ঐতিহাসিক সম্মানিত বদর জিহাদ (পর্ব-২৭)
, ০৭ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২৭ ছানী, ১৩৯১ শামসী সন , ২৬ জুলাই, ২০২৩ খ্রি:, ১১ শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
পূর্ব প্রকাশিতের পর
ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং ইবনে আসাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের বর্ণনায় এসেছে, হযরত সুহাইল ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বর্ণনা করেন, “ঐতিহাসিক সম্মানিত বদর জিহাদ উনার সময় আমি দেখেছি; সাদা ও কালো বর্ণের ঘোড়ার উপর বসে অপরিচিত লোকজন উনারা জিহাদ করছেন। ঘোড়াগুলোর পা মাটিতে ছিলো না। বরং ঘোড়াগুলোর পা শূন্যে ছিলো। সুবহানাল্লাহ্ ! অপরিচিত লোকজন উনারা কুরাইশদের কাউকে হত্যা করেছিলেন এবং কাউকে বন্দী করেছিলেন।” সুবহানাল্লাহ্!
ইবনে আসাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে আরো বর্ণিত আছে- হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, “আমি বদর জিহাদ উনার সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ডান দিকে এবং বাম দিকে দুইজন অপরিচিত লোককে দেখলাম। উনারা নির্মম হাতে কুরাইশদের হত্যা করছেন। এরপর তৃতীয় একজন অপরিচিত ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিছনে অবস্থান গ্রহণ করলেন। অতঃপর চতুর্থ আরেকজন অপরিচিত ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে অবস্থান গ্রহণ করলেন।
মুহম্মদ ইবনে উমর আসলামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত আছে, হযরত ইবরাহীম গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তিনি তখনও ঈমান প্রকাশ করেননি) তিনি বলেন, বদর জিহাদে আমি এবং আমার চাচাত ভাই আমরা উভয়েই কুরাইশদের পক্ষে ছিলাম। আমরা একটি কূপের পাশে ছিলাম। সেখান থেকে আমরা লক্ষ্য করলাম, আমাদের সৈন্যের তুলনায় মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা অনেক কম। আমি মনে মনে বললাম এখানেই জিহাদের ময়দানে পরস্পর বিরোধী দুইটি দল জিহাদে লিপ্ত হবেন। আমি মুসলিম বাহিনীর উপর আমার ইচ্ছা পূরণ করবো। এরপর আমি মুসলমান উনাদের বাম প্রান্তে উপস্থিত হলাম। এবার আমি পরিষ্কার বুঝতে পারলাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নেতৃত্ব মুবারকে মুসলমান উনাদের সংখ্যা, কুরাইশদের সেনা সংখ্যার চার ভাগের এক ভাগের মতো হবে। হঠাৎ আমি দেখলাম আমাদের মাথার উপর একখ- মেঘ। সেদিকে তাকাতেই সেনা পরিচালনা করার ও অস্ত্রের ঝনঝনি আওয়াজ শুনতে পেলাম। ঘোড়ার পিঠে উপবিষ্ট একজন লোক উচ্চ আওয়াজে বলে উঠলেন, হাইজূম! সামনে চলো! সামনে চলো! ঘোড়ার পিঠে উপবিষ্ট ওই ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ডান পাশে গিয়ে অবস্থান মুবারক গ্রহণ করলেন। এরপর মেঘ থেকে আরেকটি সশস্ত্র সৈন্যদল বের হয়ে আসলেন। এবং মুসলমান উনাদের সঙ্গে মিলিত হলেন। এখন মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা হয়ে গেলো কুরাইশদের দ্বিগুণ। প্রচ- যুদ্ধ শুরু হলো। আমার চাচাত ভাই নিহত হলো। আমি বেঁচে গেলাম। আমি আর নিরব থাকতে পারলাম না, বরং বিষয়টি মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুদ দারাজাত মুবারকে (ক্বদমে মুবারকে) পেশ করলাম এবং দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেলাম। সুবহানাল্লাহ্্!
এদিকে হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, “যখন তুমুলভাবে জিহাদ শুরু হলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি আমার আড়াল ও আশ্রয় বানিয়েছিলাম। প্রচ- যুদ্ধ হয়েছিল। এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরাইশ বাহিনীর সর্বাপেক্ষা নিকটে ছিলেন।
হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন-
لقد رأيتني يوم بدر و نحن نلوذ بالنبي صلى الله عليه و سلم و هو أقربنا إلى العدو و كان من أشد الناس يومئذ بأسا
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে দেখিয়েছেন, বদর জিহাদের সেই ঐতিহাসিক দিনে আমরা সকলেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে আশ্রয় নিয়েছিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের মধ্যে শত্রুর সর্বাধিক নিকটবর্তী ছিলেন এবং আমাদের সকলের চাইতে সর্বাধিক বড় শক্তিশালী সাহসী মুজাহিদ ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (সীরাত, আশ শিফা জিলদ-১ পৃষ্ঠা- ৯৪)
উপরোক্ত বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হলো যে, জিহাদ মূলত দুই প্রকার- ১. তরবারী দ্বারা। ২. মুনাজাত শরীফ উনার দ্বারা।
এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে জিহাদ মুবারক উনার প্রতি অনুপ্রাণিত করে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاَلّذِي نَفْسُ حَضْرَتْ مُحَمّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ لَا يُقَاتِلُهُمْ الْيَوْمَ رَجُلٌ فَيُقْتَلُ صَابِرًا مُحْتَسِبًا، مُقْبِلًا غَيْرَ مُدْبِرٍ إلّا أَدْخَلَهُ اللّهُ الْجَنّةَ.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যার কুদরতী হাত মুবারকে আমার মহাসম্মানিত নূরুল আমর মুবারক (আমার প্রাণ মুবারক)! রয়েছে সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আজ যে ব্যক্তি কাফিরদের বিরুদ্ধে ছবর বা ধৈর্যের সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারকের উদ্দেশ্যে জিহাদ মুবারক করবেন, সামনে অগ্রসর হবেন এবং কোন অবস্থাতেই পিছু হটবেন না। এমতাবস্থায় যদি তিনি শাহাদাত বরণ করেন তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে সর্বোচ্চ জান্নাত মুবারক দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
-আল্লামা মুহম্মদ জাহাঙ্গীর হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৯ তম পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৮তম পর্ব)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৭তম পর্ব)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












