খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩)
গবেষণা কেন্দ্র : মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ
, ১৬ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৩ সাদিস ১৩৯১ শামসী সন , ০১ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ১৬ কার্তিক, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
বরং উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফগুলো তাদের বিপক্ষেই দলীল হিসেবে যুক্তিযুক্ত। কারণ তাদের উল্লিখিত প্রথম পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদা টুপি পরিধান করেছেন। এ পবিত্র হাদীছ শরীফে টুপির রং বর্ণনা করা হয়েছে। লম্বা বা পাঁচ কল্লির কথা মোটেও বলা হয়নি। দ্বিতীয় পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদা রং-এর ইয়ামেনী টুপি পরিধান করেছেন।
এ পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়ামেন দেশের টুপিও ব্যবহার করেছেন, তা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন অন্যান্য পবিত্র হাদীছ শরীফে রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোমী জুব্বা, ইয়ামেনী চাদর ও মিশরীয় সুতী কাপড়ের কোর্তা ব্যবহার করেছেন।
এখানেও লম্বা বা পাঁচ কল্লি টুপির কোন অস্তিত্ব নেই। তৃতীয় পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধের সময় কানওয়ালা টুপি ব্যবহার করেছেন। এ পবিত্র হাদীছ শরীফে যুদ্ধের পোশাকের কথা বলা হয়েছে। আর এটা সকলেরই জানা যে, যুদ্ধের পোশাক যুদ্ধের জন্যই খাছ। যেমন যুদ্ধের সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিরস্ত্রাণ বা মাথায় লোহার হেলমেট ব্যবহার করতেন। শরীর মোবারকে লোহার পোশাক ব্যবহার করতেন।
অতএব বুঝা গেল যে, যুদ্ধের পোশাকের আকার-আকৃতি আর অন্য সময়ের পোশাকের আকার-আকৃতি এক নয়। তাছাড়া উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফে একথা উল্লেখ নেই যে, কানওয়ালা টুপিটি লম্বা বা পাঁচ কল্লি ছিল।
আর চতুর্থ পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কখনো উনার টুপি মুবারক খুলে সম্মুখে সুত্রা হিসেবে রেখে নামায আদায় করতেন।
এ পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উক্ত টুপিটি কমপক্ষে এক হাত পরিমাণ উঁচু ছিল। নচেৎ উহা দ্বারা সুত্রা হওয়া কখনোই সম্ভব নয়। মুলতঃ এ ধরণের উঁচু টুপিকেই বুরনুস টুপি বলা হয়। আর সহীহ্ মত এই যে, এ ধরনের টুপি ইসলামের প্রাথমিক যুগে পরিধান করা হতো। যেমন- এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত আরবী অভিধান “আল মুনজিদে” উল্লেখ আছে-
اَلْبُرْنُسُ - وہ لمبی طوپی جو آغاز اسلام مین پھنی جاتی تھی-
অর্থ: ‘বুরনুস’ -ঐ লম্বা বা উঁচু টুপিকে বলে, যা ইসলামের প্রাথমিক যুগে পরিধান করা হতো।” সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এরূপ অনেক আমলই রয়েছে, যা তিনি প্রথম দিকে করেছেন কিন্তু পরবর্তিতে তা পরিহার করেছেন। বুরনুস টুপির ব্যাপারটিও তদ্রুপ। কাজেই যারা প্রথম যামানার আমলকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে লম্বা টুপিকে জায়েয করতে চায়, তারা কি তবে নামাজে কথা বলাকেও জায়েয ফতওয়া দিবে? পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করাকেও কি তারা জায়েয ফতওয়া দিবে? কেননা প্রথম যুগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে কথা বলতেন এবং স্বর্ণ ব্যবহার করতেন। তাছাড়া এরপরও যদি তারা উক্ত পবিত্র হাদীছকে লম্বা টুপির দলীল হিসেবে পেশ করতে চায়, তবে তাদেরকে অবশ্যই এক হাত পরিমাণ লম্বা টুপি পরিধান করতে হবে, যা বর্তমানে খৃষ্টানদের টুপি। কাজেই তারা যে লম্বা বা কিস্তি টুপি পরিধান করে, তার সাথে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত টুপির কোনই মিল নেই। মুলতঃ উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারাও যেরূপ কিস্তি বা লম্বা ও পাঁচ কল্লি টুপি জায়েয বা সুন্নত প্রমাণিত হয়না, তদ্রুপ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন ধরণের টুপি পরিধান করেছেন তাও প্রমাণিত হয়না। যেহেতু উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা প্রথম যুগের আমল। সুতরাং যারা মেরকাত শরীফে বর্ণিত উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহের বরাত দিয়ে বলে থাকে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সব ধরনের টুপি পরিধান করেছেন। তাদের সে বক্তব্য সম্পুর্ণই অবান্তর ও মিথ্যা, যা ইতিপূর্বের বিস্তারিত দলীল ভিত্তিক আলোচনা দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা বলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন বিশেষ ধরনের টুপি পরিধান করেছেন বলে পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ নেই, তারা মুলতঃ পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে নেহায়েতই অজ্ঞ। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার টুপি মুবারক সাদা, গোল ও চার টুকরা বিশিষ্ট ছিল এবং তা সবদিক থেকে মাথার সাথে লেগে থাকতো, যা ইতি পূর্বের আলোচনা দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হয়েছে। কিস্তি, পাঁচ কল্লি ও জালী বা নেট ইত্যাদি টুপির কথা পবিত্র হাদীছ শরীফের কোথাও উল্লেখ নেই। সুতরাং এগুলো জায়েয বা সুন্নত ও খাছ সুন্নত হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












