গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
, ১৫ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৫ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ২৪ মে, ২০২৪ খ্রি:, ১০ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
গোসল উনার ফরযসমূহ:
গোসল উনার ফরয তিনটি :
১. গড়গড়াসহ কুলি করা।
২. নাকে পানি দেয়া।
৩. সমস্ত শরীর এমনভাবে ধৌত করা যেন একটি পশমও শুকনা না থাকে। (ফতওয়ায়ে শামী)
জ্ঞাতব্য বিষয় : গড়গড়ার সাথে কুলি করা আবশ্যক, তবে রোযাদার ব্যক্তিদের জন্য গড়গড়া করতে হবে না। নাকের ভিতরের উপরিস্থ শক্ত হাড্ডি পর্যন্ত পানি প্রবেশ করিয়ে এমনভাবে ঝেড়ে ফেলতে হবে, যেনো কোনো প্রকার শুষ্ক ময়লা না থাকে। রোযাদার হলে, অঙ্গুলি দ্বারা নাকের ছিদ্র ভিজিয়ে নিবে।
ফরয গোসলে শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনভাবে ধৌত করতে হবে, যেনো চুল পরিমাণ স্থানও শুষ্ক না থাকে। অন্যথায় শরীর পাক হবে না। অতএব ফরয গোসলে নিম্নলিখিত অঙ্গসমূহের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।
১) নাভী ও কানের প্যাঁচের স্থান।
২) হাত, কান, নাক এবং গলায় অলংকার পরিহিত স্থান।
৩) মাথার চুল, দাড়ি, ভ্রু, মোচ যদি এমন ঘন হয় যে, সহজে পানি প্রবেশ করে না, তাহলে সে সমস্ত স্থানের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে, যেনো একটি চুলের গোড়াও শুষ্ক না থাকে। যদি মহিলার কেশ (মাথার চুল) খোলা থাকে, তবে সমস্ত কেশ ধৌত করা ফরয। আর যদি খোপা কিংবা বেণী বাঁধা থাকে, তাহলে শুধু চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছালেই যথেষ্ট হবে। খোপা বা বেণীর কারণে যদি চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে তা খুলে ধৌত করা অপরিহার্য। কিন্তু, সতর্কতার জন্য সর্বদা খোপা বা বেণী খুলে পানি পৌঁছানোই উত্তম।
৪) পায়ের বা শরীরের ফাটা স্থানে মলমজাতীয় ওষুধ লাগানো থাকলে অথবা শরীরের কোনো স্থানে মাছের আঁশ, আঠা লেগে থাকে তবে তা উঠিয়ে ফেলতে হবে।
৫) যাদের অঙ্গুলি এরূপ জমাট যে, সহজে পানি প্রবেশ করেনা, তার প্রতি দৃষ্টি রেখে পানি পৌঁছাতে হবে।
৬) যাদের খতনা হয়নি, বিনা কষ্টে লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া উল্টানো সম্ভব হলে, তা খুলে ধৌত করতে হবে।
৭) হায়িয, নিফাস কিংবা নাপাকীর গোসলে মহিলাদের বড় ও ছোট ইস্তিঞ্জার স্থান ভালোরূপে ধৌত করতে হবে।
গোসল উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক:
১. ওযূ উনার ন্যায় পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ বলা।
২. নিয়ত করা। নি¤েœাক্ত পাঠ কর-
نَوَيْتُ الْغُسْلَ لِرَفْعِ الْـجَنَابَةِ.
উচ্চারণ: “নাওয়াইতুল গুছলা লি রফ্য়িল জানাবাতি। ”
অর্থ: আমি নাপাকী দূর করার জন্য গোসল করছি।
৩. দু’হাতের গিরা (কব্জি) পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা।
৪. লজ্জাস্থান (যোনীদ্বার) ও গুহ্যদ্বারে কোনো প্রকার নাপাকী থাকুক আর নাই থাকুক, উক্ত স্থানদ্বয় ধৌত করা।
৫. শরীরের কোনো স্থানে নাপাকী লেগে থাকলে, তা ধৌত করা।
৬. নামায উনার ওযূর ন্যায় ওযূ করা এবং মিসওয়াক করা। কেউ যদি পুকুরে অথবা কোনো পানিধারে নেমে গোসল করে, তবে সেখান থেকে উপরে উঠে পা ধৌত করা।
৭. সমস্ত শরীর তিনবার ধৌত করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক।
৮. প্রথমে মাথায়, অতঃপর ডান কাঁধে, অতঃপর বাম কাঁধে; তিনবার করে এমনভাবে পানি ঢালা, যেনো সমস্ত শরীরে পানি বয়ে যায়।
৯. প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করার সময় প্রথমবার মর্দন করা।
১০. পর্দা করে গোসল করা।
১১. গোসল করার ক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হলো বসে গোসল করা। তবে বসার যদি কোনো ব্যবস্থা না থাকে তবে দাঁড়িয়ে গোসল করতে কোনো সমস্যা নেই।
১২. পাঁচ মুদ্দ (৪০৬৯.৮২ গ্রাম) বা প্রায় ৪ কেজি ৬৯ গ্রাম পানি দিয়ে গোসল শেষ করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক। তবে প্রয়োজনে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ হবে না।
গোসল উনার মুস্তাহাবসমূহ:
১. গোসল করা অবস্থায় কোনো প্রকার কথা না বলা বা কোনো প্রকার দু‘আ পাঠ না করা, তবে একান্ত জরুরত হলে কথা বলতে পারে।
২. কাপড় পরিধান করার পর দু’পা ধৌত করা।
৩. কর্ণদ্বয়ে পানি পৌঁছানোর পরে কর্ণকুহরে কনিষ্ঠ অঙ্গুলি প্রবেশ করানো।
৪. গোসল শেষে রুমাল, গামছা দ্বারা শরীর মুছে ফেলা।
৫. কারো সাহায্য না নেয়া। তবে, প্রয়োজনে সাহায্য নেয়া যেতে পারে।
৬. উঁচু স্থানে বসে গোসল করা।
৭. মৌখিক নিয়ত করা।
৮. নাপাকীর গোসল দেরী না করা।
৯. গোসলের পর দু’রাক‘আত নফল নামায পড়া।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












