দুপুরের খাবার খাওয়ার পর ‘কাইলূলা’ করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (১)
, ২০ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৯ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ২৭ জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ১২ শ্রাবণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক রয়েছেন। ” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন বান্দা-বান্দী, উম্মত সকলের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক। প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য সর্বাবস্থায়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করা আবশ্যক। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসংখ্য-অগণিত মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাদের মাঝে একখানা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হচ্ছেন ‘কাইলূলা’করা।
‘কাইলূলা’বলতে কি বুঝায়? ‘কাইলূলা’ আরবী শব্দ যা ق-ى-ل মূলধাতু থেকে এসেছে। যার অর্থ হচ্ছে, দুপুরের খাবার খাওয়ার পর হালকা নিদ্রা অর্থাৎ দুপুরে খাবার খাওয়ার পর কিছুক্ষন শুয়ে হালকা বিশ্রাম নেয়াকেই ‘কাইলূলা’ বলে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুপুরে খাবার মুবারক গ্রহন করার পর কিছু সময় বিশ্রাম মুবারক নিতেন অর্থাৎ কাইলূলা করতেন। তাই কাইলূলা করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ سُلَيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْتِيهَا فَيَقِيْلُ عِنْدَهَا فَتَبْسُطُ لَهُ نَطْعًا فَيَقِيْلُ عَلَيْهِ وَكَانَ كَثِيرَ الْعَرَقِ فَكَانَتْ تَجْمَعُ عَرَقَهٗ فَتَجْعَلُهُ فِي الطِّيْبِ وَالْقَوَارِيْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَا حَضْرَتْ أُمَّ سُلَيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهَا مَا هَذَا قَالَتْ عَرَقُكَ أَدُوْفُ بِهٖ طِيْبِىْ
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিতা আম্মাজান হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণনা করেন। (তিনি বলেন,) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নিকট আসতেন এবং বিশ্রাম মুবারক নিতেন, হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য একখানা চামড়ার বিছানা মুবারক বিছিয়ে দিতেন আর তিনি তার উপর ‘কাইলূলা’ করতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক উনার থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত ত্বীব মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘাম মুবারক) প্রবাহিত হতেন। আর হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি তা একত্র করতেন এবং সুগন্ধির বোতলে মিশিয়ে রাখতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন, হে হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা! আপনি এটা কী করছেন? তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত ত্বীব মুবারক আমি সুগন্ধির সাথে মিশিয়ে রাখি। ” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আল আহকামুশ শরইয়্যাহ্ লিল ইশিবীলী ৪/৩১৯, দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বায়হাক্বী ১/২৫৮ ইত্যাদি)
অপর বর্ণনায় রয়েছেন-
حديث حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ أَنَّ حَضْرَتْ أُمَّ سُلَيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهَا كَانَتْ تَبْسُطُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِطَعًا فَيَقِيلُ عِنْدَهَا عَلَى ذلِكَ النِّطَعِ قَالَ فَإِذَا نَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَتْ مِنْ عَرَقِهِ وَشَعَرِهِ فَجَمَعَتْهُ فِي قَارُورَةٍ ثُمَّ جَمَعَتْهُ فِي سُكٍّ
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ। (তিনি বলেন,) হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য একখানা চামড়ার বিছানা মুবারক বিছিয়ে দিতেন এবং তিনি হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার নিকট ঐ চামড়ার বিছানা মুবারক-এ কাইলূলা মুবারক করতেন। এরপর তিনি যখন ঘুম থেকে উঠতেন, তখন হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীর মুবারক) থেকে কিছুটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত ত্বীব মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘাম মুবারক) এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক) সংগ্রহ করতেন এবং সেগুলো একটি শিশির মধ্যে জমাতেন এবং পরে ‘সুক্ক’ নামীয় সুগন্ধির মধ্যে মিশাতেন। ” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, আল লু’লু ওয়াল মারজান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১৫০৪) (চলবে...)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












