে রফতানি করা সম্ভব। তবে বিদেশে আমাদের দেশের মধুর চাহিদা বাড়াতে হলে গুণগতমানের মধু উৎপাদনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। মধু সংগ্রহে উন্নত ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি মধুর প্যাকেজিংয়ে আধুনিকতা আনতে হবে। উন্নত ও সুদৃশ্য মোড়ক দ্বারা মধুরপাত্র মনোলোভা ও আকর্ষণীয় করতে হবে। তাহলে সহজেই বাংলাদেশী মধু বিদেশী ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে এবং বাংলাদেশ প্রতি বছর মধু রফতানি করে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সমর্থ হবে। ইনশাআল্লাহ!
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপনীয় বাণিজ্য চুক্তি: জনগণের অজান্তে জিএমও খাদ্য অর্থাৎ বিষ ও রোগ জীবাণু ঢোকানোর ষড়যন্ত্র
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস” ব্যক্ত করার সরকারকে অবিলম্বে কুরআন শরীফে হারাম ঘোষিত শুকরের গোশত আমদানীর বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশি আম বাজারে আসার আগেই শুরু হয়েছে কথিত কেমিক্যাল অপপ্রচার : দেশীয় ফলের বিরুদ্ধে বিদেশী দালাল চক্রের এই অপপ্রচার রুখতে হবে।
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ইউনিসেফ’ এর ভয়ংকর তৎপরতা। বাংলাদেশের শিশু ও শিক্ষার্থীদের পশ্চিমা দাস বানানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইউনিসেফ। (১)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উচ্চ আদালতে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর ঘোষিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ পুণঃবহালের অপচেষ্ঠা চলছে। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া। (৩)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৭১ এ তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতার নামে। তবে তারা ২০২৬- এ আমেরিকার আধিপত্যবাদী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় নামছে না কেন?
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মৃত আইন- “পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০”: অখ-তার পথে এক ঔপনিবেশিক কাঁটা
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে স্থলে, নদীতে, পাহাড়ে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না। হিন্দুস্থান টাইমস ও কুখ্যাত প্রথম আলো তথা ভারত আমেরিকার কুচক্রীরা একযোগে ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে জনসচেতন হতে হবে ইনশাআল্লাহ। (৩য় পর্ব)
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রধানমন্ত্রীকে সাবধান থাকতে হবে- তার মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের দ্বারা যেনো দেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট না হয়! বি.এন.পি ক্ষমতায় আসলেই দেশ, সন্ত্রাসবাদের ঝুকিতে পড়ে এই ধরণের প্রচারণার জন্য তথ্য উপদেষ্টার, ‘দেশে সন্ত্রাসবাদ আছে’- এই মিথ্যা উক্তিই কী যথেষ্ট নয়?
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মঘাতী ঋণের কঠিন শর্তের বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে সরকার। দেশবাসী কেনো নির্বিকার?
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পূর্ব তিমুর কেনো মুসলমানদের হারানো ভূমি? পূর্ব তিমুরের ঘটনা কী শিক্ষা দেয়। উপজাতিরা কেনো খ্রীস্টান হয়? উপজাতিরা কেনো মুসলমান হয় না? কেনো কঠিন হয়রানির মুখোমুখি হয়। স্বাধীন জুমল্যান্ড তথা খ্রীস্টান রাজ্য বানানোর বিপরীতে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানকে গর্জে উঠতে হবে ইনশাআল্লাহ।
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (৩)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












