ওযূ বা গোসলের পর গামছা বা কাপড় দিয়ে শরীর মোছা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
, ১৮ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৮ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ২৭ মে, ২০২৪ খ্রি:, ১৩ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَتْ لَهُ خِرْقَةٌ يَتَنَشَّفُ بِهَا بَعْدَ الْوُضُوءِ.
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি গামছা বা কাপড়ের টুকরা মুবারক ছিল, যেটি দিয়ে তিনি ওযূর (বা গোসলের) পর নূরুল মুজাসসাম (মহাসম্মানিত জিসিম) মুবারক মুছতেন। (বাইহাক্বী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرتْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ أَتَانَا النَّبِيُّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ فَوَضَعْنَا لَهُ مَاءً فَاغْتَسَلَ ثُمَّ أَتَيْنَاهُ بِمِلْحَفَةٍ وَرْسِيَّةٍ فَاشْتَمَلَ بِهَا.
অর্থ: হযরত কায়েছ বিন সায়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন। আমরা উনার জন্য পানির ব্যবস্থা করলাম। তিনি মহাসম্মানিত গোসল মুবারক করলেন। তখন আমরা উনাকে হলুদ রঙের একটি চাদর এনে দিলাম। তিনি সেটি নূরুল মুজাসসাম (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম) মুবারকে জড়িয়ে নিলেন। (ফলে সেটি মহাসম্মানিত নূরুল মুজাসসাম (মহাসম্মানিত জিসিম) মুবারক উনার পানি মোছার জন্য রুমাল হিসেবে ব্যবহৃত হলো)। (ইবনে মাজাহ শরীফ: ৪৬৬)
তবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রয়োজন মনে না করলে কখনো কখনো ওযূ-গোসলের পরে গামছা বা কাপড় দিয়ে নূরুল মুজাসসাম (মহাসম্মানিত জিসিম) মুবারক মুছতেন না।
শরীরের পোশাক পরিবর্তনের মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব:
গোসল করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে। সম্পূর্ণ কাপড়বিহীন (উলঙ্গ) হয়ে গোসল করা যাবে না, যদিও তা আবদ্ধ ঘরে হোক না কেন। কমপক্ষে একটি কাপড় জড়িয়ে হলেও লজ্জাস্থান ঢেকে রাখতে হবে। কারণ মানুষের চোখের আড়াল হলেও হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের ও জ্বিনদের চোখের আড়াল হয় না। গোসল শেষে অত্যন্ত সাবধাণতার সাথে পোশাক পরিবর্তন করতে হবে। যাতে লজ্জাস্থান বে-আবরু না হয়ে যায়। পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে ডানদিককে প্রাধান্য দিতে হবে।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












