ঐতিহাসিক সম্মানিত বদর জিহাদ (পর্ব-৩০)
, ১৫ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৪ ছালিছ, ১৩৯১ শামসী সন , ০৩ আগস্ট, ২০২৩ খ্রি:, ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আইন ও জিহাদ
(সম্মানিত বদর জিহাদ মূলত: খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ্ পাক উনার খাছ গায়েবী মদদের ঘটনা। যারা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ অনুযায়ী চলেন, খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ্ পাক উনার উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করেন, উনারাই গায়েবী মদদের অধিকারী হন। আর যারা সন্ত্রাসী হামলা চালায় ও সন্ত্রাসবাদ লালন করে তারা মুরতাদ ও জাহান্নামী। সন্ত্রাসীদের উপর খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ্ পাক উনার লা’নত। সন্ত্রাসী আর মুজাহিদ কখনও এক নয়। সন্ত্রাসী হামলা আর জিহাদ কখনও এক নয়।)
পূর্ব প্রকাশিতের পর
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِذْ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى الْمَلَائِكَةِ أَنِّي مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا الَّذِينَ آمَنُوا سَأُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ فَاضْرِبُوا فَوْقَ الْأَعْنَاقِ وَاضْرِبُوا مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍ (১২)
অর্থ: “যখন আপনার রব তায়ালা তিনি ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি ওহী মুবারক করেছিলেন, “আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। কাজেই আপনারা মু’মিন উনাদেরকে (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) অবিচল রাখুন, দৃঢ়চিত্ত রাখুন। আর অপরপক্ষে (কুরাইশরা) যারা কুফরি করে, সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, আমি অবশ্যই ঐ সকল কাফিরদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করবো। সুতরাং আপনারা ঐ সকল কাফিরদের ঘাড়ে প্রচ- আঘাত করুন এবং তাদের সর্বাংগে, তাদের শরীরের জোড়ায় জোড়ায়।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-১২)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফে বদর জিহাদে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাহায্যের কথা বলা হয়েছে। প্রথমে উক্ত আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারী” কিতাবের মধ্যে বলা হয়েছে, “ঐতিহাসিক বদর জিহাদে এক হাজার সশস্ত্র ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পাঠিয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, আপনি স্মরণ করুন! যখন আপনার রব তায়ালা যিনি বদর জিহাদে প্রেরিত এক হাজার সশস্ত্র ফেরেশতা উনাদের প্রতি ওহী মুবারক করেছিলেন, “হে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। কাজেই আপনারা মু’মিন, মুসলিম মুজাহিদ উনাদেরকে অর্থাৎ সম্মানিত বদর জিহাদে উপস্থিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে অবিচল রাখুন, দৃঢ়চিত্ত রাখুন।” এখানে বলা হয়েছে, ঐ সকল ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের কথা যাদেরকে সম্মানিত বদর জিহাদে উপস্থিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সাহায্য করার জন্য পাঠানো হয়েছিলো। ‘আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি’ এ কথাটির অর্থ হলো, আমার সাহায্য আপনাদের সাথেই রয়েছেন। উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি আরোও একটি ওহী মুবারক উনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো, “মু’মিনদেরকে অবিচল রাখুন, দৃঢ়চিত্ত রাখুন” এ কথার অর্থ হলো, “হে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম আপনারা সম্মানিত মুসলিম বাহিনী উনাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করুন এবং উনাদের পাশাপাশি অবস্থান করে উনাদের শক্তি সামর্থ বৃদ্ধি করুন আর প্রশান্তিতে ভরে দিন উনাদের অন্তর।”
হযরত মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ঐতিহাসিক বদর জিহাদে কাতার বন্দী হয়ে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং বারবার উচ্চারণ করেছিলেন মুসলিম বাহিনী উনাদের জন্য সুসংবাদ এবং বিজয় অনিবার্য। এভাবে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ঐতিহাসিক বদর জিহাদে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে অবিচল রেখেছেন, দৃঢ়চিত্ত রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ!
অপরদিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ সকল কুরাইশদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করেছিলেন এবং তাদের দৃষ্টিতে মুসলিম বাহিনী উনাদের সংখ্যাধিক্য প্রদর্শন করেছিলেন। ফলে সকল কাফির মুশরিকরা দেখতে পাচ্ছিল মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা দ্বিগুণ। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আবূ নাঈম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বর্ণনা করেন, “আমি আমার সম্মানিত পিতা উনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, “হে আমার সম্মানিত পিতা! আপনি দয়া করে আমাকে বলুন, বদর জিহাদে আপনার মতো অনেক লম্বা এবং শক্তিশালী একজন ব্যক্তিকে হযরত আবুল ইয়াসির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মতো একজন হালকা ব্যক্তি কিভাবে বন্দী করতে পেরেছিলেন? আপনি তো ইচ্ছা করলেই হযরত আবুল ইয়াসির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ধরতে পারতেন। এর জাওয়াবে আমার সম্মানিত আব্বাজান বলেছিলেন, হে পূত্র! তুমি এরকম বলবে না। আমাকে তখন এমন কিছু দেখানো হয়েছিল, যার ফলে আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম।”
“তাফসীরে মাযহারী” কিতাবের সম্মানিত মুছান্নিফ (লেখক) আল্লামা হযরত কাযী মুহম্মদ ছানাউল্লাহ্্ পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি বদর জিহাদে কুরাইশ মুশরিকদের অন্তরে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ভয় প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিলেন। এই ভীতি সৃষ্টি করার কথাই পরবর্তী পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, এভাবে “যারা কুফরী করে, সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, (অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানে না।) আমি অবশ্যই ঐ সকল কাফিরদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করবো।
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারী” কিতাবে উল্লেখ আছে, “কাফির মুশরিকদের ঘাড়ে প্রচ- আঘাত করা এবং তাদের সর্বাংগে, তাদের শরীরের জোড়ায় জোড়ায় আঘাত করার অর্থ হলো, হে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম আপনারা কুরাইশদের মাথায় এবং তাদের হাত ও পায়ের আঙ্গুলের জোড়া গুলোতে আঘাত করুন। উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে এ কথাই প্রমাণিত হয়, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা শুধুমাত্র হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উৎসাহিত করা, অনুপ্রাণিত করা, অবিচল রাখা এবং কুরাইশ কাফির মুশরিকদের ভীতি সৃষ্টি করার দায়িত্বই পালন করেননি, বরং উনারা সরাসরি সম্মানিত জিহাদেও অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং অনেক কাফির মুশরিকদেরকে সরাসরি প্রচ- আঘাত করে হত্যাও করেছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
-আল্লামা মুহম্মদ জাহাঙ্গীর হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












