গুণগতমানে এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের পাথর শ্রেষ্ঠ হলেও- পরিবেশের ঠুনকো অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে পাথর উত্তোলন
বিপরীতে ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে নিম্নমানের পাথর দেশীয় শিল্পখাত ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া বন্ধ হবে কবে?
, ৬ই জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০২ সাবি’, ১৩৯০ শামসী সন, ০১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রি:, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) বিশেষ প্রতিবেদন
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে ১ বছর ধরে সিলেটের সবকটি পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। মূলত পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে একটি চক্রের ইন্ধনেই দেশীয় এ সম্পদ আহরণ বন্ধ রেখে নিম্নমানের বিদেশি পাথর আমদানি করে মধ্যস্বত্বভোগ করছে।
উল্লেখ্য, সিলেটে দীর্ঘদিন যাবত রহস্যজনক কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে পাথর উত্তোলন। অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি পাথর আহরণ এবং বিপণন হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়ায় এক বছর ধরে সিলেটের উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠী অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হয়েছে। একই সাথে আহরিত এ পাথর বিপণনের সাথে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্টোন ক্রাশার, মিল মালিক, পাথর ব্যবসায়ী, ট্রাক-ট্রাক্টর শ্রমিক, বার্জ, কার্গো, নৌকা মালিক শ্রমিক, পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছিল। কিন্তু এখন তা বন্ধ হওয়ায় তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
তথ্যমতে, জাফলংয়ের ১৮৮ দশমিক ৭০ হেক্টর জায়গা পাথর কোয়ারি (পাথর উত্তোলনস্থল) চিহ্নিত করে ইজারা-ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৯৮০ সাল থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। শুরুতে সনাতন পদ্ধতিতে এ কাজ চললেও দেড় দশক ধরে শুরু হয় যন্ত্র ব্যবহার। যন্ত্র ব্যবহার শুরুর পর থেকেই এই পাথর উত্তোলন বন্ধে তৎপর হয়ে ওঠে একটি মহল। ২০১২ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি জাফলং ডাউকি নদী ও নদীর উভয় পাড় থেকে ৫শ’ মিটার প্রস্থের এলাকা এবং জাফলং ডাউকি ও পিয়াইন নদীর মধ্যবর্তী খাশিয়া পুঞ্জিসহ ১৪ দশমিক ৯৩ বর্গমিটার এলাকাকে প্রতিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
এছাড়াও, দেশের শীর্ষস্থানীয় এক ব্যবসায়ী গ্রুপের নিজস্ব স্বার্থরক্ষা করতে যেয়ে এ অফুরন্ত সম্পদরাশির এ পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ রাখা হয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার সেই ব্যবসায়ী গ্রুপের এজেন্টও হিসেবে পুরোদমে কাজ করছে পাথর কোয়ারি বন্ধে। অথচ পাথর উত্তোলন পরবর্তী প্রাকৃতিকভাবে পুনরায় পাথরে ভরপুর হয়ে যায় পাথর কোয়ারিগুলো। কেবল পরিবেশ বিপর্যয়ের অজুহাতে কোয়ারি বন্ধ রাখার নৈপথ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ। তারপরও কোয়ারি বন্ধ।
সিলেটের এ পাথরের গুণগতমান উন্নত হওয়ায় দেশের নির্মাণ শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল হিসেবে এ পাথর ব্যবহার হয়ে আসছিল। বুয়েট, শাহজালাল ইউনির্ভাসিটিসহ দেশের সব প্রকৌশল সংস্থার মান বিবেচনায় এ পাথরের গুণগতমান এশিয়া মহাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মনোনীত হওয়ায় নির্মিত অবকাঠামোর মজবুত ও স্থায়িত্ব সর্বজন বিদিত। খরস্রোতা প্রবাহিনীর ভাটি অঞ্চলে অবস্থিত এ অঞ্চলে প্রতিবছর উজান থেকে লাখ লাখ টন পাথর নেমে এসে কোয়ারি অঞ্চল পরিপূর্ণ হয় এবং এ পাথরই শ্রমিকরা উত্তোলন করে দেশের নির্মাণ শিল্পে যোগান দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে পাথর কোয়ারিগুলোর পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যাংক লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে আজ দেউলিয়া।
এককথায়, সিলেটের পাথর কোয়ারি বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর যে মারাত্মক দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্ট হয়েছে। একটি বৃহৎ অঞ্চলের ১০ লক্ষাধিক মানুষের প্রাচীন এ জীবিকা বন্ধ হওয়ায় এর অর্থনৈতিক ক্ষতি হাজার হাজার কোটি টাকা। প্রান্তিক লাখো মানুষের জীবিকা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পাথর বিপণনের সাথে সম্পৃক্ত ১০ সহস্রাধিক ব্যবসায়ী ঋণখেলাপি হয়ে দেনা শোধ করতে না পেরে পলাতক জীবনযাপন করছেন। পাথর পরিবহনে সম্পৃক্ত হাজার হাজার ট্রাক ও ট্রাক্টর মালিক, শ্রমিক রোজগার বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মূলত বাংলাদেশের পাথর শিল্পকে ধ্বংস করার জন্যই দেশবিরোধী একটি স্বার্থান্বেষী মহল উঠেপড়ে লেগেছে। বাংলাদেশে পাথর উত্তোলন একেবারেই বন্ধ করে দিয়ে ভারতীয় নিম্নমানের পাথর বাংলাদেশে আমদানি করে একটি বিশাল অংকের মুনাফা পকেটস্থ করতে চাইছে তারা। এর আগেও বাংলাদেশের জাহাজভাঙ্গা শিল্প নিয়েও এই পরিবেশবাদী নামধারী মহলটি ষড়যন্ত্র করেছিলো। এই মহলটি সবসময় শুধু পরিবেশের দোহাই দিয়ে কোনো একটি সম্ভাবনাময় খাত বন্ধেরই চেষ্টা করে। কিন্তু এই সকল খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ শ্রমিক, ব্যবসায়ীদের কথা এরা বিবেচনা করেনা। এককথায় নিজেদের স্বার্থেই এরা বাংলাদেশের অল্প প্রচলিত খাতগুলোর বিরুদ্ধাচারণ করে থাকে।
আমরা মনে করি, সরকারের কোনোক্রমেই উচিত হবেনা এসকল পরিবেশবাদী নামধারী দেশবিরোধী গংদের ফাঁদে পা দেয়া। এরা লাখ লাখ পাথর শ্রমিকের জীবিকা ছিনিয়ে নিতে তৎপর। সরকারের উচিত হবে অনতিবিলম্বে সিলেটসহ দেশের যেসকল অঞ্চলে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে সেগুলো খুলে দেয়া এবং সম্ভব হলে সবার স্বার্থ রক্ষা করেই পাথর উত্তোলন নীতিমালা প্রণয়ন করা। সেইসাথে বিশেষ করে ভারত থেকে নিম্নমানের পাথর আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এর সাথে জড়িত বাংলাদেশি মুনাফালোভী দালালদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। সরকারের মনে রাখতে হবে, মাথাব্যাথা হলেও মাথাকাটা কোনো সমাধান নয়।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নেপালসহ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম সংকট ও আত্মোপলব্ধির তাগিদ
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থার অপরিহার্যতা ও সীমান্তের বিবরণ
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করতে এত উৎসাহ কিন্তু- বিবাহপূর্ব প্রেম-ভালোবাসার নামে অনৈতিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করতে সরকারী কর্মকর্তাদের কেন কষ্ট লাগে?
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বের ১৩০টি দেশ বাংলাদেশী পোলাওর চালের স্বাদ নিতে পারলেও বঞ্চিত হলো এবং হচ্ছে বাংলাদেশের গরীব জনসাধারণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সব নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নতুন সেনানিবাস ও গ্যারিসন পরিকল্পনার অপরিহার্য রূপরেখা (পর্ব-১৮)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার কথা বলা দ্বীনি এবং সাংবিধানিক অধিকার।
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোল্ডেন রাইস বহুজাতিক কোম্পানির এগ্রিবিজনেসের নতুন হাতিয়ার
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাসদস্যের প্রস্তাবিত স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ এবং ক্লোজ কোয়ার্টার কমব্যাট প্রশিক্ষণ (পর্ব১৫)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যার সাথে মহব্বত, পরকালে তার হাশর-নশর তার সাথেই হবে।” (সহীহ বুখারী, হাদীছ নং- ৬১৬৯)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চিকিৎসা সক্ষমতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সমীকরণ (পর্ব ১৪)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর পার্সোনাল ট্যাকটিক্যাল ও সারভাইভাল লজিস্টিকসের কৌশলগত হিসাব (পর্ব ১৩ : ২য় অংশ)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












