তিতাস লাভের টাকা ব্যাংকে রেখে মুনাফা নেয়। আর জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প প্রস্তুত করে অর্থায়নের জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে।
তিন বছর ঝুলে আছে গ্যাস লাইনের ছিদ্র শনাক্ত প্রকল্প, গ্রাহক নিরাপত্তায় কোনই আগ্রহ নেই তিতাসের। সরকারের নজরদারি অতীব জরুরী
, ০৮ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২৯ হাদি ‘আশির, ১৩৯০ শামসী সন , ২৯ এপ্রিল, ২০২৩ খ্রি:, ১৬ বৈশাখ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
তিতাস একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। বছরে বিপুল অঙ্কের মুনাফা করেও গ্রাহকের, বিশেষ করে আবাসিক গ্রাহকের নিরাপত্তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই প্রতিষ্ঠানটির। সম্প্রতি শিল্প-গ্রাহকের সুবিধার্থে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২৮ লাখ আবাসিক গ্রাহকের সুরক্ষায় ৪৬৯ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন পরিবর্তন বা সংস্কারের ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না তিতাস।
ঢাকা শহরে এমন কোনো এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে তিতাসের গ্যাস পাইপ লাইনে ছিদ্র নেই। এসব ছিদ্র দিয়ে গ্যাস নির্গত হয়ে বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, হচ্ছে প্রাণহানি। উড়ে যাচ্ছে শত শত কোটি টাকার গ্যাস। এসব ছিদ্র শনাক্ত ও মেরামতে আধুনিক প্রযুক্তি নেই তিতাসের। এ ছাড়া হাজার হাজার ছিদ্র মেরামতে তিতাস কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ খুবই মামুলি, রয়েছে সংশ্লিষ্টদের ঢিলেমিও। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে ছিদ্র মেরামত করা হয়, তা পুরোটাই অনুমাননির্ভর ও বিক্ষিপ্তভাবে মাটি খুঁড়ে ছিদ্র চিহ্নিত করে মেরামত করা। মেরামতের জন্য ফোন দিলে সময়মতো না আসা এবং ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তিতাসের বিরুদ্ধে। বছরে অন্তত একবার গ্রাহকের পাইপলাইন পরীক্ষা করার কথা থাকলেও তিতাস কর্তৃপক্ষ এতে উদাসীন।
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে গত দুই বছরে গ্যাসের লিকেজের কারণে একাধিক বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে মারা যান ৩৪ জন। মগবাজারে একটি ভবনে বিস্ফোরণে মারা যায় সাতজন। সম্প্রতি সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ও সিদ্দিক বাজারে ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনাও গ্যাসের পরিত্যক্ত লাইনের লিকেজ থেকে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দুই বিস্ফোরণে মারা গেছেন ৩২ জন।
গত সোমবার রাতে পাইপের ছিদ্র থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধে রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও তিতাসের ঝুঁকিপূর্ণ পাইপলাইনের চিত্র বেরিয়ে আসে। এতে রাজধানীতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তিতাস বলছে, সম্প্রতি সায়েন্স ল্যাব ও সিদ্দিক বাজারের বিস্ফোরণের পর গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ চিহ্নিত ও মেরামত করতে পাইপলাইনে ‘ওডোর্যান্ট’ নামে ঝাঁজালো গন্ধের এক ধরনের রাসায়নিক প্রবেশ করানো হচ্ছে। ঈদের ছুটিতে চাহিদা কম থাকায় গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওডোর্যান্ট ও গ্যাস মিলিয়ে তীব্র গন্ধ পাওয়া যায়। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনটি কারণে গ্যাসের পাইপলাইনে ছিদ্র হচ্ছে। এগুলো হচ্ছেÑঅতি পুরোনো পাইপলাইন, পাইপলাইনে সঠিকভাবে জং প্রতিরোধী আবরণ না দেওয়া এবং মানহীন পাইপ ব্যবহার। এ ছাড়া তিতাসের কাছে প্রতিষ্ঠানটির পাইপলাইনের বিস্তারিত কোনো ডাটা ও ম্যাপ নেই। কাজ চালাতে হয় অনেকটা আন্দাজের ওপর ভর করে। যেসব প্রকৌশলী তিতাসের পাইপলাইন স্থাপনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের অনেকেই অবসরে গেছেন, কেউ কেউ মারাও গেছেন। তিতাসের পাইপলাইন ও সংযোগের ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বা জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) করা হয়নি। অতি পুরোনো এই পাইপলাইন সংস্কারের জন্য নেওয়া প্রকল্প ঝুলে আছে কয়েক বছর।
তিতাস সূত্রে জানা গেছে, তিতাসের ১৩ হাজার ১৩৮ কিলোমিটার পাইপলাইনের মধ্যে ঢাকায় আছে ৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাইপলাইন। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ২৮ লাখ ৭৭ হাজার ৬০৪ গ্রাহককে গ্যাস বিতরণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে আবাসিক সংযোগ ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৮টি। স্থাপন করা পাইপের মেয়াদ ধরা হয় ৩০-৩৫ বছর। ৬০ শতাংশের বেশি পাইপলাইনের মেয়াদ ফুরিয়েছে ২০ বছরের অধিক সময়। এই দীর্ঘ সময়েও পাইপলাইন পরিবর্তন না করায় লিকেজ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে করোনাকালের আগে তিতাস গ্যাসের পুরো পাইপলাইন সংস্কারের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। ওই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি।
দেশের মজুদ পরিস্থিতি ও শিল্প খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে ২০১৪ সাল থেকে আবাসিক গ্রাহককে গ্যাস না দেওয়ার নির্দেশনা জারি করে সরকার। মূলত এরপর থেকেই গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে গুরুত্ব কমতে থাকে আবাসিকের গ্রাহকের। নতুন করে সংযোগ দেওয়া না হলেও পুরোনো ২৮ লাখ গ্রাহকের সেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি নিয়েও খুব একটা মাথাব্যথা নেই তিতাসের। অথচ প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর গড়ে যে ১৮ হাজার কোটি টাকার গ্যাস বিক্রি করে তার একটি বড় অংশের ভোক্তা আবাসিকের গ্রাহকরাই। গত অর্থবছরেও (২০২১-২২) আবাসিকের গ্রাহকদের কাছে ৩ হাজার ৫৬ কোটি টাকার গ্যাস বিক্রি করেছে তিতাস।
গত বছরের ৩০ জুন তিতাসের ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় পরিচালকম-লীর দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্যাস বিতরণ নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ করতে তিতাসের নিজস্ব অর্থায়নে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকার ৬০টি এলাকায় ও নারায়ণগঞ্জ সিটিতে গ্যাস বিতরণের জন্য ২ থেকে ২০ ইঞ্চি ব্যাসের ৭২ দশমিক ৫ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া পৌনে এক ইঞ্চি থেকে দুই ইঞ্চি ব্যাসের ৩৯৭ কিলোমিটার সার্ভিস লাইন নির্মাণ ও প্রতিস্থাপন করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ দুই নগরীর বাসিন্দারা গ্যাস লিকেজের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
কিন্তু সূত্র বলছে, গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে এই প্রকল্প নিয়ে শুধু আলোচনাই চলছে। মূলত আবাসিক গ্রাহকদের নিয়ে অনাগ্রহের কারণেই এমনটি করা হচ্ছে।
অভিজ্ঞমহল মনে করেন, তিতাস তার গ্রাহকদের উন্নত সেবা দিতে ব্যর্থ। এটা প্রমাণিত। তারা মুনাফা নেবে কিন্তু সেবা দেবে না। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ঘটলে তার দায় তিতাসকেই নিতে হবে। ছিদ্রযুক্ত পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ করা, সেই গ্যাস লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়া এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ানোর মতো অপরাধ করা হচ্ছে। এসব কারণে সবার আগে বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত। এক্ষেত্রে সরকারকেই অগ্রণী হতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (৩)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে স্থলে, নদীতে, পাহাড়ে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না।
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফারাক্কা মরণ বাধ, তিস্তার পানি বন্ধের পর, ভারত এখন মেঘালয়ে মিন্টডু ও কিনশি নদীতে ৭টি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে যাচ্ছে। এতে বাধাগ্রস্থ হবে বাংলাদেশের সারি- গোয়াইন নদী, যাদুকাটা নদী ও সুরমা নদীর প্রবাহ। হবে বহুমাত্রিক ও অনেক বড় ক্ষতি সরকারকে এর শক্ত প্রতিবাদ জানাতে হবে। কঠিন ব্যবস্থা নিতে হবে ইনশাআল্লাহ। (২য় পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ফারাক্কা মরণ বাঁধ, তিস্তার পানি বন্ধের পর, ভারত এখন মেঘালয়ে মিন্টডু ও কিনশি নদীতে ৭টি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে যাচ্ছে।
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এর মাধ্যমে পাহাড়কে উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা, ‘এক দেশে দুই আইন’ ও পাহাড়ে রাজা-প্রজা প্রথা বহাল, বাঙ্গালী ও রাষ্ট্রের ভূমি অধিকার হরণ এবং সেনা প্রত্যাহারসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্নের গভীর ষড়যন্ত্র চলমান। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া। (২)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (১)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন। ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না। হিন্দুস্থান টাইমস ও কুখ্যাত প্রথম আলো তথা ভারত-আমেরিকার কুচক্রীরা একযোগে ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে জনসচেতন হতে হবে ইনশাআল্লাহ। (১ম পর্ব)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের (টঘচঋওও) ২৫তম অধিবেশনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ রাষ্ট্র, অপাহাড়ি বাংলাদেশি নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করছে।
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধ: বিদ্যুৎ বাঁচানোর নামে অর্থনীতি ধ্বংস এবং দারিদ্রতা বৃদ্ধি করে দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এক সাগরে দুই চিত্র দেশের জেলেদের উপর পুলিশি সাড়াশী অভিযান আর ভারতীয় জেলেদের ক্ষেত্রে চোখ কান বন্ধ রেখে মাছ লুটের অবাধ সুযোগ করে দেয়া নিষেধাজ্ঞার সুফল পায়- ভারতীয় জেলে আর ঠকে এদেশীয় জেলে ও গণমানুষ।
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না। যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (৬)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চিনিকল খোলার দাবীতে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। বিদেশিরা চিনিকল চালু, বিনিয়োগ ও লাভের সম্ভাবনা দেখতে পেলেও সরকার তা দেখতে পাচ্ছে না কেন চিনিকল বন্ধ থাকলে রাষ্ট্র হারায় সম্পদ, লুণ্ঠনকারীদের হয় পোয়াবারো।
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












