তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (২১)
, ২৩ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৫ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ২৪ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ৯ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কাফির, মুশরিকদের সাথে সম্মানসূচক ব্যবহার করা এবং এদেরকে সম্মানসূচক শব্দ দ্বারা সম্বোধন করা কুফরী
১ম দলীল
এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ نَـهٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْ يُّصَافَحَ الْمُشْرِكُـوْنَ اَوْ يُكَـنَّـوْا اَوْ يُـرَحَّبَ بِـهِمْ
“হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুশরিকদের সাথে মুছাফাহা করতে বা তাদেরকে সম্মানসূচক শব্দ দ্বারা সম্বোধন করতে বা মারহাবা জানাতে নিষেধ করা হয়েছে, শুভেচ্ছা-স্বাগত জানাতে নিষেধ মুবারক করেছেন অর্থাৎ করা যাবে না। ” হিলইয়াতুল আউলিয়া ৯/২৩৬
২য় দলীল
‘আল আশবাহ্, তানভীরুল আবছার, রদ্দুল মুহ্তার, ফতওয়ায়ে শামীসহ’ অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
لَوْ سَلَّمَ عَلَى الذِّمِّىِّ تَـبْجِيْلًا يَكْفُرُ لِاَنَّ تَـبْجِيْلَ الْكَافِرِ كُفْرٌ
“কেউ যদি কোনো কাফির-মুশরিক যিম্মীকে সম্মানসূচক অভিবাদন জানায়, তাহলে সে কুফরী করলো। কারণ কাফিরকে সম্মান করাও কুফরী। ” না‘ঊযুবিল্লাহ!
৩য় দলীল
‘আল আশবাহ্’ কিতাবে আরো বলা হয়েছে-
لَوْ قَالَ لِمَجُوْسِىِّ يَا اُسْتَاذُ تَـبْجِيْلًا كَفَرَ
“কেউ যদি কোনো মজূসীকে (অগ্নি উপাসককে) সম্মান করে ‘ইয়া ওস্তায’ বলে সম্বোধন করে, তাহলেও সে কাফির হয়ে যাবে। ” না‘ঊযুবিল্লাহ!
অর্থাৎ কাফির, মুশরিক, বেদ্বীন-বদ্দ্বীন, ইহুদী, নাছারা, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুজূসী, ওলামায়ে সূ, মুনাফিক, নাস্তিক এদের সাথে সম্মানসূচক ব্যবহার করা যাবে না এবং এদেরকে সম্মানসূচক শব্দ দ্বারা সম্বোধনও করা যাবে না। যে বা যারা করবে সে বা তারা কাট্টা কাফির হবে।
তাহলে যে সকল ওলামায়ে সূ’রা মন্দির পাহারা দিয়েছে, হিন্দুদের পূজায় গিয়েছে, তাদেরকে পূজা করতে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে, সমর্থন করেছে, তাদের সাথে মুছাফাহা ও মুয়ানাক্বা করেছে, তাদেরকে সম্মান করেছে, তা’যীম তাকরীম করে বাহ বাহ দিয়েছে এবং আরো বেশি বেশি মূর্তি তৈরী করতে বলেছে। সাথে সাথে বেশি বেশি পূজাও করতে বলেছে। আরো বলেছে তারাই মন্দির ও মূর্তি পাহারা দিবে যাতে তারা মনের সুখে পূজা করতে পারে, তাদের ফায়ছালা কী? তাদের ফায়ছালা হলো- সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হিসেবে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। যারা সন্দেহ করবে তারাও কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হবে। এদের ইমামতিতে নামায পড়া যায়েজ নেই। কারণ এরা মুরতাদ ও কাফির হয়ে গেছে। কেউ যদি তাদের পিছনে নামায পড়ে তাহলে তার নামায কখনোই হবে না। তাকে নামায অবশ্যই দোহরায়ে পড়তে হবে। অন্যথায় সে শুধুমাত্র নামায তরকের গুনাহে গুনাহগারই হবে না বরং সেও মুরতাদ ও কাফির হবে।
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৯)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িয
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (২৫)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সারাবিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন সম্ভব কি? একটি দলীলভিত্তিক বিশ্লেষণ.... (৬)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৮)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (২৪)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সারাবিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন সম্ভব কি? একটি দলীলভিত্তিক বিশ্লেষণ.... (৫)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৭)
২৬ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২৬ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)