ঐতিহাসিক সম্মানিত বদর জিহাদ উনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা পর্ব-১
, ০৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২৯ ‘আশির, ১৩৯০ শামসী সন , ২৯ মার্চ, ২০২৩ খ্রি:, ১৫ চৈত্র, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
মোট কথা বদর নামে এক ব্যক্তি এই ঐতিহাসিক সম্মানিত বদর ময়দানে সর্ব প্রথম তাঁবু স্থাপন করেছিলেন। বসবাস করছিলেন। এখানেই তিনি সর্ব প্রথম কূপ খনন করেছিলেন। তাই উনার নাম অনুসারে উক্ত স্থানটির নাম বদর নামে মাশহুর হয়ে যায়।
মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক হায়াতে যত জিহাদ মুবারক সংগঠিত হয়েছেন, তন্মধ্যে ঐতিহাসিক সম্মানিত এই বদর জিহাদ উনার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ ঐতিহাসিক সম্মানিত এই বদর জিহাদ উনার মাধ্যমে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মর্যাদা, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ইয্্যত, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শান-শওকত বৃদ্ধি পেয়েছেন। ঐতিহাসিক সম্মানিত এই বদর জিহাদ উনার মাধ্যমে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সম্মান, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সম্ভ্রম, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রভাব-প্রতিপত্তি সমগ্র আরব এবং আযমসহ সমস্ত কায়িনাতে বিস্তার লাভ করেছেন।
ঐতিহাসিক সম্মানিত বদর জিহাদ উনার এই দিনকে يَوْمُ الْفُرْقَانِ (ইয়াওমুল ফুরক্বান) তথা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য-কারীর দিন বলা হয়। কারণ এই দিনে হক্ব-নাহক্ব তথা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং কুফরের পার্থক্য চিহ্নিত হয়েছে। যেমন, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَوْمَ الْفُرْقَانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ
অর্থ: “সে (বদর জিহাদ উনার) দিন ছিলো হক্ব ও বাতিলের মাঝে পার্থক্যের দিন, যে দিন দু’দল পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিলেন”। (পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪১)
রওয়ানা:
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা মুবারক আদেশ পাওয়া মাত্রই তৎক্ষনাত রওয়ানা হয়ে গেলেন। অনেকেই চেয়েছিলেন বাড়িতে গিয়ে বাহন আনতে। কিন্তু সে সময় নেই। মাত্র ০৩ টি ঘোড়া। হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার ১টি ঘোড়া। হযরত মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার ১টি ঘোড়া। হযরত মিরছাদ ইবনে গানাভী রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার ১টি ঘোড়া। ৭০ টি উট, এক একটি উটের উপর ৪ থেকে ৫ জন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনারা একসঙ্গে আরোহন করে ৩১৩ জন উনার মুজাহিদ কাফিলা, কুরাইশ কাফিরদের কথিত বাণিজ্য কাফিলার মুকাবিলা করার জন্য রওয়ানা হয়ে গেলেন। উনারা চিন্তাও করতে পারেননি যে বিরাট কোন যুদ্ধ সংঘটিত হবে। কারণ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনারা যাচ্ছেন কুরাইশদের কথিত বাণিজ্য কাফিলার মুকাবিলা করার জন্য।
পতাকা ছিল ৩টি, ১টি সাদা ২টি কালো:
মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারকে ১টি কালো পতাকা তুলে দিলেন। এ পতাকাটির নাম ছিল উক্বাব (ঈগল)। আর অপর কালো পতাকাটি ছিল হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনাদের, এটি পেলেন হযরত সা’দ ইবনে মুয়া’য রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি। আর সাদা পতাকাটি দেয়া হলো হযরত মুছআব ইবনে উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে। এবং হযরত قَائِسক্বায়িস ইবনে সা’সা’ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে কাফিলার অগ্রভাগে নিযুক্ত করা হয়।
পবিত্র মদীনা শরীফ:
উনার মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে নামাযের ইমামতির জন্য হযরত আব্দুল্লাহ্্ ইবনে উম্মে মাকতূম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে বলা হলো। মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মুসলিম মুজাহিদ কাফিলাকে নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার পথ ধরে মুবারক রওয়ানা হলেন। পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে প্রায় এক মাইল অতিক্রম করার পর মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবূ উত্বা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে বললেন, সমস্ত কাফিলাকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করান। সমস্ত কাফিলা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ালেন। মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অপ্রাপ্ত বয়স্ক কয়েক জন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনাদেরকে আলাদা করে নিয়ে বললেন, আপনারা পবিত্র মদীনা শরীফে ফিরে যান। ওই অপ্রাপ্ত বয়স্ক কয়েক জন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ্্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা, হযরত উসামা ইবনে যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা, হযরত রাফে ইবনে খাদিজ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা, হযরত বারা ইবনে আজীব রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা, হযরত উসাইদ ইবনে হুদাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা, হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা, হযরত যায়িদ ইবনে সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা এবং হযরত উমাইর ইবনে আবি ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা উনারা।
বাদ পড়ে যাওয়ায় কাঁদতে শুরু করলেন হযরত উমাইর ইবনে আবি ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা। মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখন হযরত উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারকে যাওয়ার অনুমতি মুবারক প্রদান করলেন। উনার বয়স মুবারক তখন হয়েছিল ষোলো বছর। সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারকে তিনি শহীদ হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ্্!
সম্মানিত মুসলিম মুজাহিদ কাফিলা চলতে শুরু করলেন এবং পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে পার্বত্য পথ ধরে পর্যায়ক্রমে আক্বীক্ব, যূল- হুলাইফা, ঊলাতুল জাইশ, তুরবান, মালাল, গামীসুল হাম্মাম, পরে সাখীরাতুল ইয়ামাম, ও সাইয়ালা হয়ে ফজ্জুর রাওহা নামক স্থানে পৌঁছেন। সম্মানিত মুসলিম মুজাহিদ কাফিলা উনারা রওয়ানা করে উপস্থিত হলেন, রাওহা নামক স্থানে।
রাওহা: এই রাওহা নামকস্থানে সম্মানিত কাফিলাকে থামালেন এবং অবস্থান মুবারক গ্রহণ করলেন। সম্মানিত মুসলিম কাফিলা উপস্থিত হলেন, মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই রাওহা নামক স্থান থেকে হযরত আবূ লুবাবা ইবনে মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে পবিত্র মদীনা শরীফ তদারকি করার জন্য পবিত্র মদীনা শরীফে ফেরত পাঠান।
মুসলিম কাফিলা চলতে শুরু করলেন পথে পড়লো সাজাজ নামক একটি কূপ এবং কূপকে কেন্দ্র করেই একটি বসতি। মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মুসলিম মুজাহিদ কাফিলাকে থামাতে বললেন এবং অবস্থান মুবারক গ্রহণ করলেন। অতঃপর ইরশাদ মুবারক করলেন, “আমরা এখানেই নামায পড়বো”। আর পান করবো এখানকার কূপের পানি। সম্মানিত মুসলিম মুজাহিদ কাফিলা সকলেই থামলেন। নামায আদায়, পানাহার, খাওয়া-দাওয়া এবং বিশ্রামের পর রওয়ানা হওয়ার পূর্বেই মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরতقَائِس ক্বায়েস ইবনে সা’সা’ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে সম্মানিত মুসলিম মুজাহিদ কাফিলায় সদস্য সংখ্যা গণনা করার জন্য বললেন। মুবারক নির্দেশানুসারে হযরতقَائِس ক্বায়েস ইবনে সা’সা’ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি সম্মানিত মুসলিম মুজাহিদ কাফিলাকে কূপের পাশে দাঁড় করালেন এবং গণনা করে দেখা গেলো মোট সম্মানিত মুসলিম মুজাহিদ কাফিলায় সদস্য সংখ্যা তিনশত তেরো জন (৩১৩জন)। মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ কথা জানানো হলো। মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও খুশী মুবারক প্রকাশ করে ইরশাদ মুবারক করলেন তালুতের সংখ্যাও ছিল তিনশত তেরো জন।
-আল্লামা মুহম্মদ জাহাঙ্গীর হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৯)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৮)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৭ম পর্ব)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৭)
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ফাতহে মক্কা অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় দিবস
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












