হিলাল
দিগন্তে হিলাল বা বাঁকা চাঁদ দেখতে পাওয়ার সময় “বায়ুস্তরে ভাসমান পদার্থের পরিমাণ” এবং “শহর ও রাস্তাঘাটের আলো” দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
, ১১ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৬ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
বায়ুস্তরে ভাসমান পদার্থের পরিমাণ:
পানীয় বাষ্প, মেঘ-শীত প্রধান অঞ্চলে তুষারপাতের পর অথবা কোন অঞ্চলে বৃষ্টির পর আকাশ থাকে স্বচ্ছ নির্মল। শীত প্রধান দেশসমূহের আকাশ সাধারণত থাকে পরিষ্কার। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার চেয়ে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে আকাশ তুলনামূলকভাবে থাকে বেশী পরিষ্কার। তাই সমুদ্রের ওপারের দিগন্তরেখায় চাঁদ সহজেই দৃষ্টিগোচর হয়।
বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশসমূহের আকাশে গড় মেঘের পরিমাণ বেশী থাকে। মেঘের উপস্থিতি চাঁদ দেখাকে বাধাগ্রস্ত করে। যদি কোন স্থানের বাতাস দূষিত থাকে এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশী হয় তবে হিলালের ১ ভাগেরও কম আলো পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।
মরুঅঞ্চল অত্যন্ত শুষ্ক থাকে তাই মেঘের উপস্থিতি কম হয়। গ্রাম অঞ্চল হতে শহর অঞ্চলের বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে তাই শহরে বৃষ্টিপাতও কম হয়।
ধুলিকণা- অঞ্চলভেদে বাতাসে ধুলিকণার পরিমাণ কম-বেশী হয়ে থাকে। মরু অঞ্চলসমূহে মরু ঝড় হলে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। বাতাসে ভাসমান ধুলিকণা হিলালের আলো বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিফলিত করে থাকে। এই বিক্ষিপ্ত আলো আমাদের চোখে পৌঁছে না। যে অঞ্চলে বাতাসে ধুলিকণার পরিমাণ খুব বেশী সেখানে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় হিলাল দেখার সম্ভাবনা কম হবে। দূষিত বাতাসের শহর হলো ঢাকা, দিল্লি, লাহোর, মেক্সিকো সিটি, লস-এঞ্জেলেস ইত্যাদি। শীত প্রধান অঞ্চল ও উপকূলীয় স্থানসমূহের বাতাসে ধুলিকণা অনেক কম থাকে আর শহর অঞ্চলে গ্রাম হতে বেশি ধুলিকণা থাকে।
গ্যাসীয় পদার্থ- অপরিকল্পিত শহর, নির্মানাধীন ঘর-বাড়ীর সংখ্যা যেখানে বেশী, রাস্তাঘাটে যানবাহনের দূষিত গ্যাসে যখন বাতাস ভারী থাকে তখন বায়ুস্তরে ভাসমান পদার্থের পরিমাণ বেশী হয়। কল-কারখানা থেকে নির্গত গ্যাসসমূহে রাসায়নিক উপাদান থাকে যা বাতাসে ঘণীভূত থাকে। তবে এই গ্যাসের উপস্থিতি উপকূলীয় অঞ্চলে কম থাকে। বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশগুলোর বাতাসে মেরু দেশগুলোর চেয়ে বেশি গ্যাসের উপস্থিতি থাকে।
বাতাসে যদি ধুলিকণা, রাসায়নিক উপাদান বেশী থাকে তখন বাতাসের স্বচ্ছতা বাধাগ্রস্ত হয়। তখন এ সকল স্থানে সহজে চাঁদ দেখতে পাবার পরিবেশ বজায় থাকে না। দেখা গেছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চ স্থানসমূহে যেমন পাহাড়ের উচ্চতায় বাতাসের স্বচ্ছতা বেশী থাকায় চাঁদ সহজেই দৃষ্টি গোচর হয়। তবে মনে রাখার বিষয় হচ্ছে, যে চাঁদ দেখা যাবার আকৃতিতে আসে না তা পাহাড়ের চূড়া হতেও দেখা সম্ভব নয়।
আবার গ্রামাঞ্চলে গাছ-গাছালি, ঘাস থাকার কারণে ধুলির পরিমাণ কম হয়। নগর এবং শিল্প এলাকার চেয়ে গ্রামাঞ্চলে চাঁদ সহজেই দৃষ্টি গোচর হয়।
শহর ও রাস্তাঘাটের আলো:
রাস্তাঘাটের আলো হিলাল দর্শনে কখনো কখনো বাধার সৃষ্টি করে থাকে। ব্যাকগ্রাউন্ড আলো হিলালের উজ্জলতাকে হার মানায়। এস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরিগুলো এ কারণে শহর থেকে দূরে বসানো হয়।
রাস্তাঘাটের অতিরিক্ত আলো যে অস্বচ্ছ পরিবেশ সৃষ্টি করে তা চাঁদ দেখতে পাবার জন্যে যথেষ্ট বাধার কারণ। দিগন্তরেখার খুব কাছে যে হিলাল দেখা যায় তার মোট আলোর মাত্র পাঁচ ভাগ বাতাস ভেদ করে আসে এবং বাকী ৯৫ ভাগ আলো বিভিন্ন দিকে বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। অনেক সময় আকাশ পরিষ্কার থাকলেও রাস্তাঘাটের উজ্জ্বল আলো চাঁদের মøান আলোকে বাধাগ্রস্ত করে। দিগন্তরেখার যেখানে চাঁদ দৃশ্যমান হয় সে অংশে ব্যাকগ্রাউন্ড আলো যদি তীব্র হয় এবং তার উজ্জ্বলতা যদি হিলালের আলোর চেয়ে উজ্জ্বল হয় তবে সে আলো চাঁদ দেখতে বাধা সৃষ্টি করবে।
চাঁদ দেখতে পাবার জন্যে “বায়ুস্তরে ভাসমান পদার্থের পরিমাণ” এবং “শহর ও রাস্তাঘাটের আলো” এ ছাড়াও বাতাসের আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, ইত্যাদি বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে বিজ্ঞানীরা তাদের চাঁদ দেখার শর্তসমূহের মধ্যে এ বিষয়গুলোকে স্থান দিয়েছেন।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবের ফতওয়া অনুযায়ী- কাঁকড়া, কচ্ছপ, অক্টপাস, ঝিনুক, শামুক, কেঁচো, কুঁচিয়া, স্কুইড, সামুদ্রিক প্রাণী শাপলা পাতা, সাপ, মেছোবাঘ (উদ) খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পুরুষের জন্য কমপক্ষে একমুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা ফরয
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৮)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৮)
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৭)
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












