পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরা সম্পর্কে-
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরা সম্পর্কে (১৩)
, ২৮ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৯ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ০৮, মে, ২০২৪ খ্রি:, ২৯ বৈশাখ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পৃথিবীর চাঁদ সম্পর্কে যতগুলি সংস্থা রয়েছে, নাসা রয়েছে, যারা রকেট নিক্ষেপ করে এরাও কিন্তু চাঁদের মাসয়ালা জানে না। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, তারা রকেট সম্পর্কে অভিজ্ঞ। চাঁদ সম্পর্কে অভিজ্ঞ না। অনেকগুলি বিষয় রয়েছে, যারা এ সমস্ত বিষয় নাড়াচাড়া করে থাকে, তাদের চাঁদ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কম। যার কারণে সৌদি আরব ধোঁকা দিতে পারে, মিথ্যা বলে। এখন এ বিষয়ে ইলম অর্জন করা প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমাদের এখানে কয়েকবার চাঁদের প্রদর্শনী করা হয়েছে। আমরা বলেছি, সামনে আরো করার জন্য। যাতে চাঁদের মাসয়ালা প্রত্যেকেই জেনে সে অনুযায়ী আমল করতে পারে।
কাজেই বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিত্র হজ্জ পবিত্র উমরাহ করতে হবে, কিন্তু উমরাহর জন্য যদিও যে কোন মাস যে কোন দিন সে করতে পারবে। সে নির্দিষ্ট পাঁচ দিন ব্যতীত। কিন্তু পবিত্র হজ্জতো সবসময় করতে পারবে না। নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত। কাজেই এটা ফিকির করতে হবে। চাঁদের মাসয়ালাটা ফিকির করতে হবে। এখন ইহুদী নাছারারা চাঁদের সম্পর্কে জানে না এবং চাঁদ সম্পর্কে কোন প্রকার তাহক্বীক্ব তাদের নেই। যেহেতু চাঁদ তাদের প্রয়োজন হয় না। মুসলমানদের প্রয়োজন হয়ে থাকে। কাজেই মুসলমানদেরকে তাহক্বীক্ব করতে হবে। এবং সে বিষয়টা ব্যাপক আলোচনা করতে হবে। এখন আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত মজলিস যারা করে, তারা সব জায়গায় সেটা করতে পারে। সারা দেশে সারা পৃথিবীব্যাপী করতে পারে। সঠিকটা মানুষকে বলা যেতে পারে। যাতে মানুষের অর্থাৎ মুসলমানদের পবিত্র হজ্জ শুদ্ধ হয়। এখন মানুষ এতো কষ্ট করে পবিত্র হজ্জ করতে যায়, চাঁদের তারিখ পরিবর্তন করে দিল, তাহলে পবিত্র হজ্জ হলো কি করে। এছাড়াতো আরো ফিতনা রয়েছে। বেপর্দা ও ছবির ফিতনা রয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ!
কাজেই চাঁদের বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা প্রত্যেককে তাহক্বীক্ব করতে হবে। তাহক্বীক্ব করে চাঁদ দেখে তারপর পবিত্র হজ্জ করা। এ বিষয়টা ফায়সালা করতে হবে। সমস্ত শর্ত শারায়েত পূর্ণ হলে তখনই তার পবিত্র হজ্জে মাবরূর নছীব হবে। সুবহানাল্লাহ! চাঁদ দেখার যে বিষয় সে বিষেয় পবিত্র হাদীছ শরীফে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে ২৯ বা ৩০ দিন। এদের অনেকের কাছে যোগাযোগ করার পর এরা কিন্তু বলেছে, বহপুপষড়ঢ়বফরধ নৎরঃধহহরপধ (এনসাইক্লপেডিয়া ব্রিটিনিকা) সেখানে তাদের একটা বক্তব্য রয়েছে, চাঁদকে বুঝতে হলে ষাট হাজার ক্যালকুলেশন করতে হবে। এটা একটা প্রতারণা, ধোঁকা, মিথ্যা কথা। এরা কঠিন মিথ্যাবাদী, কাট্টা মূর্খ ও গুমরাহ হওয়ার কারণে একথা বলেছে। অতএব ষাট হাজার কেন ষাট লক্ষ ক্যালকুলেশন করলেও তারা বুঝতে পারবে না। যার জন্য সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
صُومُوْا لِرُؤْيَتِه وَأَفْطِرُوْا لِرُؤْيَتِه،
চাঁদ দেখে মাস গণনা করবে, চাঁদ দেখেই ঈদ করবে তথা পরবর্তী মাস গণনা করবে। এটা স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে। এখানে কোন অস্পষ্টতা নেই। চু-চেরা করার কোন সুযোগ নেই। আরবী মাস হয় ২৯ দিনে হবে না হয় ৩০ দিনে হবে। আরবী মাস কখনও ২৮ দিনেও হয় না এবং ৩১ দিনেও হয় না। কাজেই বিষয়টা ফিকির করতে হবে। সৌদি আরব কিন্তু আমাদের লেখালেখির কারণে এক বছর তারা আরবী একমাস ৩১ দিনও গণনা করেছে। নাউযূবিল্লাহ! ওটা আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। বিষয়টা ফিকির করতে হবে। পবিত্র হজ্জ উনার বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিত্র হজ্জ সঠিকভাবে করতে হলে প্রাথমিকভাবে চাঁদের বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদের তাহক্বীক্ব ভালো করে করতে হবে। এটা বুঝতে হলে পড়াশুনা করতে হবে। আর এ বিষয় পড়াশুনা করতে হলে আলাদা বই-পুস্তক পাওয়া যাবে না। আমাদের এখানে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ও দৈনিক আল ইহসান শরীফ রীতিমত পড়লেই এ বিষয়গুলো বুঝতে সহজ হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে এ বিষয় যথাযথভাবে বুঝার তাওফীক্ব দান করেন।
যিনি খ্বলিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরা সম্পর্কে বান্দা-বান্দি, উম্মতদের জন্য বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, বর্ণনা করেছেন। যে সম্পর্কে বান্দা-বান্দি, উম্মতদের ইলম অর্জন করা ফরযের অন্তর্ভূক্ত।
যিনি খ্বলিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَأَتِـمُّوا الْـحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلّٰهِ
“তোমরা পবিত্র হজ্জ ও উমরাহ করো যিনি খ্বলিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার রেজামন্দী-সন্তুষ্টি হাছিলের উদ্দেশ্যে এবং যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি রেজামন্দী হাছিলের লক্ষ্যে। ” সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بُنِيَ الْإِسْلاَمُ عَلٰى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُـحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيْتَاءِ الزَّكَاةِ وَالْـحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَان.
হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সম্মানিত ইসলামের ভিত্তি হলো পাঁচটি বিষয়ের উপরে। প্রথম: কালিমা শরীফ, মহান আল্লাহ পাক তিনি একক এবং উনার হাবীব এবং আবদ এবং রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। এরপর
وَإِقَامِ الصَّلاَةِ
পবিত্র নামায ক্বায়িম করা।
وَإِيْتَاءِ الزَّكَاةِ
পবিত্র যাকাত আদায় করা।
وَالْـحَجِّ
পবিত্র হজ্জ সম্পাদন করা।
وَصَوْمِ رَمَضَانَ
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার রোযা রাখা। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












