সুন্নতী মুবারক তা’লীম
দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
, ০২ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৯ রবি , ১৩৯২ শামসী সন , ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২২ ভাদ্র , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
(سُفْرٌ সুফরুন ) দস্তরখানা ব্যবহার করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারকঃ
আমরা মুসলমান আমাদের সর্বক্ষেত্রে অনুসরণীয় হচ্ছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, মহাসম্মানি মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। কেননা, উনারাই হলেন সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক। আহার করার ক্ষেত্রেও উনাদেরকেই অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ মুবারকেই আহার করতে হবে।
দস্তরখানায় খাবার পড়ে গেলে তা উঠিয়ে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কখনো এক টুকরা বা একটা দানা খাবারও নষ্ট করেননি অর্থাৎ খাবার কখনো অপচয় করেননি। খাবার পড়ে গেলেও তুলে খেয়েছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, প্রত্যেকটি খাদ্যের দানার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি ৭০ জন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নিয়োজিত রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সেজন্য উনারা ব্যবহার করেছেন খাছ সুন্নতী দস্তরখানা। কাজেই, আমাদের জন্য আবশ্যক হলো উনাদের ইত্তিবা মুবারক করা।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ مَا أَكَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلٰى خِوَانٍ وَلَا فِي سُكُرُجَةٍ وَلَا خُبِزٍ لَهٗ مُرَقَّقٌ. قُلْتُ لِـحَضْرَتْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَلٰى مَا يَأْكُلُوْنَ قَالَ عَلَى السُّفَرِ.
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনো ‘খিওয়ান’ (টেবিলের মত উঁচু স্থানে)-এর উপর খাবার রেখে সম্মানিত আহার মুবারক করেননি এবং ছোট ছোট বাটিতেও তিনি সম্মানিত আহার মুবারক করেননি। আর উনার জন্য কখনো পাতলা রুটি তৈরী করা হয়নি। রাবী (হযরত ইউনুস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি) বলেন, আমি হযরত ক্বত্বাদাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে উনারা কিসের উপর মহাসম্মানিত আহার মুবারক করতেন? তিনি বললেন, (খয়েরী রংয়ের) দস্তরখানার উপর। ” (বুখারী শরীফ: কিতাবুত ত্বআমাহ: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ শরীফ নং ৫৪১৫, তিরমিযী শরীফ: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১৭৮৮, ইবনে মাজাহ শরীফ: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৪১৭)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত দস্তরখানা মুবারক ছিল চামড়ার এবং খয়েরী রংয়ের (খাসীর) চামড়ার। (শামায়েলে তিরমিযী শরীফ, আনিসুল আরওয়াহ্, জামউল ওসায়েল)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দস্তরখানা বিছিয়ে মহাসম্মানিত আহার মুবারক করতেন। তিনি কখনো টেবিল বা টেবিলের মত উঁচু স্থানের উপর খাবার রেখে মহাসম্মানিত আহার মুবারক করেননি। তাই টেবিল বা টেবিলের মত উঁচু স্থানের উপর খাবার রেখে আহার করা সুস্পষ্ট বিদ্আত এবং জায়িয মনে করা কুফরী।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَسْـمَاءِ بِنْتِ اَبِـىْ بَكْرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا قَالَتْ صَنَعْتُ سُفْرَةَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ بَيْتِ اَمِيْرِ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَبِـىْ بَكْرٍ الصَّدِيْقِ الْأَكْبَرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ حِيْنَ اَرَادَ اَنْ يُّهَاجِرَ اِلَى الْـمَدِيْنَةِ قَالَتْ فَلَمْ نـَجِدْ لِسُفْرتِهٖ وَلَا لِسَقَائِهٖ مَانَرْبَطُهُمَا بِهٖ فَقُلْتُ لِسَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَبِىْ بَكْرٍ الصَّدِيْقِ الْأَكْبَرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَاللهِ مَا اَجِدُ شَيْئًا اَرْبُطُ بِهٖ اِلَّا نِطَاقِىْ قَالَ فَشَقِّيْهِ بِاثْنَيْنِ فَارْبِطِيْهِ بِوَاحِدٍ السِّقَاءَ وَبِالْاٰخَرِ السُّفْرَةَ فَفَعَلْتُ فَلِذٰلِكَ سُـمِّيْتُ ذَاتُ النِّطَاقَيْنِ.
অর্থ: “হযরত আসমা বিনতে আবূ বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বর্ণনা করেন। পবিত্র মদীনা শরীফে মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক করার প্রাক্কালে আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার বাড়ি মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য আমি সুফরা বা দস্তরখানা বানিয়ে দিয়েছি। সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পানির মশক মুবারক বাঁধার জন্য এবং দস্তরখানার জন্য কোনো কিছু পাচ্ছিলাম না। তখন আমি আমার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মুবারক খিদমতে বিষয়টি জানালাম যে, আমার “কোমর বন্ধ” ব্যতীত পানির মশক বাঁধা এবং দস্তরখানার জন্য কিছু পাচ্ছি না। তিনি বললেন, উহাকে দু’টি টুকরা করুন। একটি দ্বারা মশক বেঁধে দিন। আর অপর অংশ দস্তরখানার জন্য দিয়ে দিন। আমি সেটাই করলাম। আর এ কারণে আমাকে ‘যাতুন নিত্বাক্বইন’ বলা হতো। (বুখারী শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (১)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












