সুন্নত মুবারক তা’লীম
খেজুর পাতার চাটাইয়ে নামায আদায় করা খাছ সুন্নত মুবারক
, ০৬ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১২ সাদিস, ১৩৯২ শামসী সন , ০৯ নভেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২৪ কার্তিক, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
আজকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের যায়নামায পাওয়া যায়। যেগুলোতে পবিত্র কা’বা শরীফ, পবিত্র রওজা শরীফ, পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ উনাদের ছবি, পবিত্র মসজিদসমূহের ছবি রয়েছে। যাতে নামায আদায় করলে জায়িয তো হবেই না বরং হারাম ও কাট্টা কুফরী হবে। উক্ত জায়নামাযগুলোকে তা’যীম-তাকরীম, সম্মান করা ফরয। আবার উল্লেখিত জায়নামায ছাড়াও বিভিন্ন রকমের জায়নামায পাওয়া যায়। যা খাছ সুন্নত নয়।
তবে খাছ সুন্নত মুবারক হিসেবে খেজুর পাতার চাটাইয়ে নামায আদায় করা বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَالِثَةَ عَشَرْ عَلَيْهَا السَّلَام قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَأَنَا حِذَاءَهُ وَأَنَا حَائِضٌ وَرُبَّمَا أَصَابَنِي ثَوْبُهُ إِذَا سَجَدَ وَكَانَ يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ.
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নামায আদায় করতেন, তখন আমি নূরুশ শা’নিশ শাহ্রিইয়্যাহ্ মুবারক (মাসিক স্বাভাবিক অসুস্থতা মুবারক) অবস্থায় উনার পাশে অবস্থান করতাম। উনার মহাসম্মানিত সিজদাকালে কখনো উনার মহাসম্মানিত কাপড় মুবারক আমার জিসিম মুবারকে (মহাসম্মানিত শরীর মুবারকে) লেগে যেত। তিনি (খেজুর পাতার ছোট) চাটাইয়ের উপরও মহাসম্মানিত নামায আদায় করতেন। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَزُورُ حَضْرَتْ أُمَّ سُلَيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْها فَتُدْرِكُهُ الصَّلاَةُ أَحْيَانًا فَيُصَلِّي عَلَى بِسَاطٍ لَنَا وَهُوَ حَصِيرٌ نَنْضَحُهُ بِالْمَاءِ
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাঝে মধ্যে হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে দেখতে যেতেন। সেখানে কখনো নামাযের সময় হয়ে গেলে তিনি আমাদের (খেজুর পাতার তৈরী) মাদুরের উপর মহাসম্মানিত নামায আদায় করে নিতেন। হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি সেটিকে পানি দিয়ে ধুয়ে দিতেন। (আবূ দাউদ শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّيْ عَلَى الْـحَصِيْرِ وَالْفَرْوَةِ الْمَدْبُوْغَةِ.
অর্থ: হযরত মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (খেজুর পাতার তৈরী) চাটাই ও প্রক্রিয়াজাত অর্থাৎ দাবাগত করা চামড়ার উপর নামায আদায় করতেন। (আবূ দাউদ শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ النَّاسِ خُلُقًا فَرُبَّمَا تَحْضُرُ الصَّلاَةُ وَهْوَ فِي بَيْتِنَا فَيَأْمُرُ بِالْبِسَاطِ الَّذِي تَحْتَهُ فَيُكْنَسُ ثُمَّ يُنْضَحُ ثُمَّ يَؤُمُّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَقُومُ خَلْفَهُ فَيُصَلِّي بِنَا وَكَانَ بِسَاطُهُمْ مِنْ جَرِيدِ النَّخْلِ.
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আখলাক্ব বা নৈতিক চরিত্র মুবারক সহ সার্বিক দিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন সর্বোত্তম। অনেক সময় এমন হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের ঘরে থাকতেই নামাযের সময় হয়ে গেছে। তখন তিনি যে বিছানা মুবারক উনার উপর থাকতেন সেটিই ঝেড়ে ফেলে পানি ছিটিয়ে দিতে বলতেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইমামতি মুবারক করতেন। আমরা উনার পিছনে দাঁড়াতাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে নিয়ে নামায আদায় করতেন।
বর্ণনাকারী হযরত আবূ তাইয়্যাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার বাড়ীর বিছানা খেজুর পাতায় তৈরি ছিল। (মুসলিম শরীফ)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহ থেকে স্পষ্ট হলো যে, খেজুর পাতার চাটাইয়ের উপর নামায আদায় করা খাছ সুন্নত মুবারক। কাজেই সকলের জন্য আবশ্যক হলো, মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক আদায়ের লক্ষ্যে খেজুর পাতার চাটাই-এর মধ্যে নামায আদায় করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুছাফাহা করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। যা গুনাহ মাফের মাধ্যম
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
খেজুর ও তরমুজ একত্রে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৪)
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৩)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (১)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












