কৃষি প্রধান দেশে কৃষিকে অবহেলা করে অপরিকল্পিত নগরায়ন আর অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ অপচয়ে অর্থ পাচারই হয়। উন্নয়ন হয় না। উন্নয়নের পূর্ব শর্ত উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ।
, ১৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৫ রবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ২০ ভাদ্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
কৃষি বিপ্লব ঘটানোর জন্য সরকার চেষ্টা করছে বলে দাবী করছে। কিন্তু কৃষি খাত যে শ্রমিক সংকটে পড়ছে সেদিকে নজর না দিলে কোন বিপ্লবই হবে না। আজ পাহাড় কেটে ইটের ভাটা তৈরি হচ্ছে। কৃষি জমিতে ইটের ভাটা তৈরি হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। পরিবেশবাদীরা গলা ফাটাচ্ছেন কিন্তু যেই লাউ সেই কদু। ক্ষমতার দাপট চালিয়ে কিছু অসৎ মানুষ আজ উৎপাদন খাতকে নাজুক করে রেখেছে। প্রতিবার নির্বাচনের আগে কৃষকেরা অনেক প্রতিশ্রুতি পায়, কিন্তু নির্বাচনপরবর্তী সেই সুবিধা পেতে তাদের গলদঘর্ম হতে হয়। প্রাকৃতিক দুরে্যাগে প্রচুর ফসলহানি হয় আমাদের। কৃষকদের দুরে্যাগকালীন সুবিধা আরো বেশি কিভাবে দেয়া যায় সেটাও ভাবতে হবে।
কৃষকের বড় শত্রু আজ মধ্যস্বত্বভোগীরা। কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না তাদের কারণে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ক্ষেত থেকে যদি ফসল কিনে বড় বড় শহরে আনা যেত তবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেত। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীরা সব খেয়ে ফেলে।
সারা বিশ্বে আজ অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। ডলার সংকটে মুদ্রাস্ফীতি দিন দিন বাড়ছে। উৎপাদন খাতে নজর না দিয়ে আর কোনো উপায় নেই। আমাদের বড় সম্পদ হলো কৃষি। এমন উর্বর ভূমি বিশ্বে খুব একটা নেই। কিন্তু অবহেলায় ঢাকা পড়েছে আজ বৃহৎ এই উৎপাদন খাত। কৃষি বিপ্লব ঘটানোর জন্য সরকার চেষ্টা করছে। কিন্তু কৃষি খাত যে শ্রমিক সংকটে পড়ছে সেদিকে নজর না দিলে কোনো বিপ্লবই হবে না। আজ পাহাড় কেটে ইটের ভাটা তৈরি হচ্ছে। কৃষি জমিতে ইটের ভাটা তৈরি হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই।
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। এর ফলে আমাদের প্রধান উৎপাদনশীল খাত হুমকিতে পড়ছে। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি কমে যাচ্ছে নদী ভাঙ্গন, বসতি স্থাপন, রাস্তা ও অবকাঠামো নির্মাণ, ইটের ভাটা নির্মাণসহ নানা কারণে। গবেষণায় দেখা গেছে দেশে জনসংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছে এবং এর চাপ সরাসরি পড়ছে আবাদি জমির ওপর। দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ ভাগ এবং মোট শ্রমশক্তির ৬০ ভাগ কৃষিতে নিয়োজিত।
ঢাকা ও বড় বড় শহর ও সেগুলোর আশপাশের আবাদি জমিতে চলছে ফ্ল্যাট নির্মাণের উৎসব। অনুৎপাদনশীল এই ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজে বিনিয়োগ হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। শিল্পায়ন, নগরায়ন, আবাসন, অবকাঠামো নির্মাণ, নদী ভাঙ্গনসহ বিভিন্ন কারণে প্রতি বছর ৮০ হাজার হেক্টর আবাদি জমি অকৃষিতে রূপান্তিত হচ্ছে। প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে প্রায় ২১৯ হেক্টর আবাদি জমি। আর এভাবে চলতে থাকলে উৎপাদনশীল খাত নাজুক হয়ে পড়বে এবং হুমকিতে পড়বে খাদ্য নিরাপত্তা। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রেরিত সিংহভাগ অর্থই ব্যয় হচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। বিদেশ থেকে শ্রমিকেরা যে অর্থ উপার্জন করে তা দিয়ে বড় বড় শহরে বিশেষ করে ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনে। এর ফলে ঢাকা শহর আরো ঘিঞ্জি হয়ে উঠছে, সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। আবাদি জমি নষ্ট করে ফ্ল্যাট নির্মাণের যে হিড়িক তৈরি হয়েছে তা কাক্সিক্ষত নয়।
ব্যাংকগুলোও ফ্ল্যাট বা আবাসন ঋণ দিতে খুব আগ্রহী। হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ চলে যাচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। ব্যাংক বহির্ভূত নানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গুলিও অনুৎপাদনশীল খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। প্রণোদনার ঋণেরও সঠিক ব্যবহার হওয়া আবশ্যক। দুঃখের বিষয় এই যে কৃষিতে দক্ষ শ্রমিক তৈরি হচ্ছে না। অনিয়ম, দুর্নীতি আর পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে কৃষি বিমুখ হয়ে পড়ছে কৃষকেরা। কৃষিতে বিনিয়োগ করে কৃষকেরা তাদের ফিডব্যাক পাচ্ছেন না। কৃষিতে পর্যাপ্ত ভর্তুকির অভাব রয়েছে। কৃষি ঋণকে আরো সহজ করতে না পারলে এই উৎপাদনশীল খাতটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
এখনো আমরা আমদানি নির্ভরতার মাত্রা সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারিনি। এদিকে ঘুষ, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জুয়া, মাদক, ফটকা কারবারি, মধ্যস্বত্বভোগী এবং সিন্ডিকেটের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে পারিনি। আমাদের অর্থনীতির চাকা হয়তো এগিয়ে যাচ্ছে। তবুও শ্রীলঙ্কা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। অবকাঠামো আর উন্নয়ন অবশ্যই দরকার, তবে সেটা অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেই করতে হবে। অপরিকল্পিত নগরায়ন আর অবকাঠামো নির্মাণ করে অর্থ অপচয়ের কোনো মানে হয় না। দেশে বেকারত্বের প্রচ- চাপ রয়েছে। সেইভাবে উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না। উৎপাদনশীল খাতে উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। দেশের অর্থ পাচার হয়ে যাওয়া অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আমাদের বড় আশীর্বাদ হল কৃষির মত একটি বৃহৎ উৎপাদনশীল খাত আমাদের রয়েছে। এই খাতের দিকে সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে।
উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তা ঘাটের উন্নয়নকে বুঝায় না। বিদেশি ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে নিজের পায়ে কিভাবে দাঁড়ানো যায় সেদিকেই আমাদের মনোনিবেশ করা উচিত।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইহুদী-খ্রিষ্টান-হিন্দুরা কোন মুসলিম দেশ ধ্বংস ও দখল করার আগে সে দেশে তাদের অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়। চলচ্চিত্র নামক বিধ্বর্মীদের জাহান্নামী সংস্কৃতির ফাঁদে মুসলিম উম্মাহ।
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পর থেকেই হাঁটছে বাংলাদেশ গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিকল্প নেই
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পর থেকেই হাঁটছে বাংলাদেশ গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিকল্প নেই
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
“বিশ্বের সব মুসলমান একটি দেহের ন্যায়”- এ হাদীছ শরীফের শিক্ষা মুসলমানেরা নেয়নি। কিন্তু কাফিররা এ হাদীছ শরীফের ফায়দা নিয়ে এত শক্তিশালী।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের দম্ভকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবেন: ইরানের জনগণকে উদ্দেশ্য করে ইয়েমেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সবেমাত্র আগ্রাসী ইসরায়েলকে শাস্তি দেয়া শুরু করেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানই ঠিক করবে যুদ্ধ কখন শেষ হবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছে: খামেনি ২ সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে পরাজিত করেছে ইরান
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বহুমুখী সমস্যায় পতিত দেশের আগর-আতর শিল্প পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আতর শিল্পে নেই আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ সঙ্কট ও সমস্যা সমাধান করে আগর-আতর শিল্প থেকে ইনশাআল্লাহ রফতানি হতে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম দেড় মাসে, অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪৫ দিনে সরকার ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করে।
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুশরিক ভারতের প্রতি লা’নত ওদের জনসংখ্যা দিন দিন নিম্নমুখী পক্ষান্তরে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে খোদায়ী রহমত। (সুবহানাল্লাহ) বাংলাদেশে জনসংখ্যার এখন ৬৫ ভাগই কর্মক্ষম এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার উর্ধ্বগামী বাংলাদেশ ভোগ করছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের নিয়ামত। সুবহানাল্লাহ!
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আফ্রিকার দৈত্য মুসলিম প্রধান দেশ- ‘নাইজেরিয়ায়’ আছে- ‘অফুরন্ত তেলের উৎস’ আছে- সবচেয়ে দামী খনিজ ‘লিথিয়াম’, ‘উচ্চ মানের লৌহ আকরিক’ সহ দুর্লভ সব খনিজ। বিশ্ব লুটেরা, হায়েনা, আমেরিকার- লোলুপ দৃষ্টি এখন ‘নাইজেরিয়ার’ উপর খ্রিস্টান নিধন চলছে এই মিথ্যা অজুহাতে- নাইজেরিয়া আক্রমনের ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্ব ডাকাত সর্দার- ট্রাম্প।
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী টালমাটাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী তালমাতাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী তালমাতাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












