সুন্নতী মুবারক তা’লীম
দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (৬)
, ০৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৩ রবি , ১৩৯২ শামসী সন , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২৬ ভাদ্র , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
চেয়ার-টেবিলে খাবার খাওয়া হারামঃ
হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, মাটির উপর অর্থাৎ মেঝেতে বা সমতল স্থানে দস্তরখানা বিছিয়ে তাতে খাদ্য-দ্রব্য রেখে আহার করা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক বা তরীক্বাহ মুবারক। কখনো কোন খাদ্য-দ্রব্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে পেশ করা হলে তিনি তা মেঝেতে সমতল স্থানে দস্তরখানায় রাখতে মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিতেন। কেননা এটা বিনয় ও আযীযী’র নিদর্শন মুবারক, দস্তরখানা পরকালে ছফরের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, কেননা এটা স্থানান্তর সাপেক্ষ। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে সর্বপ্রথম যে চারটি বিদআতের প্রচলন শুরু হয়, তন্মধ্যে চেয়ার-টেবিলে পানাহার করা একটি। (ইহ্ইয়াউ উলূমিদ্দীন)
আল্লামা মানাউয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, “টেবিলের উপর খাবার রেখে আহার করা হচ্ছে- অহংকারীদের অভ্যাস। ” নাউযুবিল্লাহ!
চেয়ার-টেবিলে পানাহার করলে অবশ্যই বে-দ্বীন-বদদ্বীন ও বেধর্মীদের অনুসরণ করা হবে। কেননা তারাই চেয়ার-টেবিলে খাদ্য খাওয়ার পদ্ধতি চালু করেছে। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ.
অর্থ: “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখবে, অনুসরণ-অনুকরণ করবে, সে সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে অর্থাৎ তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে। ” (আবূ দাউদ শরীফ)
কাজেই, কোন অবস্থাতেই চেয়ার-টেবিলে বসে খাদ্য খাওয়া জায়িয হবে না। বরং ইহা বিদআত ও গোমরাহীমূলক আমল। যারা চেয়ার-টেবিলে বসে খাদ্য খাবে তাদের হাশর-নশর অবশ্যই বে-দ্বীন-বদদ্বীন ও বেধর্মীদের সাথেই হবে। নাউযুবিল্লাহ!
যমীনে বা মেঝেতে অর্থাৎ সমতল স্থানে বসে খাবার খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারকঃ
সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত-
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَجْلِسُ عَلَى الْأَرْضِ وَيَأْكُلُ عَلَى الْأَرْضِ.
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনের বা মেঝের উপর বসতেন এবং যমীনে বা মেঝেতে বসে মহাসম্মানিত আহার মুবারক করতেন। (শুআবুল ঈমান শরীফ, বায়হাক্বী শরীফ, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৭৮৪৩; আল মু’জামুল কাবীর, তবারানী, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১২৪৯৪; মাজমাউয যাওয়ায়িদ, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১৪২২২)
উল্লেখ্য, এখানে যমীনে বা মেঝের উপর বসে খাওয়ার অর্থ হচ্ছে সমতল স্থানে বসে খাওয়া। অর্থাৎ যেখানে বসা হয়েছে পাত্র তার চেয়ে উঁচু স্থানে বা উঁচু কোনো কিছুতে রেখে না খাওয়া। তবে কেউ যদি চকিতে বসে চকির মধ্যেই দস্তরখানা বিছিয়ে তার উপরই পাত্র রেখে খাবার খান তাহলে সেটাও যমীনে বসে খাওয়ার মধ্যেই গণ্য হবে।
দস্তরখানায় খাদ্যের ঝুটা রাখা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ:-
মনে রাখতে হবে, দস্তরখানা সর্বদাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। দস্তরখানা কখনোই নোংরা করে রাখা যাবে না। মাছের কাঁটা, হাড়-হাড্ডি, সর্বপ্রকার খাবারের উচ্ছিষ্ট ইত্যাদি ফেলার জন্য আলাদা একটি পাত্র রাখতে হবে। অনেককে দেখা যায়, দস্তরখানার উপর কাঁটা, হাড্ডি, খাবারের উচ্ছিষ্ট ইত্যাদি ফেলে। দস্তরখানাতে এগুলো ফেলানো মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












