পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরা সম্পর্কে-
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরা সম্পর্কে (১৫)
, ০১ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১১ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ১০, মে, ২০২৪ খ্রি:, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيْمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيْلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ. رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَاۤ أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَاۤ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ.
“হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম, যিনি খলীলুল্লাহ, উনাকে যখন জায়গাটা দেখিয়ে দেয়া হলো, যে এখানে আপনি পবিত্র কা’বা শরীফ নির্মাণ করুন। স্থানটা এরকম ছিলো, এর মাপটা এতটুকু ছিলো ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি উনার ছেলে হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে সেটাকে আবার নির্মাণ করার জন্য কাজ শুরু করলেন। যখন নির্মাণ হলো সেই অবস্থায় তিনি দোয়া করলেন, সেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি বলতেছেন,
وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيْمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيْلُ
যখন হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার ছেলে হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনারা পবিত্র কা’বা শরীফ উনার ভিত্তি স্থাপন করলেন। দোয়া করলেন,
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّاۤ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ،
হে মহান আল্লাহ পাক! আমাদের থেকে আপনি এটা গ্রহণ করুন, কবুল করুন। আপনি শ্রবণকারী, জ্ঞানী।
رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ
বারী ইলাহী! আমাদের উভয়কে আপনার খাছ নবী-রসূল আলাইহিমাস সালাম হিসাবে, খলীলুল্লাহ ও যবীহুল্লাহ হিসাবে কবুল করে নিন।
وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَاۤ أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ
এবং আমাদের বংশধরদের মধ্যে এক কাওমকে আপনি আপনার খাছ বান্দা-বান্দি হিসাবে কবুল করে নিন। অর্থাৎ হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বংশধর থেকে একটা গোত্র যেন, যারা যিনি খ্বলিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ বান্দা-বান্দি হিসেবে থাকবেন। উনাদেরকে যেন মহান আল্লাহ পাক তিনি মনোনীত করে নেন, পছন্দ করে নেন। পরবর্তী কাজের জন্য। সেটাই তিনি দোয়া করতেছেন। তিনি দোয়া মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন উনাদের উভয়কে কবুল করেন। উনাদের তরফ থেকে উনাদের মাধ্যম দিয়ে উনাদের বংশধর, খাছ কিছু বংশধর উনাদেরকে যেন মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করে নেন। যাদের অর্থাৎ যে কাওম উনাদের মাধ্যম দিয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার যে, কাজগুলো সেগুলো সম্পাদন করবেন। তিনি দোয়া মুবারক করলেন,
وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا
আয় আল্লাহ পাক! আমাদেরকে হজ্জ করার নিয়ম-কানুনটা শিক্ষা দিন। আপনার রেজামন্দী, সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের বিষয়টা আমাদেরকে শিক্ষা দিন।
وَتُبْ عَلَيْنَا
আমাদেরকে কবুল করে নিন
اِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ.
নিশ্চয়ই আপনি, যারা তাওবাকারী, যারা আপনার প্রতি প্রত্যাবর্তন করে, রুজু হয়ে থাকে তাদেরকে আপনি কবুল করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
এখানে বলা হয়ে থাকে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, হযরত খলীল আলাইহিস সালাম তিনি দোয়া মুবারক করেছেন। প্রকৃতপক্ষে বিষয়টা যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, যিনি ইমামুল মুরসালীন, যিনি খ্বতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের বিষয়টা তিনি এখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি দোয়া মুবারক করে তিনি নিজে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যম দিয়ে তিনি বরকত রহমত ছাকীনা হাছিল করে নিলেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যখন পবিত্র কা’বা শরীফ পুনঃনির্মাণ করলেন, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে বললেন-
وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْـحَجِّ
“(মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,) হে হযরত খলীল আলাইহিস সালাম! আপনি মানুষদেরকে পবিত্র হজ্জের জন্য ডাকুন, আযান দিন। সমস্ত জিন-ইনসানকে পবিত্র হজ্জ সম্পাদন করার ঘোষণা দিন। আপনি সবাইকে পবিত্র হজ্জের জন্য আহবান করুন।
يَأْتُوْكَ رِجَالًا وَّعَلٰى كُلِّ ضَامِرٍ يَّأْتِيْنَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيْقٍ
তাহলে দেখবেন, মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে, বাহনে করে, উটে করে দূর-দূরন্ত থেকে তারা হজ্জ করতে আসবে। সুবহানাল্লাহ!
যখন এ কথা বলা হলো, তখন হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আয় বারে ইলাহী! কোথা থেকে আমি ডাকবো? তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনি আবূ কুবাইছ পাহাড়ে উঠে ঘোষণা দিন। তখন হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! এখানেতো কোন মানুষ-জন নেই। আমি কাদেরকে সম্বোধন করবো? তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনি ঘোষণা দিন। সেটা পৌঁছে দেয়া আমার দায়িত্ব। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












