স্থাপত্য-নিদর্শন
কায়রোর ঐতিহাসিক আল আযহার জামে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় (পর্ব ০৬)
, ১১ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৬ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) স্থাপত্য নিদর্শন
ইসমাইল পাশার শুরু করা সংস্কার কার্যক্রম ব্রিটিশ শাসনামলেও চালু ছিল। ১৮৭২ খৃ: শাইখ আল-আজহার মুহম্মদ মাহদি আল-আব্বাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারা চালু ও ছাত্রদের পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু সংস্কার চালু করেন। ব্রিটিশ যুগে হিলমির শাসনামলে শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য আরো কিছু প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। মসজিদের পা-ুলিপির সংগ্রহ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে রক্ষিত হয়, ছাত্রদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয় এবং পড়ালেখার ক্ষেত্রে নিয়মিত পরীক্ষার পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়। ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে মিশরের অন্যান্য কলেজগুলো সরাসরি আল-আজহার মসজিদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা হয়।
১৯৫২ এর পরবর্তীকাল:
১৯৫৫ খৃ: আধুনিক ক্যাম্পাসের জন্য মসজিদের চারপাশের স্থান অধিগ্রহণ করে স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। মসজিদ এরপর থেকে আর শিক্ষালয় হিসেবে টিকে থাকেনি। ১৯৬১ খৃ: কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। ১৯৬১ খৃষ্টাব্দের আইনে আল-আজহারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকাকে পৃথক করা হয়। এই আইনে আল-আজহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয় চিকিৎসা, প্রকৌশল, অর্থনীতি ইত্যাদি। এসকল সংস্কারের পর আল-আজহার কর্তৃক পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে মিশরীয় ছাত্রদের সংখ্যা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ এর দশকের মধ্যে এসব বিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যা ৯০,০০০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ)তে পৌঁছায়। ১৯৯০ এর দশকের শুরুতে এই সংখ্যা ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) হয় এবং ২০০১ সালে তা ১৩,০০,০০০ (তের লক্ষ) ছাড়িয়ে যায়।
মসজিদের নির্মাণ বিষয়ক তথ্য:
আল-আজহারে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য কায়রোর ইতিহাসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এছাড়াও ইফ্রিকিয়ার অন্যান্য ফাতেমীয় স্থাপনাতেও এমন সব উপাদান ব্যবহৃত হয়েছিল। পরবর্তীতে সংযুক্ত উপাদানগুলো মিশরের ভেতর ও বাইরে উভয় স্থান থেকে এসেছে। মসজিদের বিভিন্ন অংশ এধরনের মিশ্র প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। আবার কিছু স্থানে একই ধরনের প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। এমন একটি উদাহরণ হল উসমানীয়দের নির্মিত গম্বুজ ও মামলুকদের নির্মিত মিনার
প্রথমে শুধু একটা উঠানসহ নামাযের স্থান নির্মিত হলেও পরবর্তীকালে মূল কাঠামোকে ঘিরে মসজিদের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। মিশরের অনেক শাসক আল-আজহারের শিল্প ও স্থাপত্যকে রূপ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে উসমানীয় সালতানাতের সময়কার গম্বুজ, মামলুক সালতানাতের সময়ে মিনার ও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মিহরাব সংযোজন মূল মিনার বা গম্বুজগুলো বর্তমানে টিকে নেই। বর্তমান মিনারগুলোর কিছু বেশ কয়েকবার পুনর্নির্মিত হয়েছে।
এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি ইসলামী ও ফাতেমীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। মিশরে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার যুগের সর্বপ্রথম মসজিদ হলো “মসজিদে আমর ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু” আর রাজধানী কায়রোর সর্বপ্রথম মসজিদ জামে আল আযহার। প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরের রাজধানী কায়রো মসজিদ ও অন্যান্য ইসলামী স্থাপনায় এতোটাই সমৃদ্ধ যে, এক সময় এই মহানগরী “হাজার মিনারের নগরী” নামে খ্যতি লাভ করে। ইসলামী যুগের সূচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত রাজধানী কায়রোর সেই ঐতিহ্যবাহী ধারা অক্ষুণœ আছে। হিজরী ৩৫৯-৩৬৩ মোতাবেক ৯৭১ থেকে ৯৭৫ খৃ: মধ্যবর্তী সময়ে এ মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মিশরে ফাতেমীয় খেলাফতের সর্বপ্রথম উল্লেখযোগ্য স্মারক জামে আল আযহার ও আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়। হাজার বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের সুমহান শিক্ষা-সাংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে সমগ্র বিশ্বে সমভাবে আলোকিত করেছে। বিগত হাজার বছরে অগণিত উলামার জন্ম দিয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ।
মিশরে ফাতেমীয় খেলাফতের প্রথম শাসক আল মুঈজ লিদ্বিনীল্লাহ এই ঐতিহাসিক মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। কায়রোকে ফাতেমীয় খেলাফতের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করার পর পবিত্র ১০ই রমাদ্বান শরীফ ৩৬১ হিজরী মোতাবেক ৯৭৩ খৃ: এর কার্যক্রম শুরু হয়।
সম্পাদনায়: মুহম্মদ নাঈম
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফুলের মতোই সুন্দর মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় অবস্থিত পুত্রা মসজিদ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৫ম পর্ব)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খেজুরের পাতায় লিখা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী সাতৈর শাহী মসজিদ (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












