তা’বীয ও ঝাড় ফুঁক সম্পর্কে শরয়ী ফায়সালা (৫)
, ৩০ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৬ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ০৪ অক্টোবর , ২০২৪ খ্রি:, ১৯ আশ্বিন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তা’বীয ও যাদু-বান টোনার মধ্যে পার্থক্য:
تعويذ (তা’বীয) শব্দটি আরবী। باب تفعيل এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল। عوذ (আওয) মাদ্দা বা মুল শব্দ হতে নির্গত। অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা তথা রোগ মুক্তির জন্য দোয়া করা।
শারিরীক বা মানষিক রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য কোন আয়াত শরীফ অথবা দোয়া-কালাম লিখে সঙ্গে রাখাকে তা’বীয বলে। তা’বীযকে কেহ কেহ তামীমাহ বলে থাকে।
হযরত ইমাম মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন, ঝাড়-ফুঁক ও তা’বীয বা তামীমাহ দু’ প্রকার।
১। হক্ব বা শরীয়তসম্মত ঝাড়, ফুঁক ও তা’বীয।
২। বাতিল বা শরীয়ত বহির্ভূত ঝাড়-ফুঁক ও তা’বীয।
(১) হক্ব বা শরীয়তসম্মত ঝাড়-ফুঁক ও তা’বীয: পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ অথবা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত দোয়া-কালাম কিংবা শরীয়তসম্মত বাক্য দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা কিংবা তা লিখে মাদুলিতে ভরে গলায় অথবা হাতে ঝুলানো হয়।
(২) বাতিল বা শরীয়ত বহির্ভূত ঝাড়-ফুঁক ও তামীমাহ; যা যাদুকর, গনক, ইহুদী-নাছারা, মজুসী-মুশরিক, যোগী-সন্নাসী, ফাসিক-ফুজ্জাররা কুফরী-শিরকী বাক্য দ্বারা যে যাদু মন্ত্র পড়ে কিংবা গলায় কিংবা হাতে-কোমরে বা অন্য কোন স্থানে ঝুলায়।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত খারীযা ইবনে ছলত তামিমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিত চাচার কাছ থেকে তিনি বর্ণনা করেন, একদিন তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম কবুল করেন। ফেরার পথে তিনি একটি সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেই গোত্রের এক পাগল লোহার শিকলে বাঁধা ছিল। উনাকে দেখে সেই গোত্রের লোকেরা উনাকে বললো, আমরা জানতে পারলাম যে, আপনাদের একজন সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছেন যিনি কল্যাণ নিয়ে এসেছেন। আপনাদের এমন কিছু জানা আছে কি, যা দ্বারা আপনারা এই পাগলের চিকিৎসা করতে পারবেন?
তখন আমি পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পড়ে তাকে ঝাড়-ফুঁক করলাম। সে সুস্থ হয়ে গেল। তারা আমাকে একশত বকরী দিল। আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে ঘটনাটি জানালাম। তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ ব্যতীত অন্য কিছু পড়ে ঝাড়-ফুঁক করেছেন কি? আমি বললাম জি, না, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি অন্য কিছু পড়ে ফুঁ দেইনি। তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
خُذْهَا فَلَعَمْرِي لَمَنْ أَكَلَ بِرُقْيَةِ بَاطِلٍ لَقَدْ أَكَلْتَ بِرُقْيَةِ حَقٍّ".
অর্থ: আপনি উক্ত হাদিয়া গ্রহণ করুন। লোকেরা বাতিল মন্ত্র পড়ে জীবিকা নির্বাহ করে। আর আপনি হক্ব তথা সত্য ঝাড়-ফুঁক দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ)
আলোচ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, দোয়া-কালাম সূরা শরীফ বা আয়াত শরীফ ও দোয়া কালাম পড়ে, ঝাড়-ফুঁক করা হক্ব তথা শরীয়তসম্মত। আর জাহিলী যুগের কুফরী শিরকী শব্দ সম্বলিত ঝাড়-ফুঁক করা হারাম ও বাতিল। আর তার পারিশ্রমিকও হালাল নয়। সেটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শিক্ষা দিয়েছেন।
-আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












