গোসল করার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তারতীব মুবারক
, ০২ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৭ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ৩১ পৌষ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
সম্মানিত শরীয়ত উনার পরিভাষায়, পবিত্রতা হাছিলের জন্য সমস্ত শরীর পবিত্র পানি দ্বারা ধৌত করাকে গোসল বলে। গোসল হলো সমস্ত দেহ ধৌত করার মাধ্যমে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের একটি পন্থা।
গোসলের ফরয:
গোসলের ফরয ৩টি: যথা- ১. গড়গড়াসহ কুলি করা
২. নাকে পানি দেয়া ৩. সমস্ত শরীর এমনভাবে ধৌত করা যেন একটি পশমও শুকনা না থাকে।
ফরয গোসলের নিয়ম:
প্রথমে কুলি করতে হবে। অতঃপর নাকে পনি দিতে হবে এবং সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছিয়ে ভালোভাবে ধৌত করতে হবে।
জ্ঞাতব্য বিষয় : গড়গড়ার সাথে কুলি করা আবশ্যক, তবে রোযাদার ব্যক্তিদের জন্য গড়গড়া করতে হবে না। নাকের ভিতরের উপরিস্থ শক্ত হাড্ডি পর্যন্ত পানি প্রবেশ করিয়ে এমনভাবে ঝেড়ে ফেলতে হবে, যেনো কোনো প্রকার শুষ্ক ময়লা না থাকে। রোযাদার হলে, অঙ্গুলি দ্বারা নাকের ছিদ্র ভিজিয়ে নিবে।
ফরয গোসলে শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনভাবে ধৌত করতে হবে, যেনো চুল পরিমাণ স্থানও শুষ্ক না থাকে। অন্যথায় শরীর পাক হবে না। অতএব ফরয গোসলে নিম্নলিখিত অঙ্গসমূহের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।
১) নাভী ও কানের প্যাঁচের স্থান।
২) হাত, কান, নাক এবং গলায় অলংকার পরিহিত স্থান।
৩) মাথার চুল, দাড়ি, ভ্রু, মোচ যদি এমন ঘন হয় যে, সহজে পানি প্রবেশ করে না, তাহলে সে সমস্ত স্থানের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে, যেনো একটি চুলের গোড়াও শুষ্ক না থাকে।
৪) পায়ের বা শরীরের ফাটা স্থানে মলমজাতীয় ওষুধ লাগানো থাকলে অথবা শরীরের কোনো স্থানে মাছের আঁশ, আঠা লেগে থাকে তবে তা উঠিয়ে ফেলতে হবে।
৫) যাদের অঙ্গুলি এরূপ জমাট যে, সহজে পানি প্রবেশ করেনা, তার প্রতি দৃষ্টি রেখে পানি পৌঁছাতে হবে। এছাড়া আরো কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হয়।
যেসব কারণে গোসল ফরয হয়:
কঠিন নাপাকির কারণে পবিত্রতা হাছিলের জন্য যখন গোসল করা আবশ্যক হয়ে পড়ে তাকেই ফরয গোসল বলা হয়।
গোসল ফরয হওয়ার কতিপয় কারণ রয়েছে। যথা:-
১. স্বপ্নদোষ হলে এবং তাতে লজ্জাস্থান থেকে নাপাকি বের হলে উক্ত নাপাকি থেকে পবিত্রতা হাছিলের উদ্দেশ্যে গোসল করা ফরয।
২. আহলিয়ার সাথে বিশেষ নিরিবিলিতে অবস্থান করার পর গোসল করা ফরয। যদিও নাপাকী বের না হয়ে থাকে।
৩. মহিলাদের প্রতি মাসের বিশেষ মাজুরতা এবং সন্তান প্রসব পরবর্তী মাজুরতা শেষে পবিত্রতা হাছিলের জন্য গোসল করা ফরয।
গোসল করার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তারতীব মুবারক
গোসল করার পূর্বে শরীরে যয়তুনের তেল দেয়া এবং না দেয়া উভয়টাই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক।
মাথায় তেল দেয়ার নিয়ম হলো- প্রথমে ডান ভ্রƒতে তারপর বাম ভ্রƒতে, তারপর ডান চোখের পাতায়, তারপর বাম চোখের পাতায়। অতঃপর মাথার ডানদিক হতে প্রয়োজনমতো তেল দেয়া।
আর দাড়িতে তেল দেয়ার নিয়ম হলো- প্রথমে ডান ভ্রƒতে তারপর বাম ভ্রƒতে, তারপর নিম দাড়িতে। অত:পর দাড়ির ডান দিক হতে তেল দিতে হবে। তেল দেয়ার সময় সর্বক্ষেত্রে ডান দিকের অংশ আগে শুরু করতে হবে।
তেল ব্যবহার করলে, তেল লাগানো শেষ হলে মিসওয়াক করে নিতে হবে। অতঃপর ডান হাতে পানি নিয়ে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিতে হবে এবং শুধুমাত্র পা ধোয়া ছাড়া নামাযের ওযূর মতো ভালভাবে ওযূ করে নিতে হবে। রোযাদারকে গড়গড়ার সাথে কুলি না করে ও নাকে পানি দেয়ার সময় সতর্কতা বজায় রাখতে নাক নিচের দিকে নামিয়ে রাখতে হবে।
ওযূ করা শেষ হলে প্রথমে মাথার ডান পার্শ্বে পানি ঢেলে চুলের গোড়া ভালভাবে আঙ্গুল দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে। পুরুষের বাবরী চুল থাকলে ও মহিলাদের বেনী বা খোঁপা থাকলে চুলের গোড়াতে ভালভাবে পানি পৌঁছাতে হবে। অতঃপর মাথার বাম পার্শ্বে অতঃপর মাথার মধ্যে ঢালবে। অতঃপর ডান কাঁধে, অতঃপর বাম কাঁধে তিনবার করে এমনভাবে পানি ঢালবে, যেনো সমস্ত শরীরে পানি পৌছে যায়।
নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুতে হবে। হাতে আংটি থাকলে সেখানেও পানি পৌঁছাতে হবে। প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করার সময় ধুন্দলের ছোবড়া ব্যবহার করা এবং না করা উভয়টাই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক। আর পা ঘষার সময় ঝামা পাথর ব্যবহার করা এবং না করা উভয়টাই খাছ সুন্নত মুবারক। এক মুদ্দ (৬২৫ গ্রাম) পানি দিয়ে ওযূ এবং অনধিক পাঁচ মুদ্দ (৩১২৫ গ্রাম) বা প্রায় সোয়া তিন কেজি পানি দিয়ে গোসল শেষ করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক। তবে প্রয়োজনে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ হবে না, তবে অবশ্যই প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি অপচয় করা ঠিক হবেনা অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক হবেনা।
সমস্ত শরীরে পানি ঢালা শেষ হয়ে গেলে গোসলের জায়গা থেকে একটু সরে গিয়ে দুই পা ৩ বার ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে এবং সমস্ত শরীর মুছতে হবে।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












