খাছ সুন্নতী কাঠের পেয়ালা মুবারক-৭
, ০৮ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৩ সাবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ০৭ পৌষ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ عَامَ الْفَتْحِ فِيْ رَمَضَانَ فَصَامَ رَمَضَانَ وَصَامَ الْمُسْلِمُوْنَ مَعَهٗ حَتّٰى اِذَا كَانَ بِالْكَدِيْدِ دَعَا بِمَاءٍ فِيْ قَعْبٍ وَهُوَ عَلٰى رَاحِلَتِهٖ فَشَرِبَ وَالنَّاسُ يَنْظُرُوْنَ يُعَلِّمُهُمْ اَنَّهٗ قَدْ اَفْطَرَ فَاَفْطَرَ الْمُسْلِمُوْنَ
অর্থ:- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ) বিজয়ের বছর সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ উনার কোন একদিন ছফরে বের হলেন, তখন তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার রোযা রেখেছিলেন এবং উনার সাথে মুসলমানগণও রোযা রেখেছিলেন। উনারা যখন কাদীদ নামক স্থানে (উছফান ও কুদাইদ এর মধ্যবর্তী একটি স্থানের নাম কাদীদ) পৌঁছলেন তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাঠের পেয়ালায় করে পানি আনার জন্য নির্দেশ মুবারক দেন, এমতাবস্থায় তিনি বাহনের উপর আরোহী অবস্থায় ছিলেন। তারপর তিনি পানি পান করলেন আর সবাই তা দেখতেছিলেন, তিনি উনাদেরকে জানিয়ে দিলেন যে, তিনি ইফতার করেছেন (রোযা ভঙ্গ করেছেন)। অত:পর সকল মুসলমান অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ইফতার করলেন (রোযা ভঙ্গ করলেন)। (মুসনাদে আহমদ শরীফ-২৩৬৩)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِنَهَرٍ فَتَنَاوَلَ بِقَعْبٍ كَانَ مَعَهٗ فَشَرِبَ ثُمَّ أَفْرَغَ بَقِيَّتَهٗ فِي النَّهَرِ قَالَ يُبَلِّغُهُ اللّٰهُ قَوْمًا يَنْفَعُهُمْ بِهٖ.
অর্থ:- হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা একটি নদীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। অতিক্রম করার সময় তিনি একটি কাঠের পেয়ালা দিয়ে নদী থেকে পানি নিয়ে পান করলেন, যে কাঠের পেয়ালাটি উনার সাথেই ছিল। অতঃপর পানির অবশিষ্টাংশ তিনি নদীতে ঢেলে দিলেন। রাবী হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তা এমন সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছে দিবেন যারা এর দ্বারা উপকৃত হবেন। (মুসনাদুশ শামিয়ীন লিত ত্ববারনী- ২য় খ--৩৪৬ পৃষ্ঠা, হাদীছ শরীফ নং-১৪৬৯)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِيْ إِسْمَاعِيلَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ أَنَّهٗ دَخَلَ عَلٰى حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَرَاٰى فِيْ بَيْتِهٖ قَدَحًا مِنْ خَشَبٍ فَقَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَشْرَبُ فِيْهِ وَيَتَوَضَّأُ
অর্থ:- হযরত মুহম্মদ ইবনে আবূ ইসমাঈল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই তিনি হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট প্রবেশ করলেন, এবং তিনি উনার ঘর মুবারকে কাঠের পেয়ালা দেখতে পেলেন। তখন হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাতে (এই মহাসম্মানিত কাঠের পেয়ালা মুবারকে) পান করতেন এবং অযূ করতেন। (আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী-প্রথম খ--৫১পৃষ্ঠা, মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ নং- ১২৫) (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন মুরাদী
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












