কাঠের প্লেটে খাবার খাওয়া নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছ্ছুল খাছ সুন্নত মুবারক-৮
, ২৯ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ১৯ ছানী, ১৩৯১ শামসী সন , ১৮ জুলাই, ২০২৩ খ্রি:, ০৩ শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اَبِيْهِ قَالَ كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ فِىْ قَصْعَةٍ فَفَضَلَتْ فَضْلَةٌ فَقَالَ يَجِيْئُ مِنْ هٰذَا الْفَجِّ رَجُلٌ مِنْ اَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَأْكُلُ هٰذِهِ الْفَضْلَةَ قَالَ سَعْدٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَكُنْتُ تَرَكْتُ اَخِىْ حَضْرَتْ عُمَيْرًا رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ يَتَوَضَّاُ فَقُلْتُ هُوَ حَضْرَتْ عُمَيْرٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَجَاءَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَأَكَلَهَا.
অর্থ:- হযরত মুছআব ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা (হযরত সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, উনার পিতা (হযরত সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একটি কাঠের প্লেটে মহাসম্মানিত খাবার মুবারক খাচ্ছিলেন, অতঃপর (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহার মুবারক শেষে প্লেটে) কিছু খাবার অবশিষ্ট রইলো, অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাঠের প্লেটে আহার মুবারক শেষে কিছু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খাবার মুবারক অবশিষ্ট রাখেন এবং তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এই দিক থেকে একজন জান্নাতী লোক আগমন করবেন এবং তিনি এসে আমার এই বরকতময় অবশিষ্ট খাবার মুবারক খাবেন। রাবী হযরত সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি আমার ভাই হযরত উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ওযূরত অর্থাৎ ওযূ করা অবস্থায় রেখে এসেছি। সুতরাং আমি বললাম: (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইশারা মুবারককৃত দিক থেকে যিনি আসবেন) তিনি হচ্ছেন হযরত উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। কিন্তু দেখা গেলো, সেদিক থেকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আগমন করেছেন। সুতরাং তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবশিষ্ট রাখা মহাসম্মানিত বরকতময় খাবার মুবারক খেলেন। (মুসনাদে সা’দ শরীফ- ১১১, মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল শরীফ- ১/১৬৯ )
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتِ الْهَيْثَمِ بْنِ عِمْرَانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ سَمِعْتُ جَدِّىْ حَضْرَتْ عَبْدَ اللهِ بْنَ اَبِىْ عَبْدِ اللهِ قَالَ صَنَعَ عُثْمَانُ ابْنُ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ خَبِيْصًا بِالْعَسَلِ وَالسَّمَنِ وَالْبُرِّ فَاَتٰى بِهٖ فِىْ قَصْعَةٍ اِلٰى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَبَا عَبْدِ اللهِ مَا هٰذَا؟ قَالَ هٰذَا يَا نَبِىَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْءٌ تَصْنَعُهُ الْأَعَاجِمُ مِنَ الْبُرِّ وَالْعَسَلِ وَالسَّمْنِ تُسَمِّيْهِ الْخَبِيْصَ. قَالَ فَأَكَلَ.
অর্থঃ- হযরত হাইছাম ইবনে ইমরান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার দাদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবূ আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি মধু, ঘী, এবং গম দ্বারা মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার খাবীছ তৈরী করেন। অতঃপর তা একটি কাঠের প্লেটে করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারকে নিয়ে আসেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত আবূ আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! ইহা কি? তখন আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা এমন একটি খাদ্য যা আজম বা অনারবরা গম, মধু এবং ঘী দ্বারা তৈরী করে থাকে, যার নাম হচ্ছে মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার খাবীছ। রাবী বলেন, অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই মহাসম্মানিত খাদ্য মুবারক খেলেন। (আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারানী- ১৩,১৪তম খ-, ৩১৬পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি মধু, ঘি এবং গম দিয়ে মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার খাবীছ তৈরী করে একটি কাঠের প্লেটে করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারকে নিয়ে আসেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত কাঠের প্লেটে সেই খাবার মুবারক গ্রহণ মুবারক করেছেন বা খেয়েছেন।
অতএব, উপরোক্ত দলীলভিত্তিক বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, কাঠের প্লেটে খাবার খাওয়া নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক।
-মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন মুরাদী
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৪)
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৩)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (১)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












